ওয়াই চ্যানেলে তৃণমূল সভানেত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়ের (Mamata Benarjee) ডাকা ধর্না কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়লেন বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। সঙ্গে সঙ্গে কুণালের মাথা কোলের উপর দিয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে দেন ‘মমতাদি’। দীর্ঘক্ষণ তৃণমূল বিধায়কের মাথার কাছে দাঁড়িয়ে হাওয়া করতে দেখা যায় তাঁকে। দিনভর কালীঘাটে নেত্রীর বাড়ি, বিধানসভা, সাংবাদিক বৈঠক, ধর্না কর্মসূচিতে ভাষণ দেওয়ার পরে অসুস্থ হয়ে পড়েন কুণাল। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, প্রবল গরমের কারণেই এই ঘটনা। নিজের গাড়িতেই বাড়ির দিকে রওনা দেন কুণাল ঘোষ। পরে বাড়ি গিয়ে দলীয় বিধায়ককে দেখে আসেন তৃণমূল সভানেত্রী। 

বিধানসভার নির্বাচনের ফলের পরে অনেকেই ছেড়েছেন তৃণমূল সভানেত্রীর হাত। এমনকী, জয়ী বিধায়করাও দলনেত্রীর বাড়ির বৈঠক এড়িয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু সুসময়-দুঃসময় পাশে রয়েছেন কুণাল ঘোষ। দলের একাধিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বারবার সরব হলেও কখনই তৃণমূল ছেড়ে যাননি তিনি। এখন কুণাল বেলেঘাটার বিধায়ক। 

এদিন সকালেই কালীঘাটে গিয়েছিলেন বেলেঘাটার বিধায়ক। ওয়াই চ্যানেলের কর্মসূচি নিয়ে বৈঠক করেন। সেখান থেকে যান রানি রাসমণি রোডে। এর পরে বিধানসভায় যান প্রধান বিরোধীদল হিসেবে চিঠি জমা দিতে। বারবার সাংবাদিক বৈঠক করেন। সেখান থেকে যান ওয়াই চ্যানেলে তৃণমূলে ধর্নাস্থলে।

সেখানে গিয়ে বক্তব্যও রাখেন কুণাল (Kunal Ghosh)। দলবিরোধী মন্তব্য করা তৃণমূল নেতাদের তীব্র আক্রমণ করে কুণাল বলেন, দল যদি এত খারাপই হবে, তাহলে কেন তৃণমূল টিকিটে প্রার্থী হয়েছিলেন! বেলেঘাটার বিধায়কের কথায়, আমরা সবাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি ও তৃণমূলের প্রতীকে জিতে এসেছি। দম থাকলে নির্দল হয়ে জিতে দেখাও।

এর পরেই আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়েন কুণাল। বিষয়টা বুঝতে পেরেই তাঁকে শুইয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন মমতা। হাতের কাছে যা ছিল, তা দিয়ে তা দিয়েই হাওয়া করেন। দীর্ঘদিনের সহযোদ্ধার মাথা নিজের কোলে রেখে হাত বুলিয়েও দেন। খানিকটা সুস্থ বোধ করার পরে নিজের গাড়িতেই বাড়ির দিকে রওনা দেন কুণাল। তীব্র গরমে দিনভর দৌড়ঝাঁপে ফলেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। পরে বাড়ি গিয়ে দলীয় বিধায়ককে দেখে আসেন তৃণমূল সভানেত্রী।

–

–

–
–
–
