ভারতের আত্মাকে রক্ষা করার দায়িত্ব 16 জন অ-বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর, ফের তোপ প্রশান্ত কিশোরের
নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন নিয়ে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে রাজ্যগুলিকে জোট গড়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানালেন JDU–র সহ সভাপতি প্রশান্ত কিশোর।

পিকে-র দল JDU বিজেপির শরিক এবং নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলেও মোদি সরকারের পক্ষেই নীতিশ কুমারের দল JDU ভোট দিয়েছে৷ কিন্তু প্রশান্ত কিশোর আগাগোড়াই NRC এবং নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরোধী৷ তৃণমূলের ভোটগুরু পিকে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন নিয়ে প্রথমদিন থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুরেই সুর মিলিয়ে কেন্দ্রকে বিঁধে চলেছেন৷

শুক্রবারও এক টুইটে পিকে লিখেছেন, ‘”সংসদে বিজেপি’র সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। তাই এখন বিচারবিভাগ ছাড়া ভারতের আত্মাকে রক্ষা করার দায়িত্ব 16 জন অ-বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর৷ কারণ ওই 16 রাজ্যকেও এই আইন কার্যকর করতে হবে। CAA এবং NRC-কে না করে দিয়েছেন তিন পাঞ্জাব, কেরল ও বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। অন্য মুখ্যমন্ত্রীদেরও নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করার সময় এসেছে”৷

বৃহস্পতিবার পিকে নাগরিকত্ব সংশোধনী নিয়ে নরেন্দ্র মোদি এবং অমিত শাহকে আক্রমণ করেছিলেন৷ টুইট করে তিনি সতর্ক করেছিলেন, “NRC এবং নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন মোদি সরকারের এমন দুই ধারালো অস্ত্র, যার মাধ্যমে ধর্মের ভিত্তিতে বৈষম্য সৃষ্টি করা হবে। এমনকী ধর্মের ভিত্তিতে মানুষকে শাস্তি পর্যন্ত দেওয়া হতে পারে।” অসমে NRC–র চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পরও সরব হয়েছিলেন প্রশান্ত কিশোর। লোকসভায় নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলে পিকে-র নিজের দল JDU–র সাংসদরা বিলের পক্ষে ভোট দেওয়ায় টুইটে তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। কার্যত নিজের দলের সভাপতি নীতিশ কুমারকে উদ্দেশ্য করে পিকে লিখেছিলেন, ‘”ধর্মের ভিত্তিতে যে বিল তৈরি হয়েছে, তাকে JDU সমর্থন করেছে। লোকসভায় দলের এই ভূমিকা দেখে আমি হতাশ। JDU-র নিজস্ব সংবিধানের প্রথম পাতাতেই 3 বার ধর্মনিরপেক্ষতার কথা লেখা রয়েছে। ওই গাইডলাইনের পরও দলের নেতারা এমন কাজ করলেন!”
এদিকে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল নিয়ে দলের অবস্থানের সমালোচনা করে প্রকাশ্যে মন্তব্য করায় JDU
প্রশান্ত কিশোরকে শোকজ নোটিশ পাঠিয়েছে৷ প্রকাশ্যে ‘দলবিরোধী’ মন্তব্য করায় একই সঙ্গে JDU-র সাধারণ সম্পাদক পবন কুমার ভার্মাকেও শোকজ করেছে দল। এই দু’জনের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ করা হবে কি’না, তা শোকজের উত্তর পাওয়ার পর JDU ঠিক করবে৷

