Sunday, May 17, 2026

তাবলিগ জামাত নিয়ে কী বললেন তসলিমা নাসরিন!

Date:

Share post:

তাবলিগ জামাত এবং করোনা-সংক্রমণ নিয়েও কলম ধরলেন তসলিমা নাসরিন৷ ফেসবুকে তিনি লিখেছেন, “গন্ডমূর্খগুলো কি জানে না করোনার কারণে সারা বিশ্বের মানুষ গণহারে মারা পড়ছে, তাদের কি জমায়েত বন্ধ করা উচিত ছিল না? সামান্য মানবতাবোধও ধর্মান্ধ লোকদের মধ্যে নেই।”

আরও কী লিখলেন নির্বাসিত এই লেখিকা ?

“তাবলিগ জামাত একটা গন্ডমূর্খদের আন্দোলন।১৯২৬ সালে হরিয়ানার মিয়াট অঞ্চলে মোহাম্মদ ইলিয়াস নামের এক লোক একে জন্ম দেয়। ভারতে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মাদ্রাসা দেওবন্দের জন্ম। ভারতে আহমদিয়া ধর্মের জন্ম। ইসলামের প্রসারে ভারতের ভূমিকা বিরাট।

তাবলিগ জামাত এখন পৃথিবীতে এত ছড়িয়ে গেছে যে ১৫০ টা দেশ থেকে প্রায় কয়েক কোটি লোক এতে অংশ নেয়। ফেব্রুয়ারীর ২৭ তারিখে ৪ দিন ব্যাপী তাবলিগ জামাতের সম্মেলন হলো মালয়েশিয়ায়। ১৬০০০ লোক অংশগ্রহণ করেছিল। ১৫০০ ছিল বিদেশি। চীন থেকে, দক্ষিণ কোরিয়া থেকে আসা। মালয়েশিয়ার দুই তৃতীয়াংশ করোনা রোগীর ভাইরাস এসেছে ওই তাবলিগ জামাত থেকে। এই খবর গুলো চারদিকে প্রচার হওয়ার পরও তাবলিগ জামাত দিল্লিতে সম্মেলন করার অনুমতি পেয়ে যায় কী করে জানিনা। এখন দিল্লিতে নানান দেশের তাবলিগি গুলো ভাইরাস ছড়িয়েছে। কত হাজার লোককে যে ওরা সংক্রামিত করেছে তার কোনও হিসেব আছে?! গন্ডমূর্খগুলো কি জানে না করোনার কারণে সারা বিশ্বের মানুষ গণহারে মারা পড়ছে, তাদের কি জমায়েত বন্ধ করা উচিত ছিল না? সামান্য মানবতাবোধও ধর্মান্ধ লোকদের মধ্যে নেই।

সৌদি আরবকে স্যালুট দিই। আল্লাহর ঘর কাবা বন্ধ করে দিতে এতটুকু দ্বিধা করেনি। উমরাহ বন্ধ করেছে। নবীর রওজা শরিফ দর্শন বন্ধ করেছে, মসজিদ বন্ধ করেছে। ভারতে এখনও অনেক মসজিদ খোলা। লোকেরা নামাজ পড়তে ভিড় করে। লকডাউন মানছে না, সোশ্যাল ডিস্ট্যান্সিং মানছে না। ভারতের একটুখানি সৌদি আরবের মতো হওয়া দরকার।

বাই দ্য ওয়ে, উজবেকিস্তান, কাজাকস্তান, তাজিকিস্তান, এই দেশগুলোয় কিন্তু তাবলিগ জামাত নিষিদ্ধ । তাবলিগ হাদিস কোরান যেভাবে বলে, সেভাবে চলে। ১৪০০ বছর আগে মোহাম্মদ যেভাবে জীবন যাপন করত, সেভাবে জীবন যাপন করে। আক্ষরিক অর্থেই মৌলবাদি।

যে দেশ আধুনিক হতে চায় বা সভ্য হতে চায়, সে দেশ মৌলবাদী আন্দোলনকে প্রশ্রয় দেয় না। আল কায়দার মতো সন্ত্রাসী দল তাবলিগের আইডি ব্যবহার করে সন্ত্রাসের উদ্দেশে এক দেশ থেকে আরেক দেশে ভ্রমণ করেছে। এই ধর্মান্ধ গোষ্ঠী কি সমাজের কোনও উপকার করছে? প্রগতির বিরুদ্ধে গিয়ে সমাজকে পেছনে টেনে রাখলে উপকার নয়, অপকার হয় মানুষের। যত্র তত্র ভাইরাস ছড়িয়ে কত নিরীহ মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়েছে। কী ভয়ংকর অপকারই না ওরা করলো মানবজাতির!

ধর্ম মানুষকে স্বার্থপর, নিষ্ঠুর, হিংসুক বানায়, খুব বোকাও বানায়। না হয় বুঝলাম ওরা বোকা। সরকার কী করে শুরু থেকে বিমান যাত্রা চালু রেখেছিল, সেই সব দেশেও দিব্যি বিমান যাওয়া আসা করেছে যেসব দেশে ভাইরাস দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। সময়মতো উচিত কাজটি করা হয়নি বলে শত শত তাজা জীবন আজ অকালে ঝরে পড়ছে।

Related articles

উন্নয়নে জোর! সঙ্গে পথে নেমে প্রতিবাদও, জেলা পরিষদের বৈঠকে বার্তা নেত্রী-অভিষেকের

এবার দক্ষিণবঙ্গের জেলা পরিষদের সভাধিপতি কর্মাদক্ষদের নিয়ে বৈঠক করলেন তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব। রবিবার বিকেলে কালীঘাটের বাসভবনে এই বৈঠকে...

পাঁচ মেডিক্যালে স্বাস্থ্যসচিব: খতিয়ে দেখলেন পরিষেবা থেকে রোগীর সমস্যা

রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার হাল ফেরাতে এবার মাঠে নামল স্বাস্থ্যভবন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Chief Minister) সঙ্গে বৈঠকের পর শনিবার...

ফ্রান্সের বিশ্বমঞ্চে প্রথম বাঙালি কনটেন্ট ক্রিয়েটর ‘লাফটারসেন’ 

সমাজমাধ্যমে মানুষের মুখে হাসির ফোয়ারা ছোটান যে মানুষটি, আবার মাঝে মধ্যেই সামাজিক বা স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে নজর কাড়েন...

ডার্বিতে টুটু স্মরণ, ইস্ট – মোহনের লড়াইয়ে হাজির নিশীথ

  আইএসএল ডার্বি ম্যাচের মেগা মঞ্চে টুটু বোসকে স্মরণ করল ইস্টবেঙ্গল মোহনবাগান কয়েকদিন আগেই প্রয়াত হয়েছেন মোহনবাগান ক্লাবের প্রাক্তন...