এর আগে রাজ্যসভার সাংসদ হওয়ার অভিজ্ঞতা আছে। কিন্তু বিধানসভায় (Assembly) এই প্রথম। আর অভিষেকেই ঝোড়ো ব্যাটিং বেলেঘাটার তৃণমূল (TMC) বিধায়ক কুণালকুমার ঘোষের (Kunal Ghosh)। মঙ্গলবার, রাজ্যপালের ভাষণ নিয়ে আলোচনায় একজন মমতাপন্থী তৃণমূল বিধায়ককে সামলাতেই কার্যত হিমশিম খেতে হল স্পিকার-সহ শাসকশিবিরকে। বেলেঘাটার বিধায়ক বললেন, “নামটা মনে রাখবেন- কুণালকুমার ঘোষ”।

রাজ্যের প্রথম বিজেপি (BJP) সরকারের বাজেট অধিবেশন শুরু হয়েছে ১৮ জুন রাজ্যপাল আর এন রবির (R N Ravi) ভাষণ দিয়ে। মঙ্গলবার রাজ্যপালের ভাষণের উপর হয় আলোচনা। আর সেখানে ডেবিউ’তেই ছক্কা হাঁকালেন কুণাল। বিধানসভায় প্রথমবার বক্তব্য রাখতে গিয়ে স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে বিজেপি থেকে বিক্ষুব্ধ তৃণমূল-সবাইকেই বিদ্ধ করেন কুণাল। তাঁর নিশানা থেকে বাদ যাননি প্রথমবার বিধানসভা নির্বাচনে জেতা স্পিকার রথীন্দ্র বসুও (Rathindra Basu)। বেলেঘাটার বিধায়ক যখন একের পর এক নিশানা করেছেন বিজেপি বিধায়ক থেকে ঋতব্রত গোষ্ঠীকে-তখন স্পিকার বারবার তাঁকে বাধা দেন। এমনকী, এই সব বক্তব্য আপাতত কার্যবিবরণীতে রাখা যাবে না হলেও মন্তব্য করেন। এতেই গর্জে ওঠেন কুণাল (Kunal Ghosh)। পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, “আপনি আমাকে এখানে স্বাভাবিকভাবে বলতে দেবেন? না কি যখন অন্য দল বা আপনাদের দলের সদস্যরা বক্তব্য রাখবেন, তখন আমিও তাঁদের সময়ে চিৎকার করে বলতে দেব না? মনে রাখবেন, গলার জোর কিন্তু আপনাদের একার নেই, আমাদেরও আছে।”

এর পরেই রথীন্দ্র অভিযোগ করেন, “আপনি এখানে সম্পূর্ণ অবান্তর ও নিয়ম-বহির্ভূত কথা বলছেন”! পাল্টা তোপ দাগেন কুণালও। বলেন, “আপনি স্পিকারের আসনে বসে আমার সঙ্গে এভাবে কথা বলবেন না। মনে রাখবেন, আপনিও কিন্তু প্রথমবারই এখানে স্পিকার হয়ে এসেছেন। আর আপনি যদি আমার সঙ্গে এইভাবে কথা বলেন, তবে আমি কি আপনাকে রসগোল্লা খাওয়াব নাকি?” এর পরেই অধিবেশন কক্ষজুড়ে শোরগোল পড়ে যায়।

এই হৈ-হল্লার মধ্যেই ফের স্পিকার-স্বীকৃত রাজ্যের বিরোধী দলনেতা তথা তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেন কুণাল। বলেন, “আমি যখন জনগণের কথা বলতে উঠছি, তখন আপনি আমাকে বলতে দিচ্ছেন না, পদে পদে বাধা দিচ্ছেন। অথচ ওই মেরুদণ্ডহীন, ব্যাকডোর থেকে আসা বিরোধী দলনেতা যখন এখানে দাঁড়িয়ে বক্তব্য রাখেন, তখন আপনারা সবাই মিলে টেবিল, বেঞ্চ চাপড়ান! আপনার আশীর্বাদে আজ ওদিকে যে নতুন শিবির তৈরি হয়েছে, সেখানে যাঁদের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির বড় বড় অভিযোগ আছে, তাঁদের বিরুদ্ধে সিবিআই-ইডি বা পুলিশের কেসগুলো এবার ঠিকঠাক চলবে তো?” এর পরেই সরাসরি ঋতব্রতর প্রসঙ্গ তুলে অধ্যক্ষকে কুণাল বলেন, ”আপনি একজন ধর্ষণে অভিযুক্তকে বিরোধী দলনেতা করবেন, এটা হয় না কি?”
আরও খবর: বাজেটে অর্থ বরাদ্দ রাজ্যের, দেশের মধ্যে বড় তকমা পাবে JU?

এর পরে সদর্পে তৃণমূল বিধায়ক বলেন, “এই নির্বাচনে আমরা হয়তো সংখ্যাতত্ত্বে হেরে গিয়েছি, সাময়িকভাবে ক্ষমতা থেকে চ্যুত হয়েছি। কিন্তু আমাদের হাতের আঙুলের থেকে ভোটের সেই কালি এখনও উঠে যায়নি। তবে হেরে গেলেও আমি অন্তত ঋতব্রতর মতো বেইমান বা গদ্দার হয়ে যাইনি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশেই আছি।” এই তীক্ষ্ণ আক্রমণের পরেই শাসকদলের বেঞ্চ থেকে তীব্র চিৎকার শুরু হয়।

ফের স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে টিপ্পনি কেটে বিজেপি বিধায়কদের উদ্দেশে কুণাল বলেন, ”আমাকে ভয় পান বলে বলতে দিচ্ছেন না। ৫ বছর আমায় ভয় পেয়ে চলুন। গুরুত্ব দিয়ে চলুন।” বেলেঘাটার বিধায়কের কথায়, ”বন্ধুরা ভালো বলবেন শত্রুরা খারাপ বলবেন, বাট ইউ কান্ট ইগনোর। নামটা মনে রাখবেন- কুণালকুমার ঘোষ”।

–

–
