আন্তর্জাতিক যোগ দিবসকে ঘিরে রাজ্যজুড়ে জনঅংশগ্রহণের ডাক দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Shuvendu Adhikari)। কলকাতা পুরসভার ‘স্বচ্ছতা সে স্বাগত’ কর্মসূচির মঞ্চ থেকে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এ বছরের যোগ দিবসকে শুধু একটি সরকারি অনুষ্ঠান হিসেবে নয়, বরং ‘উৎসব’ হিসেবে পালন করতে চায় রাজ্য সরকার। সেই লক্ষ্যেই ২১ জুন রেড রোডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi) উপস্থিতিতে আয়োজিত মেগা অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন জানান তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের ১৮১টি দেশ আন্তর্জাতিক যোগ দিবসকে স্বীকৃতি দিয়েছে। কিন্তু অতীতে পশ্চিমবঙ্গে যোগ দিবসকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকার রাজনৈতিক কারণে এই কর্মসূচি থেকে দূরত্ব বজায় রেখেছিল। এবার সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটাতে চায় নতুন সরকার। শুভেন্দুর কথায়, “যোগ দিবসের সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই। এটি স্বাস্থ্য, শৃঙ্খলা এবং সুস্থ জীবনযাপনের বিষয়। তাই এবার গোটা বাংলায় যোগ দিবসকে জনআন্দোলনের রূপ দিতে হবে।” আরও পড়ুন: বসিরহাটে সিভিক ভলান্টিয়ারকে মারধর! কাঠগড়ায় বিজেপির নেতা

রেড রোডের মূল অনুষ্ঠানের পাশাপাশি রাজ্যের প্রতিটি পাড়া, মহল্লা, পার্ক, স্কুল এবং মন্দির সংলগ্ন এলাকায় যোগাভ্যাসের আয়োজন করার আহ্বান জানান তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, “প্রতি মহল্লায়, প্রতি এলাকায়, প্রতি পার্কে যোগা হোক। একে উৎসবে পরিণত করুন। যোগা-পূজা করে দিন।” তিনি জানান, কলকাতার অনুষ্ঠানে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি উপস্থিত থাকবেন। ভোর থেকেই কর্মসূচি শুরু হবে এবং বিপুল সংখ্যক মানুষ সেখানে অংশ নেবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

যোগ দিবস উপলক্ষে ১৫ জুন থেকে শুরু হওয়া ‘স্বচ্ছতা সে স্বাগত’ কর্মসূচির সঙ্গেও যোগ দিবসের প্রস্তুতিকে যুক্ত করেছে সরকার। মুখ্যমন্ত্রীর মতে, একটি পরিচ্ছন্ন ও সুস্থ নগরজীবনের সঙ্গে যোগচর্চার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। তাই প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতেও বেছে নেওয়া হয়েছে স্বচ্ছতা ও জনসচেতনতার বার্তা। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, প্রধানমন্ত্রী মোদির উপস্থিতিতে কলকাতায় আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের আয়োজনকে সরকার বড় জনসংযোগ কর্মসূচি হিসেবেও দেখছে। সেই কারণেই শুধু রেড রোডের মূল অনুষ্ঠান নয়, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে একযোগে যোগাভ্যাসের মাধ্যমে বৃহত্তর জনঅংশগ্রহণ নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। সব মিলিয়ে, ২১ জুনের যোগ দিবসকে ঘিরে প্রশাসনিক প্রস্তুতির পাশাপাশি রাজনৈতিক ও সামাজিক বার্তাও স্পষ্ট করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর আহ্বান, “সবাই আসুন, অংশগ্রহণ করুন। যোগ দিবসকে বাংলার উৎসবে পরিণত করুন।”

–

–

–

–
–
–
