এদের হাতেই নাকি সুরক্ষিত আরজি কর (RG Kar Medical College and Hospital)! আদালতের নির্দেশে হাসপাতালে নারী সুরক্ষার জন্য আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে বসেছিল কেন্দ্রীয় বাহিনীর (Central Force) শিবির। কিন্তু কোথায় নিরাপত্তা? আরজি করে নারী সুরক্ষা যাদের হাতে, তারাই এবার ভক্ষকের ভূমিকায়। রোগীর মেয়েকে ফুঁসলিয়ে হোটেলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠল আরজি করে রক্ষক সিআইএসএফ জওয়ানের বিরুদ্ধে। এবার কী বলবেন ধর্ষকদের আশ্রয়দাতা সদ্য বিজেপির বিধায়ক হওয়া আরজি করের নির্যাতিতার মা? এবার যে তরুণী যৌন নির্যাতনে শিকার হলেন, তিনি সুবিচার পাবেন তো? ন্যায়বিচার দিতে পারবেন তো এই নির্যাতিতাকে?

আজও আরজি কর-কাণ্ডে নৃশংস ধর্ষণ-খুনের কথা সাধারণ মানুষের মন থেকে মুছে যায়নি। ন্যায় বিচারের দাবিতে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু রাজ্য পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়া সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রাই ছাড়া কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি সিবিআই। তারপর থেকেই সুরক্ষা দিতে হাসপাতালে রয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ক্যাম্প। এরই মধ্যে রাজ্যে পালাবদল হয়েছে। কিন্তু আরজি করে নারী নিরাপত্তা আছে সেই তিমিরেই। কেন্দ্রীয় বাহিনীর ক্যাম্পে থাকা এক জওয়ান হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে আসা রোগীর মেয়েকে ধর্ষণ করল, তারপরও নীরব একশ্রেণির সংবাদমাধ্যম। কোথায় বুদ্ধিজীবীরা? কোনও আন্দোলন নেই, কেউ রাত জাগেনি। বিচারের বাণী সেই নীরবে নিভৃতে কেঁদে চলেছে। অভিযোগ, এই ধর্ষক আবার শুধু ধর্ষণেই ক্ষান্ত হয়নি। মোবাইলে ধর্ষণের ভিডিও তুলে রীতিমতো ব্ল্যাকমেল করে গিয়েছে নির্যাতিতা তরুণীকে। তাই একাধিকবার ওই তরুণীকে লালসার শিকার হতে হয় জওয়ানের। শেষমেশ নির্যাতিতার অভিযোগের ভিত্তিতে বিধাননগর কমিশনারেট জওয়ানকে গ্রেফতার করতে বাধ্য হয়। কিন্তু রাতজাগা আন্দোলনের সদস্যরা আশ্চর্যজনকভাবে নীরব। কারও মুখে এই নিয়ে কোনও কথা নেই। আরজি কর-কাণ্ডের সময়েও পুলিশ ব্যবস্থা নিয়েছিল, অভিযুক্ত গ্রেফতার হয়েছিল, এমনকী দোষীসাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন সাজাও দেওয়া হয়েছিল, তারপরেও আন্দোলন চলেছে, তাহলে এখন কেন সবাই নীরব?

পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত সিআইএসএফ (CISF) জওয়ানের নাম পারুল আহমেদ। আরজি কর হাসপাতালের ক্যাম্পে কর্মরত ছিল। গ্রেফতারের পর তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। ২০২৪ সালের ৯ আগস্টের পর আরজি কর হাসপাতালের সঙ্গে জড়িয়ে গেল আরও একটি ধর্ষণের ঘটনা। বিধাননগরের নারায়ণপুর থানা এলাকার বাসিন্দা ওই তরুণী অসুস্থ মাকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য আরজি কর হাসপাতালে এসেছিলেন। সেখানেই তরুণীর সঙ্গে পরিচয় হয় জওয়ানের। তাকে বিশ্বাস করে মোবাইল নম্বরও দেন তরুণী। তারপর থেকে নানা অছিলায় ফোন করত ওই জওয়ান। তরুণীকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে চিনার পার্কের হোটেলে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। তারপর ভিডিও দেখিয়ে শুরু হয় ব্ল্যাকমেল এবং ধর্ষণ। মারধরও করা হয় বলে অভিযোগ। গত ৮ জুন নারায়ণপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। তারপরই অভিযুক্ত জওয়ানকে গ্রেফতার করে পুলিশ। একাধিক নমুনা সংগ্রহ করা হয়। তদন্ত চলছে।

একের পর এক ধর্ষণ।পালাবদলের পর বিজেপির শাসনে নারীসুরক্ষা আরও তলানিতে নেমেছে। নতুন সরকারের ক্ষমতায় আসার এক মাসের মধ্যে অন্তত ৮ থেকে ১০টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে রাজ্যে। অন্য বিজেপি-রাজ্যের মতোই বাংলাও ধর্ষণের স্বর্গরাজ্য হয়ে উঠছে।

–

–

–

–
–
