Thursday, May 7, 2026

রেশন ব্যবস্থা অভিযোগমুক্ত করতে প্রয়োজনে ঢালাও রদবদল হোক, কণাদ দাশগুপ্তর কলম

Date:

Share post:

কণাদ দাশগুপ্ত

করোনা-আবহে বাংলার সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধীদের এখন মূল অভিযোগ রেশন ব্যবস্থা নিয়ে৷ বিরোধী- অভিযোগের সুরেই সুর মিলিয়েছেন রাজ্যের রাজ্যপাল, দিল্লিও৷

বিরোধীরা অভিযোগ তুলছে মানেই বিষয়টি মিথ্যা বা প্ররোচনামূলক, প্রশাসন এখনও এমন ভাবলে তা হবে হারিকিরি’র সমতুল৷

কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে জেলায় জেলায় রেশন নিয়ে সাধারণ মানুষের আর্তি৷ ইদানিং ‘বড়’ মিডিয়া কোনও ‘বড়’ কারনে বেশ কিছু খবরে হাত লাগাচ্ছে না৷ জাদুসম্রাট পি সি সরকারও হার মেনেছে এ ধরনের ‘ভ্যানিশ’ করার টেকনিকে৷ কিন্তু এত করেও জেলায় জেলায় রেশন নিয়ে অভিযোগ, রেশনে সরবরাহ করা খাদ্রসামগ্রীর মান নিয়ে অভিযোগ ঠেকানো যাচ্ছে না৷ কারন, মেইন স্ট্রিম মিডিয়া ক্রমশই ‘বিশেষভাবে সক্ষম’ একটি মাধ্যমে পরিনত হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ার দাপটে৷ তারা কোন খবর চেপে দিলো অথবা কোন খবর বাড়াবাড়িস্তরে নিয়ে গিয়ে ডিসপ্লে করলো, সাধারন মানুষ এখন আর সে সব ধর্তব্যের মধ্যেই আনেনা৷ সোশ্যাল মিডিয়া এখন এতটাই শক্তিশালী যে মেইন-স্ট্রিম মিডিয়ার খবর চাপা বা খবর খাওয়ানোর মরিয়া চেষ্টা এখন “স্ট্যাণ্ড- আপ কমেডি”-র স্তরে পৌঁছে গিয়েছে৷

সোশ্যাল মিডিয়ায় চোখ রাখলেই ধরা পড়ছে, রাজ্যের জেলায় জেলায় সরকারি রেশন নিয়ে অভিযোগ আছে৷ অনেক এলাকায় এই অভিযোগ বিক্ষোভের চেহারা নিয়েছে৷ কাক যখন নিজের খাবার লুকিয়ে রাখে, তখন তার চোখ থাকে বন্ধ৷ সম্ভবত কাকদের ব্যাখ্যা, ‘আমি যখন দেখলাম না আমার খাবার কোথায় লুকিয়েছি, তখন গোটা দুনিয়া তা দেখেনি৷’ মূলত এই লজিককে সামনে রেখেই রাজ্যের একশ্রেণির মিডিয়া ‘দায়িত্ব পালন’ করছে৷ এবং লোক হাসাচ্ছে৷ করোনা এবং লকডাউনের জেরে রাজ্যের স্বাভাবিক জনজীবন যখন বিপর্যস্ত, তখন রাজ্যের চারধারে সব কিছু ঠিক আছে, এমন হতে পারেনা৷ অথচ চেষ্টা তেমনই চলছে৷

রাজ্যের রেশন ব্যবস্থা তথা সরবরাহে যে বিস্তর গলদ আছে, বেশ কিছুদিন আগে রাজ্য প্রশাসনই সরাসরি তা মেনে নিয়েছিলো৷ সাধারন মানুষের ক্ষোভ সামাল দিতে খাদ্য দফতরের সচিবকেই বদলি করা হয়। কিন্তু তাতে অবস্থার কতখানি পরিবর্তন হলো ? আজও জেলায় জেলায় রেশন নিয়ে অভিযোগ ৷ তাহলে প্রমান হচ্ছে, বদলি হওয়া ওই সচিব-ই যে রেশন-কাণ্ডে একমাত্র দায়ী ছিলেন, কখনই এমন নয়৷

