১৫ জুন শেষ হচ্ছে স্কুলের গরমের ছুটি। সবাই স্কুলে ফিরলেও আর ফিরবে না আট বছরের আয়ুষকুমার নাথ (Ayush Kumar Nath)। স্কুলের গাফিলতির অভিযোগে গত ২৪ মে নিভে গেছে তৃতীয় শ্রেণির এই ছাত্রটির প্রাণ। মঙ্গলবার, ১০ দিনে ক্ষৌরকর্ম সারলেন তাঁরা। বড়ছেলের পারলৌকিক কাজের পর আয়ুষের বাবা আশিস নাথ জানালেন, ওই বেসরকারি স্কুলের প্রতি কোনও ভরসা তাঁর আর নেই তাই ছোটছেলে আবেশও আর ফিরবে না ওই স্কুলে। আরও পড়ুন: বকেয়া DA মেটাতে বড় পদক্ষেপ নবান্নের! জারি নির্দেশিকা

পরিবারের অভিযোগ, গত ১৩ মে সকাল পৌনে আটটা নাগাদ বাঁশদ্রোণীর ওই বেসরকারি স্কুলে ঢোকে আয়ুষ। ক্লাসের মধ্যেই সে অসুস্থ বোধ করায় শ্রেণিশিক্ষিকাকে জানায়। কিন্তু অভিযোগ, শিক্ষিকা তাকে বাড়ি পাঠানোর কোনো ব্যবস্থা না করে উল্টে মাথা নিচু করে বেঞ্চে বসে থাকার নির্দেশ দেন। এভাবেই দীর্ঘ চার ঘণ্টা তীব্র অসুস্থতা নিয়ে বসে থাকে আট বছরের শিশুটি। ছুটির পর সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় অচৈতন্য হয়ে পড়ে গিয়ে মাথায় গুরুতর চোট পায় সে। প্রথমে স্থানীয় হাসপাতাল ও পরে এসএসকেএম-এ ভর্তি করা হলেও বাঁচানো যায়নি আয়ুষকে। টানা ১০ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে গত ২৪ মে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে সে। বাবার অভিযোগ, “অসুস্থ হওয়ার সাথে সাথে যদি আমাদের খবর দেওয়া হতো, তবে আজ ছেলেকে হারাতে হতো না।”

ঘটনার বিচার চেয়ে গত ২৮ মে দিনভর রাস্তা অবরোধ ও বিক্ষোভ দেখান ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা। অভিযোগ, ওইদিন মাঝরাতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে বিক্ষোভকারীদের হটিয়ে দেয় এবং বেশ কয়েকজন অভিভাবককে গ্রেফতার করে। এই প্রসঙ্গে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে আশিসবাবু বলেন, “পুলিশ তো আন্দোলনকারী অভিভাবকদের গ্রেফতার আর বিক্ষোভের তদন্ত নিয়েই ব্যস্ত! আমার ছেলের মৃত্যুর আসল তদন্ত আদৌ কি হচ্ছে? স্কুল কর্তৃপক্ষ স্থানীয় থানা ও লালবাজারে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করছে।”

যদিও পুলিশের দাবি, লালবাজারের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের তত্ত্বাবধানে এই তদন্ত চলছে। ইতিমধ্যেই নেতাজীনগর থানার বর্তমান তদন্তকারী অফিসারকে বদলে একজন অভিজ্ঞ আধিকারিককে এই মামলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বুধবার পারলৌকিক কাজ শেষ করার পর, সন্তানের মৃত্যুর জন্য দায়ী স্কুল কর্তৃপক্ষের কঠোর শাস্তির দাবিতে আইনি লড়াই চালিয়ে যাবে বলে জানিয়েছে পরিবার।

–

–

–

–
–
–
