যাবতীয় জল্পনার অবসান ঘটিয়ে রবিবার রেবেল তৃণমূলদের সঙ্গে ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে দেখা গেল সুদীপ বন্দ্যোপাধ্য়ায়কে। তৃণমূলের সঙ্গ ছেড়ে অন্য দলের সঙ্গে যাওয়ার জন্য স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দিতেও যান তিনি। শেষ পর্যন্ত দিল্লি থেকেই এই সিদ্ধান্ত নিয়ে মুখ খুললেন তিনি। একদিকে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে যোগাযোগ, অন্যদিকে পারিপার্শ্বিক চাপের কাছেই মাথা নত করে যে এই সিদ্ধান্ত, তা স্পষ্ট জানালেন সুদীপ। স্বাভাবিকভাবেই এরপর তাঁকে বিশ্বাসঘাতক দাবি করতেও কসুর করেননি বিধায়ক কুণাল ঘোষ।

দিল্লিতে (Delhi) কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের (Minister Bhupender Yadav) সঙ্গে বৈঠক, তার আগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের (Home Minister Amit Shah) সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা এবং বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দেওয়ার জল্পনা। সব মিলিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই রাজনৈতিক মহলে চর্চার কেন্দ্রে রয়েছেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। সুদীপ নিজেই জানিয়েছেন, শুভেন্দু বলেছিল, ও আসতে পারছে না, আমাকে সই করে দিতে। আমি বলেছিলাম, তুমি আসলেই সই করব। আজ রাতে দেখা হতে পারে।” শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে সই করার এই ইচ্ছাপ্রকাশ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। তার উপর অমিত শাহের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ বৈঠক নিয়েও জল্পনা তৈরি হয়েছে। সুদীপের কথায়, সাত মিনিটের জন্য নির্ধারিত সেই বৈঠক শেষ পর্যন্ত প্রায় সত্তর মিনিট ধরে চলেছিল।

এই সময় নিজের অবস্থান নিয়ে কার্যত সাফাই দিয়ে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “অধিকাংশ সাংসদ-বিধায়কই চাইছেন দল চলুক, তাঁদের উদ্যোগ। তাঁরা চাইছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধান উপদেষ্টা হোন, দলনেত্রীর মতো ভূমিকা নিয়ে থাকুন। ওঁদের আবেদনটা আমাকে স্পর্শ করেছে। তার জন্য আমি সিদ্ধান্ত নিলাম যে, এদের সঙ্গে থাকা যেতে পারে।”

তিনি বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দেওয়ার পরে তাঁর সঙ্গে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্ব নিয়ে দ্বন্দ্বের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে সেই দ্বন্দ্বের থেকেও যে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্য়ায় পারিপার্শ্বিক চাপ সামলাতেই বেশি মনোনিবেশ করেছেন, তা তাঁর কথায় স্পষ্ট। এদিন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় স্বীকার করেন, আমার খুব একটা চাপ নেই। এতে কাকলি প্রথম থেকেই বড় উদ্যোগ নিয়েছে। চর্তুদিক থেকে আমার কাছে যেভাবে প্রেশার আর অনুরোধ আসছে, তাতে আমি খুবই বেসামাল।”

সুদীপের এই বক্তব্য সামনে আসার পরই পাল্টা আক্রমণ করেছেন তৃণমূল মুখপাত্র বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় উত্তর কলকাতার সংগঠনকে দুর্বল করেছেন এবং অন্যায়ের কারণে বহু সক্রিয় তৃণমূল কর্মীকে দল ছাড়তে বাধ্য করেছেন। কুণালের কথায়, আজ তিনি নিজেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে দিল্লিতে বিজেপি নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন।

আরও পড়ুন – বিশ্বকাপে পপ তারকা ও কানাডার প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর অন্তরঙ্গ মুহূর্ত

_

_
_
_
_