বিপর্যস্ত মানুষকে দুবেলা দুমুঠো অন্ন দেওয়া রাষ্ট্রের অবশ্যপালনীয় কর্তব্য। অথচ সরকারি রেশন ব্যবস্থা নিয়েই জেলায় জেলায় ডিলারদের বিরুদ্ধে এই মূহুর্তে অভিযোগের পাহাড়৷ ক্ষিপ্ত গ্রাহকদের বিক্ষোভ বেড়েই চলেছে। এই সংকটকালে গণবণ্টন ব্যবস্থা সুষ্ঠু রাখাই খাদ্য দফতরের কাছে সব থেকে বড় চ্যালেঞ্জ হওয়া উচিত৷ কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক, রাজ্যের খাদ্য দফতর সম্পূর্ণ ব্যর্থ৷ রাজ্যের অধিকাংশ জেলা থেকেই
রেশন নিয়ে বিক্ষোভের খবর পাওয়া যাচ্ছে৷ নিরাপদে ঘরে বসে টিভি ক্যামেরার সামনে সব দায় অস্বীকার করে, সব কিছু ঠিক আছে দাবি করে, এ সবই বিরোধীদের চক্রান্ত বলে উড়িয়ে দিয়ে দিনের পর দিন রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী যে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন, তাতে মুখ্যমন্ত্রীরই অস্বস্তি বাড়ছে৷ কারন, বিরোধীদের অথবা রাজ্যপালের নিশানা হতে হচ্ছে মুখ্যমন্ত্রীকেই৷ কে খাদ্যমন্ত্রী, কে স্বাস্থ্য দফতরের রাষ্ট্রমন্ত্রী অথবা কে মুখ্যসচিব, কে-ই বা ডাঃ অভিজিৎ চৌধুরি, বিরোধীদের পাশাপাশি সাধারন মানুষও সে সব পাত্তা দেয়না৷ মুখ্যমন্ত্রীর একশো শতাংশ সদিচ্ছা এবং বেনজির পরিশ্রম ঢাকা পড়ছে কিছু লোকের চরম অযোগ্যতায়৷ সংকট বা সমস্যার সময়ই দায়িত্বপূর্ণ পদে থাকা লোকজনের দক্ষতা ধরা যায়৷ এই সংকটকালে রাজ্যের বেশকিছু তথাকথিত “দায়িত্বশীল”, নিজেদের ব্যর্থতা উজাড় করে দিয়ে তোপের মুখে ফেলেছে খোদ মুখ্যমন্ত্রীকেই৷

মাথায় রাখা দরকার, আজ বা কাল এই করোনা বিদায় নেবেই৷ তারপর কোনও এক সময় রাজ্যে নির্বাচনও হবে৷ আজ যারা রেশন-কাণ্ডের জেরে দুমুঠো খাবার নিয়ে উৎকন্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন, ভোটের মুখে তাঁদের মনে আজকের করুন অভিজ্ঞতার স্মৃতি কেউ উসকে দিলে, শাসক দলের বিপদ বৃদ্ধিই পাবে৷

রেশন নিয়ে বিক্ষোভের আগুন ক্রমশ বাড়ছেই।
জরুরি ভিত্তিতে কড়া পদক্ষেপ করা দরকার সরকারের। অভিযোগ নানা ধরনের৷ কোথাও রেশন মিলছে না, কোথাও গ্রাহকদের মূল অভিযোগ, পরিমানে কম দিচ্ছে রেশন ডিলাররা। ওজনে কারচুপির অভিযোগও রয়েছে অনেক ক্ষেত্রে। কোনও জেলায় অভিযোগ, চালের মান খুবই খারাপ৷ অভিযোগ এমনও আছে,রাজনৈতিক দলগুলির একাংশ কিছু ডিলারের কাছ থেকে জোর করে বস্তা বস্তা চাল সংগ্রহ করছে। ওদিকে, রেশন নিয়ে বিরোধীরা এই সময়েও নেমে পড়েছে রাজনীতি করতে৷

তাই, এই মুহূর্তে প্রশাসনকে রেশন ব্যবস্থা নিয়ে অভিযোগ কমাতেই হবে৷ কোনও দুর্নীতিই বরদাস্ত করা উচিত হবে না। করোনা আবহে রেশন ব্যবস্থা কড়া হাতে সামলানো দরকার সেক্ষেত্রে যদি ওই দফতরে ঢালাও রদবদল করতে হয়, সেটাই হোক৷ সংবাদ মাধ্যম খবর না করলেই যে রাজ্যে রেশন-ব্যবস্থা সুষ্ঠভাবে চলছে, এমন দাবি এখন আত্মঘাতী হবেই৷

Related articles

জিতেই সন্ত্রাসের পথে বিজেপি! দিকে দিকে বোমাবাজি-আগুন, মৃত বেড়ে ৭

ভোটের ফল ঘোষণার পর তিন দিন পার হয়ে গেলেও রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে অব্যাহত হিংসা। বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার...

ভেঙে দেওয়া হল পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা! বৃহস্পতিবার থেকেই কার্যকরের নির্দেশ রাজ্যপালের

আনুষ্ঠানিক ভাবে ভেঙে দেওয়া হল পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা। বৃহস্পতিবার রাজভবন থেকে এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা জারি করেছেন রাজ্যপাল আর এন...

চণ্ডীপুরে চন্দ্রনাথের দেহ! শেষ শ্রদ্ধা জানাতে মানুষের ঢল, বিচার চেয়ে সরব পরিজনরা

মধ্যমগ্রামে দুষ্কৃতীদের গুলিতে নিহত শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের দেহ বৃহস্পতিবার বিকেলে পৌঁছল তাঁর নিজের গ্রাম পূর্ব মেদিনীপুরের...

১০ ঘণ্টা ৪৫ মিনিটে সমুদ্র জয়! শ্রীলঙ্কা থেকে ভারতে সাঁতরে রেকর্ড গড়লেন দম্পতি

অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর সাহস থাকলে অসম্ভবকেও জয় করা যায়, সেটাই যেন প্রমাণ করলেন বেঙ্গালুরুর (Bangalore) এক তরুণ দম্পতি।...