মধ্যরাতে ধুন্ধুমার যাদবপুরে, হকার উচ্ছেদে নামল বুলডোজার! আটক সৃজন সহ ২ 

Date:

Share post:

শেষমেশ জল্পনাই সত্যি হলো। তীব্র প্রতিরোধ, বাম-কংগ্রেসের স্লোগান, পুলিশের লাঠিচার্জ এবং প্রথম সারির নেতার গ্রেফতারির মধ্য দিয়ে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিল যাদবপুর। রবিবার মধ্যরাতে বিশাল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর ঘেরাটোপে যাদবপুর স্টেশন সংলগ্ন ২১২ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় চলল রেলের মেগা উচ্ছেদ অভিযান। ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো একের পর এক অবৈধ দোকান, গুমটি ও জবরদখল হয়ে থাকা নির্মাণ। এই ঘটনায় এসএফআই-এর রাজ্য সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য-সহ দু’জনকে আটক করেছে পুলিশ। জখম হয়েছেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন পড়ুয়া।

ঘটনার সূত্রপাত গত ২ জুন। যাদবপুর স্টেশনের বাইরে রেলের বুলডোজার দেখা যেতেই হকার উচ্ছেদের আশঙ্কায় সরব হন স্থানীয় বাম নেতৃত্ব। পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ করা চলবে না— এই দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়। রবিবার সন্ধ্যা থেকেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে শুরু করে। ২১২ বাসস্ট্যান্ড লাগোয়া এলাকায় বাবাসাহেব আম্বেদকরের ছবি ও সংবিধান হাতে নিয়ে ‘বুলডোজার হটাও’ স্লোগান দিতে দিতে জমায়েত করেন সিপিএম, কংগ্রেসের নেতা-কর্মী ও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা।

রাত বাড়তেই রণকৌশল বদল করে প্রশাসন। গোটা এলাকা মুড়ে ফেলা হয় আরপিএফ, পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরেট নিরাপত্তায়। উঁচু ব্যারিকেড দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয় চারপাশের সমস্ত রাস্তা। পুলিশের তরফ থেকে মাইকিং করে বারবার জমায়েত হটে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও আন্দোলনকারীরা পিছু হটেননি, উল্টে অনেকেই রাস্তায় বসে পড়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। এর পরেই আসরে নামে পুলিশ। বিক্ষোভকারীদের হটাতে ব্যাপক লাঠিচার্জ করা হয় বলে অভিযোগ। পুলিশের লাঠির ঘায়ে মাথা ফেটে যায় একাধিক পড়ুয়ার। তীব্র শোরগোলের মধ্যেই সৃজন ভট্টাচার্যকে টেনেহিঁচড়ে প্রিজন ভ্যানে তোলে পুলিশ। ভ্যান থেকে সৃজন চিৎকার করে বলতে থাকেন, রেল আদালতকে এড়িয়ে সম্পূর্ণ বেআইনি কাজ করছে। আমাদের অন্যায়ভাবে আটক করা হলো।

নেতৃত্বকে সরিয়ে দেওয়ার পরেই শুরু হয় আসল অভিযান। ঘড়ির কাঁটায় তখন মধ্যরাত। তীব্র আলো জ্বালিয়ে একের পর এক অবৈধ নির্মাণ ভাঙতে ভাঙতে এগিয়ে যায় রেলের বুলডোজ়ার। রুজি-রুটির শেষ আশ্রয়টুকু চোখের সামনে মাটিতে মিশে যেতে দেখেন বহু ব্যবসায়ী। মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যেই পুরো এলাকা ফাঁকা করে দেয় রেল কর্তৃপক্ষ।

রেলের এই আচমকা পদক্ষেপে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়েছে উচ্ছেদ হওয়া হকার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে। পুনর্বাসন ছাড়া রাতারাতি এমন উচ্ছেদে তাঁদের সংসার কী করে চলবে, সেই প্রশ্ন তুলছেন ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ। যদিও রেল ও প্রশাসনের অন্য অংশের দাবি, সরকারি জমি জবরদখল করে রাখা আইনত অপরাধ, তাই এই পদক্ষেপ সম্পূর্ণ বৈধ। তবে উচ্ছেদ সম্পন্ন হলেও সোমবার সকাল থেকে থমথমে যাদবপুর স্টেশন চত্বর। নতুন করে অশান্তি এড়াতে এলাকায় এখনও মোতায়েন রয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী।

আরও পড়ুন – মাস পেরোতেই আবার কাঁপল শিলিগুড়ি, ভূকম্পে কাঁপল কলকাতাও 

_

 

_

 

_

 

_

 

_

spot_img

Related articles

জনতার দরবার থেকে আয়ুষ্মান ভারত: সোমে কর্মসূচি মুখ্যমন্ত্রীর

প্রতি সপ্তাহের মত চলতি সপ্তাহের সোমবারও জনতার দরবারে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। স্থানীয় সমস্যা থেকে দীর্ঘদিনের ফেলে রাখা অভিযোগের...

আজ দিল্লিতে বৈঠকে ইন্ডিয়া জোট: আলোচনায় নাগরিক থেকে জাতীয় স্বার্থ

বাংলায় বিজেপি সরকার গঠন হওয়ার পর প্রথমবার বৈঠকে বসছে ইন্ডিয়া জোট। সোমবার তৃণমূলের তরফে সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata...

মাস পেরোতেই আবার কাঁপল শিলিগুড়ি, ভূকম্পে কাঁপল কলকাতাও 

বজ্রবিদ্যুৎ-সহ মুষলধারে বৃষ্টি আর মেঘের গর্জনে এমনিতেই থমথমে ছিল উত্তরবঙ্গের রাতের পরিবেশ। তার মধ্যেই প্রায় দীর্ঘ ৪০ সেকেন্ড...

লক্ষ্য ‘৮০ শতাংশ হিন্দু’: বাছবিচার নয়, যে কেউ আসতে পারেন! বনশলের বার্তায় কাদের ইঙ্গিত? 

‘ভালো তৃণমূল’ বলতে ঠিক কী বোঝায়, তা নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই রাজ্য রাজনীতিতে জোর চর্চা চলছে। বিজেপির রাজ্য...