ভোট লুঠ করে, গণনায় কারচুপি করে বিধানসভা নির্বাচনে জিতেছে বিজেপি! এই জয় বেশিদিন টিকবে না। বৃহস্পতিবার রাত্রে দলের কর্মীদের উজ্জীবিত করতে ভিডিও বার্তায় বললেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ভিডিও বার্তায় দলীয় কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করার পাশাপাশি বিজেপি-র বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে তিনি দাবি করেন, কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে ১০০-র বেশি আসনে জোর করে গণনায় কারচুপি করা হয়েছে। জয়ী হওয়ার পর শাসকদল যেভাবে প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে উঠেছে, তাকে ‘চারিত্রিক দুর্বলতা’ বলে কটাক্ষ করেছেন তিনি।
ভিডিও বার্তায় অভিষেক জানান, ৪ জুনের পর থেকে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তৃণমূলের ১০ জন কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। নিহত কর্মীদের নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা এই তাণ্ডবলীলা চালিয়েছে। তাঁর অভিযোগ, ইভিএম-এ পড়া ভোট এবং গণনার সময় মেশিনের সিরিয়াল নম্বরে বিস্তর অসঙ্গতি ছিল। অনেক ক্ষেত্রে মেশিনের চার্জের পরিমাণেও অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করা গেছে। নির্বাচন এজেন্টদের মারধর করে গণনা কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগও এনেছেন তিনি। এই বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেস আগামী দিনে বিচার ব্যবস্থার দ্বারস্থ হবে এবং প্রতিটি গণনা কেন্দ্রের ফুটেজ জনসমক্ষে আনার দাবি জানাবে বলেও জানান তিনি।

আক্রান্ত কর্মীদের আশ্বস্ত করে অভিষেক বলেন, এই কঠিন সময় আসলে একটি ‘অগ্নিপরীক্ষা’। সোনা যেমন পুড়ে খাঁটি হয়, কর্মীদেরও এই লড়াইয়ের মাধ্যমে আরও শক্তিশালী হতে হবে। ঘরছাড়া কর্মীদের প্রসঙ্গে তাঁর স্পষ্ট বার্তা, হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে প্রশাসনকে ঘরছাড়াদের বাড়ি ফেরার ব্যবস্থা করতে হবে। কোনো আধিকারিক সহযোগিতা না করলে দল আইনি পদক্ষেপ বা আদালত অবমাননার মামলা করবে।

দলের অঞ্চল ও ব্লক নেতৃত্বকে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে থানায় আগাম তথ্য দিয়ে প্রতিবাদ মিছিল করার নির্দেশ দিয়েছেন অভিষেক। তিনি বলেন, যারা মানুষের রায়কে কারচুপি করে ক্ষমতায় এসেছে, তারা বেশিদিন টিকবে না। কর্মীদের উদ্দেশে তাঁর আহ্বান, ধৈর্য ও সাহসের সঙ্গে এই লড়াই জারি রাখতে হবে এবং শহীদ কর্মীদের আত্মত্যাগ বৃথা যেতে দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন, দল সর্বতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে রয়েছে।

আরও পড়ুন- জ্বালানি বাঁচাতে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’! সোমবার আমলাদের মেট্রো সফরের নির্দেশ রেখা গুপ্তার

_

_

_
_
_
_
