তৃণমূলের ভাঙন ঘিরে রাজনৈতিক সংঘাত ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। দলের ২০ জন সাংসদ এনসিপিআইতে (NCPI) যোগ দেওয়ার পর থেকেই দলত্যাগীদের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র (Krishnanagar MP Mahuaa Maitra)। সমাজমাধ্যমে (Social media) তাঁদের উদ্দেশে করা একাধিক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে এবার নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সেই মন্তব্যগুলিকেই ভিত্তি করে মহুয়ার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দলত্যাগী লোকসভার সাংসদরা। এ নিয়ে সম্প্রতি তাঁদের একটি ভার্চুয়াল বৈঠকও হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

কয়েকদিন আগে মহুয়া একটি পোস্টে দলত্যাগী সাংসদদের উদ্দেশে কটাক্ষ করে দাবি করেছিলেন, তাঁরা রাজনৈতিক অবস্থান বদলের বিনিময়ে বিপুল অঙ্কের টাকা পেয়েছেন। মহারাষ্ট্রে (Maharashtra) শিবসেনার (Shiv Sena) ভাঙন নিয়ে করা একটি পোস্ট শেয়ার করে তিনি লেখেন, ওইখানে ১৫ কোটি টাকার অভিযোগ উঠছে, আর এখানে তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআইতে যোগ দেওয়ার জন্য সাংসদরা নাকি ৪ কোটি টাকা অগ্রিম নিয়েছেন এবং পরবর্তী ৩৬ মাসে প্রতি মাসে ১ কোটি টাকা করে পাওয়ার চুক্তি হয়েছে। সেই হিসেব অনুযায়ী মোট ৪০ কোটি টাকার আর্থিক সুবিধার ইঙ্গিত করেছিলেন তিনি। এর পরে কালীঘাটে দলনেত্রীর বাড়িতে বৈঠকের পরে সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়েও একই অভিযোগ করেন মহুয়া।

আরও পড়ুন:পার্টির টাকায় জিতেই বেইমানি! ঋতব্রত-সন্দীপনের নির্বাচনী খরচ ফাঁস কুণালের

এই মন্তব্যের পরেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআই-তে যাওয়া সাংসদরা। তাঁদের অভিযোগ, কোনও প্রমাণ ছাড়া এমন গুরুতর অভিযোগ করে তাঁদের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে। শুধু সমাজ মাধ্যমেই নয়, বিভিন্ন সময় সংবাদ মাধ্যমের সামনেও দলত্যাগীদের বিরুদ্ধে অবমাননাকর ভাষায় মহুয়া মন্তব্য করেছেন বলে দাবি বিক্ষুব্ধদের। সেই কারণেই মহুয়ার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের নেওয়ার কথা ভাবা হয়েছে।

এক সময়ের সতীর্থকে নিশানা করে শতাব্দী রায় (Satabdi Roy) বলেন, “উনি প্রমাণ দিতে পারেননি। তবে, প্রমাণ দিতে হবে ওকে একদিন না একদিন। আর উনি প্রমাণ ছাড়া কথা বলছেন। সারা ভারত ও সারা পৃথিবীর যাঁরা মহুয়াকে চেনেন তাঁরা প্রমাণ পেয়ে গিয়েছিলেন যে উনি কী ডিল করে হিরানন্দানির থেকে টাকা নেন। উনি একমাত্র পার্লামেন্ট থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন।” শতাব্দী জানিয়েছেন, মহুয়া মৈত্রের (Mahuaa Maitra) বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। যদিও এ বিষয়ে এখনই বিস্তারিত কিছু বলতে চাননি তিনি। একা শতাব্দী নন, মহুয়া বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করছেন এনসিপিআই-এর লোকসভা নেত্রী কাকলি ঘোষ দস্তিদারও (Kakoli Ghosh Dastidar)। আদালতের দ্বারস্থ হবেন বলে জানিয়ে তিনি বলেন, “দেশের সুরক্ষা বিঘ্নিত করে পাসওয়ার্ড দেওয়ার জন্য বহিষ্কার করা হয়েছিল তিনি কত নিয়ে কী করেছিলেন দেশবাসী জানেন। আর এখন তিনি টাকার অঙ্ক বলে দিচ্ছেন, এর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করার সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যেই নিয়েছি।”

রাজনৈতিক সূত্রের মতে, পরিস্থিতি বিচার করে মানহানির মামলা দায়েরের পথেও হাঁটতে পারেন এনসিপিআইতে যোগ দেওয়া সাংসদরা। ফলে তৃণমূলের ভাঙন ঘিরে শুরু হওয়া রাজনৈতিক লড়াই আগামী দিনে আদালত পর্যন্ত গড়ায় কি না, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

–

–
–
