শহরের সুপরিচিত ‘সোহরাবর্দি অ্যাভিনিউ’ (Suhrawardy Avenue)-এর নাম বদলে ‘গোপাল মুখার্জি রোড’ (Gopal Mukherjee Road) করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কলকাতা পুরসভা। এই পদক্ষেপকে ‘ঐতিহাসিক’ ও ‘অতীতের ভুল সংশোধন’ বলে স্বাগত জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু এই নামকরণের সিদ্ধান্তের নেপথ্যে এক মস্ত বড় ‘তথ্যগত ভুল’ বা নাম-বিভ্রাট রয়েছে বলে অভিযোগ বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষের (Kunal Ghosh)। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, যার অপরাধে নাম বদলানো হচ্ছে, রাস্তাটি আসলে তাঁর নামে ছিলই না!

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এক্স হ্যান্ডেলের পোস্টের জবাবে ক্ষুরধার আক্রমণ শানিয়ে ফেসবুকে সরব হন কুণাল ঘোষ। মুখ্যমন্ত্রীকে তীব্র খোঁচা দিয়ে তিনি লেখেন, “মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী, আপনার পোস্ট থেকে দেখলাম কলকাতার একটি রাস্তার নাম পরিবর্তন হয়েছে, যাকে আপনি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত বলেছেন। সুরাবর্দি রোড এখন পুরসভা গোপাল মুখার্জি রোড হল। গোপালবাবুর নাম নিয়ে একটি কথাও বলছি না। কিন্তু বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে তথ্যপরীক্ষা দরকার। আপনি লিখেছেন সুরাবর্দি প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহারে অনেকের ক্ষতি করেছেন। সম্ভবত আপনি ‘কলকাতা কিলিং’-এর কথা বলতে চেয়েছেন। এঁর নাম হুসেন সাহিদ সুরাবর্দি।

কিন্তু বাস্তব হল, এই বিতর্কিত সুরাবর্দির নামে কিন্তু রাস্তা ছিল না। রাস্তা তাঁর কাকার নামে, তিনি স্যর ডাঃ হাসান সুরাবর্দি। তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, চিকিৎসক, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, পূর্ব রেলের মুখ্য স্বাস্থ্য অফিসার, সামরিক বাহিনীর চিকিৎসক। পরে বাংলার লেজিসলেটিভ কাউন্সিলের সদস্য হন। তিনি মূলত কৃতী শিক্ষাবিদ বলে পরিচিত। রাস্তা তাঁরই নামে। তাঁর ভাইপো হুসেন সুরাবর্দি প্রশাসনিক প্রধান হয়ে বিতর্কিত গণহত্যার সঙ্গে জড়ান। রাস্তা তাঁর নামে ছিল না। দুজনের আলাদা ছবিও দিলাম। মুখ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ, পুরসভা আবার তথ্যপরীক্ষা করুক। নামবিভ্রাটের কারণে একজন বিতর্কিতের বদলে তাঁর কাকা বিশিষ্ট আরেকজনের নাম বাদ দেওয়া কি যুক্তিযুক্ত? পদবি এক বা পরিবার এক হতে পারে, কিন্তু ভাইপোর শাস্তি কাকার উপর হতে পারে না। তথ্য আবার পরীক্ষা হোক”।

আরও পড়ুন- বিমানবন্দরে অস্ত্র হাতে ঢোকা ব্যক্তি কে, হামলার নেপথ্যে কারা? ছবি পোস্ট করে ‘প্রমাণ’ অভিষেকের

_

_

_

_
_
_
_
