Saturday, May 16, 2026

‘পরিবার পিছু জনসংখ্যা’ ভিত্তি হোক, জনঘনত্বের হিসাবে চললে করোনা- মুক্তি হবে না

Date:

Share post:

শৈবাল বিশ্বাস

সম্প্রতি কলকাতার কনটেনমেন্ট জোন নিয়ে কিছু তথ্য‌ হাতে এল তাই এই নিয়ে নিজের কিছু বক্তব্য‌ শেয়ার করছি।

তালিকা অনুযায়ী দেখা যাচ্ছে, রোগ ধরা পড়ার নিরিখে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে ৭ নম্বর বরো, যা কি’না বেলেঘাটার দক্ষিণপ্রান্ত থেকে ৪ নম্বর ব্রিজ অবধি বিস্তৃত। ট্যাংরা, তপসিয়া, পিলখানা এই অঞ্চলেরই ভিতর। কলকাতায় সবচেয়ে বেশি কোভিড-১৯ রোগী মিলেছে এই বরোর ৬০ নম্বর ওয়ার্ডে। এর পরই সংক্রমণের নিরিখে এগিয়ে আছে ৫ নম্বর বরো। রাজাবাজার, শিয়ালদা, কলেজ স্ট্রিট এই বরোর ভিতরে পড়ে।

কিন্তু কেন এই অঞ্চলগুলিতে বেশি করোনা আক্রান্ত রোগীর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে? একটু সেনসাস রিপোর্টের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা যাক।

◾ ৬০ নম্বর ওয়ার্ড বা লিন্টন পোস্ট অফিস সংলগ্ন ওয়ার্ডটিতে ২০১১-র সেনসাস অনুযায়ী মোট জনসংখ্যা ৩৫,৭৩২। হাউসহোল্ড বা এক হাঁড়িতে খাওয়াদাওয়া করা পরিবারের সংখ্যা ৬,৭৫৫টি। অর্থাৎ,এই ওয়ার্ডে হাউসহোল্ড পিছু জনসংখ্যা ৫.২৮।

◾ রাজাবাজার অঞ্চলের ২৮ নম্বর ওয়ার্ডটির কথাই ধরুন৷ এটি পুরসভার ৪ নম্বর বরোর অন্তর্ভূক্ত। এখানে পরিবার (হাউসহোল্ড) পিছু জনসংখ্যাা ৫.২৭।

◾ রাজাবাজারের ৫ নম্বর বরোর ৩৬ নম্বর ওয়ার্ড অর্থাৎ বরফকল, খালপাড় অঞ্চলে পরিবার পিছু জনসংখ্যা ৫.৯৫ বা প্রায় ৬ বলা যায়।

এবার রেড জোন নয়, এমন ওয়ার্ডগুলির জনসংখ্যার হিসাব দেখা যাক।

◾৯১ নম্বর ওয়ার্ড বা কসবা, ঢাকুরিয়া অঞ্চলে পরিবার পিছু জনসংখ্যা। ৩.৮।

◾১১১ নম্বর ওয়ার্ড গড়িয়ায় পরিবার পিছু জনসংখ্যাা আরও কম, ৩.৯।

◾উত্তর কলকাতার বাগবাজারের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে কোভিড আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা মাত্র ১টি। সেখানে পরিবার পিছু জনসংখ্যার অনুপাত ৪.৫।

এই হিসাব থেকে বোঝা যাচ্ছে:

◾পরিবার পিছু জনসংখ্যা ৫-এর বেশি এমন ওয়ার্ডগুলি “রেড জোন”-এ পরিণত হচ্ছে।

◾ যে সব বস্তি অঞ্চলে ঘর আর রাস্তার মধ্যে পার্থক্য‌ কম সেখানে দ্রুত সংক্রমণ ছড়াচ্ছে।

◾জনঘণত্বের সঙ্গে পারিবারিক জনসংখ্যার ঘণত্ব গুলিয়ে ফেললে চলবে না।

◾জনঘণত্বের হিসাব নিয়ে চললে সঠিক পরিকল্পনা কখনই করা যাবে না।

◼সমীক্ষার ভিত্তি করতে হবে হাউসহোল্ড বা এক হাঁড়িতে খাওয়াদাওয়া করা পরিবারের হিসাব ধরে।

◾কারণ, সামাজিক দূরত্ব মেনে চললে জনঘণত্ব দিয়ে সংক্রমণ ছড়ানোর হার সঠিকভাবে বিশ্লেষণ করা না-ও যেতে পারে।

◾কিন্তু পরিবারের মধ্যে যেখানে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব নয়, বিপদ সেখানেই বেশি।

🔺আমার বক্তব্য‌, পরিবার পিছু জনসংখ্যা ৫-এর বেশি এমন ওয়ার্ডগুলি দ্রুত চিহ্নিত করে সেখানে ‘সারি’ বা শ্বাসকষ্টে ভুগছেন, এমন সব মানুষের নমুনা পরীক্ষা করা হোক।

🔺 তাহলে ৭ দিনের মধ্যে কলকাতা কোভিডমুক্ত হবে।

Corona update

Related articles

আরবে ৩০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল-চুক্তি মোদির: কোন পথে আসবে, প্রশ্ন অর্থনীতিবিদদের

একদিকে যখন দেশের মানুষকে বিদেশ সফর কমানোর নির্দেশ দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, সেখানে তিনি নিজেই বিদেশ সফরে। সেই...

৮ বছর আগের মামলায় কবি শ্রীজাতকে শর্তসাপেক্ষে জামিন

রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের আবহেই আট বছর আগের দায়ের করা মামলায় কবি শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Srijat Banerjee) বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা...

নেতাজি ইন্ডোরে শুরু ‘এডুকেশন ইন্টারফেস ২০২৬’, কেরিয়ারের দিশা খুঁজতে ভিড় পড়ুয়াদের 

বর্তমান যুগে দাঁড়িয়ে সঠিক সময়ে সঠিক কেরিয়ার নির্বাচন করাই ছাত্রছাত্রীদের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আর সেই চ্যালেঞ্জকে সহজ...

আর জি কর-তদন্তে বিস্ফোরক অভিযোগ বিজেপি সাংসদের, অভিজিতের নিশানায় CBI আধিকারিক সীমা

হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের নির্দেশে আর জি কর মামলার (RG Kar Case) শুনানির জন্য সম্পূর্ণ নতুন একটি...