কানাডার প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো এবং পপ গায়িকা কেটি পেরিকে একসঙ্গে হাত ধরাধরি করে দেখা গেল ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ এর ম্যাচে। এই নিয়েই এখন নেটদুনিয়ায় জল্পনা তুঙ্গে। লস অ্যাঞ্জেলেসের স্টেডিয়ামে তাঁদের উপস্থিতি নিঃসন্দেহে একটা অন্য আমেজ নিয়ে এসেছে। এরপরেই ট্রুডো নিজের দেশের উদ্বোধনী ম্যাচে না গিয়ে অন্য ম্যাচে উপস্থিত থাকায় প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে। তবে সব বিতর্ককে পেছনে ফেলে সামনে আসে এক ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি।

ম্যাচ চলাকালীন ট্রুডো ও কেটি পেরিকে স্বচ্ছন্দ ভঙ্গিতে, হাত ধরাধরি করে খেলা উপভোগ করতে দেখা গিয়েছে বেশ কয়েকবার। এরপরেই সামাজিক মাধ্যমে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। এটিকে ‘পাওয়ার কাপল’ মুহূর্ত বলেও আখ্যা দেয় নেটদুনিয়া। যদিও ট্রুডো নিজেই জানিয়ে দেন, এটি কোনও রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক বার্তা নয়। তিনি সেখানে গিয়েছিলেন কেটি পেরির পাশে থাকতে। চলতি বছর ম্যাচের আগে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পারফর্ম করেছিলেন কেটি পেরি। এরপরেই জল্পনার মাঝে সামাজিক মাধ্যমে ট্রুডো লেখেন, “কখনও কখনও সহায়ক প্রেমিকের দায়িত্ব পালন করতেই হয়।”

প্রসঙ্গত, জাস্টিন ট্রুডোর সাথে পেরির সম্পর্ক নিয়ে জল্পনা নতুন নয়। গত বছর জুলাই মাসে এই চর্চিত জুটিকে প্রথমবার একসঙ্গে দেখা গিয়েছিল একটি কুকুর নিয়ে হাঁটার সময় এবং এরপর মন্ট্রিয়লের ‘লে ভায়োলন’ (Le Violon) রেস্তোরাঁয় একসঙ্গে খেতে গিয়েছিলেন তাঁরা। এর ঠিক এক মাস আগেই পেরি তাঁর প্রাক্তন বাগদত্তা অরল্যান্ডো ব্লুমের সঙ্গে বিচ্ছেদের ঘোষণা দিয়েছিলেন; তাঁদের ডেইজি ডভ নামে ৫ বছর বয়সী এক কন্যাসন্তান রয়েছে। অন্যদিকে, ১৮ বছরের দাম্পত্য জীবনের পর ২০২৩ সালে ট্রুডো তাঁর স্ত্রী সোফি গ্রেগোয়ারের সঙ্গে আলাদা হয়ে যান; তাঁদের তিন সন্তান রয়েছে। জুলাই মাসে একসঙ্গে বাইরে সময় কাটানোর দুদিন পর, মন্ট্রিয়লের বেল সেন্টারে কেটি পেরির ‘লাইফটাইমস ট্যুর’-এ ট্রুডোকে দেখা যায়। তাঁদের একসঙ্গে বাইরে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রেমের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ার মাঝে জানা যায় যে তাঁদের মধ্যে সেই সময়ে ‘তাৎক্ষণিক এক গভীর সংযোগ’ গড়ে উঠেছিল।

তবে এই বছর ৮ই জুন ট্রাইবেকা উৎসবে কেটি পেরি এবং কানাডার প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো জুটি হিসেবে প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে রেড কার্পেটে উপস্থিত হন। উপলক্ষটি ছিল পেরির কনসার্ট-ভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘কেটি পেরি: দ্য লাইফটাইমস ট্যুর – লাইভ ফ্রম প্যারিস’-এর প্রিমিয়ার। সেখানেই পেরি উপস্থিত দর্শকদের জানান যে তিনি ট্রুডোকে তাঁর ‘জীবনের ভালোবাসা’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, জীবনের অন্যতম কঠিন একটি বছরের পর ট্রুডোই তাঁকে মানসিক স্থিরতা ও নির্ভরতার অনুভূতি দিয়েছেন।

আরও পড়ুন – আইন-বিরোধী জোট: অভিষেকের চিঠি নিয়ে স্পিকারের কাছে সাগরিকা, কীর্তি

_

_

_
_
_
_
