Monday, June 15, 2026

বদলে গেল ফেসবুক প্রোফাইল! রাতারাতি রাজ্যের ‘সবথেকে বড় দলে’ যোগদানের হিড়িক

Date:

Share post:

লোগো এক। দলের নাম এক। রাতারাতি নতুন ফেসবুক প্রোফাইল খুলে গেল এনসিপিআই-এর। আর সেখানেই পুরোনো সব রেকর্ড প্রায় মুছে নতুন করে সাজানো হল প্রোফাইল। নতুন সদস্যদের সাদরে অভ্যর্থনা জানানো হল সারাদিন ধরে। পুরোনো প্রোফাইলে (Facebook profile) যেখনে রবিবার পর্যন্ত দুশোটাও ফলোয়ার ছিল না, সেখানে সোমবারের নতুন প্রোফাইলে ফলোয়ার (Follower) ছুঁলো ৪ হাজার। রাতারাতি নতুন আত্মপ্রকাশ করা দলের ফলোয়ার বাড়ল। ফলোয়ারের জোরেই কী নিজেদের বাংলার সবথেকে বড় দল বলার দাবি জানালো ন্যাশানালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া (NCPI)? আদতে অঙ্কের হিসাবেও যে তারা রাতারাতি বাংলার বড় দল হওয়ার পথে, তাও বুঝিয়ে দিলো তাদের প্রোফাইল।

হাওড়ার সাঁকরাইলে যে ন্যাশানালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া বলে একটি রাজনৈতিক দল মাথাচাড়া দিয়েছিল ২০২৩ সালে, তার খোঁজ হাওড়ার কত মানুষ রাখতেন রবিবারের আগে পর্যন্ত, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। রাতারাতি সেই দলটিতেই এখন রাজ্যে সবথেকে বেশি সাংসদ। অবাক লাগলেও এটাই সত্যি। তৃণমূল কংগ্রেসের ২০ সাংসদ এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়ার পর এনসিপিআই-এর সাংসদ সংখ্যা ২০। বিজেপির সাংসদ ১২, তৃণমূলের ৮ ও কংগ্রেসের ১ জন সাংসদ। আর তার জোরেই এনসিপিআই-এর দাবি, তারা রাজ্যের সবথেকে বড় দল।

শুধুমাত্র রাজ্যই নয়, দেশের অন্যতম বড় দল হিসাবে রাতারাতি উঠে এলো এনসিপিআই। বিজেপি ছাড়া কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি ও ডিএমকে-র (DMK) পরে সব থেকে বেশি সাংসদ এখন তাদের। অর্থাৎ দেশের চতুর্থ বৃহৎ দল। এমনকি বিজেপির এনডিএ (NDA) জোটে সবথেকে বেশি সাংসদ এখন তাদের হাতে। তৃণমূল সাংসদরা তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে যাওয়ায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যত না ক্ষতি হল, চন্দ্রবাবু নাইডু (Chandrababu Naidu) বা নীতীশ কুমারের (Nitish Kumar) তার থেকেও বেশি হতে পারে, এমনটাই মত রাজনৈতিক মহলে। এখনই এনসিপিআই থেকে মন্ত্রিত্ব নিয়েও শুরু হয়েছে জল্পনা।

যদিও এত কিছুর পরেও এই দলটি নিয়ে সংশয় এখনও কাটছে না। দলের পুরোনো প্রোফাইলে যাঁদের প্রেসিডেন্ট বা সেক্রেটারি দেখানো হয়েছে তাঁরাই অস্বীকার করছেন তৃণমূল সাংসদদের দলে অন্তর্ভুক্তির কথা। পুরোনো প্রোফাইলে সভাপতি দেখানো শিউলি কুণ্ডু দাবি করছেন তিনি আর সভাপতি নেই। এমনকি নিজেকে সম্পাদক দাবি করা শান্তনু দে দাবি করছেন তিনি তৃণমূল সাংসদের যোগদানের কথা জানতেন না।

আরও পড়ুন : NCPI-র শিকড় বাংলাতেই: সভাপতির সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর ছবি, কাকলিদের যোগদান নিয়ে অন্ধকারে দলের প্রতিষ্ঠাতা!

আবার প্রাক্তন সভাপতি শিউলির দাবি, শান্তনু দে আদৌ দলের প্রতিষ্ঠাতা বা সম্পাদক নন। তাঁকে শুধুই ত্রিপুরার ২০২৩ বিধানসভা নির্বাচনের সময়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কার্যত দলের অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন চিহ্ন থাকলেও তার সাংসদ সংখ্যা ও তাতে তৃণমূলের বর্ষীয়ান সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে পুরোনো সাংসদ আবু তাহের খানের মতো নেতাদের যুক্ত হওয়ার ঘটনায় নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।

Related articles

মোদির সফরের আগে কলকাতাকে সাজাতে কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন প্যাকেজ! ইঙ্গিত মুখ্যমন্ত্রীর 

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi) কলকাতা সফর ও আন্তর্জাতিক যোগ দিবসকে সামনে রেখে শহরজুড়ে (Kolkata) শুরু হল 'স্বচ্ছতা...

দিশানীর জীবনে নতুন দিশা! বাগদান সারলেন মিঠুন-কন্যা

চক্রবর্তী পরিবারে ফের বাজতে চলেছে বিয়ের সানাই। মিঠুন চক্রবর্তীর (Mithun Chakraborty) বড় ছেলে মহাক্ষয়ের বিয়ের কয়েক বছর পরে...

যোগ দিবসকে ‘উৎসব’-এ পরিণত করার ডাক মুখ্যমন্ত্রীর

আন্তর্জাতিক যোগ দিবসকে ঘিরে রাজ্যজুড়ে জনঅংশগ্রহণের ডাক দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Shuvendu Adhikari)। কলকাতা পুরসভার 'স্বচ্ছতা সে স্বাগত'...

মণিপুরে হাসপাতালের বাইরে পুলিশের কাঁদানে গ্যাস, লাঠিচার্জ

ফের উত্তপ্ত মণিপুর। লেইলন ভাইফেই গ্রামের কুকি সম্প্রদায়ের তিন আহত ব্যক্তিকে ভর্তি করায় মণিপুরের রাজধানী ইম্ফলের উপকণ্ঠে ল্যাম্পহেলপাটের...