Friday, January 9, 2026

লকডাউনে বিক্রি কম, তবু এখনও জনপ্রিয় চন্দননগরের জলভরা

Date:

Share post:

জামাইষষ্ঠীতে জামাইয়ের সঙ্গে রসিকতা করতে আবিষ্কার হয়েছিল বিখ্যাত জলভরা সন্দেশ৷ চন্দননগরের সূর্য মোদক জমিদার বাড়ির গিন্নিদের আবদারে তৈরি করেছিলেন জলভরা৷ আজও তার সমান জনপ্রিয়তা৷ তবে প্রতি বছরের তুলনায় এবারের ছবিটা একটু অন্যরকম৷ কোরোনাভাইরাস ও লকডাউনের জেরে অনেকেই জামাইষষ্ঠী পালন করতে পারেননি৷ তাই জলভরা বা অন্যান্য মিষ্টির চাহিদা কমেছে।

প্রায় দেড়শো বছর আগে চন্দননগরের সূর্য মোদক জলভরা সন্দেশ বানিয়ে ইতিহাস গড়েছিলেন৷ এমনিতে সারা বছর জামাই আদরে খামতি রাখেন না শাশুড়িরা। কিন্তু জামাইষষ্ঠীর দিনটিতে মেয়ে-জামাই যখন বাড়িতে আসেন, তখন থাকে বাড়তি আয়োজন৷ এহেন জামাই আদরের দিনে একটু ঠাট্টা-তামাসা হবে না তা কি হয়? সালটা 1290 বঙ্গাব্দ৷ তেলেনিপাড়ার বন্দ্যোপাধ্যায় জমিদার বাড়ির গিন্নীরা কর্তাদের কাছে আবদার করলেন, জামাইষষ্ঠীতে এমন মিষ্টি পাতে দিতে হবে, যেন জামাই বোকা বনে যায় ৷ সব শুনে কর্তারা পড়লেন মহা ফাঁপড়ে ৷ জামাইকে বোকা বানানো, তাও আবার মিষ্টিমুখে? এদিকে গিন্নিদের কথাও তো ফেলা যায় না ৷ অবশেষে ডাক পড়ল মিষ্টি প্রস্তুতকারক সূর্য মোদকের। অনেক ভেবে সূর্য মোদক ও তাঁর ছেলে সিদ্ধেশ্বর তৈরি করলেন তালশাঁসের আকারে বিশেষ এক ধরনের মিষ্টি ৷ যথারীতি জামাইষষ্ঠীর দিন পঞ্চব্যঞ্জনের আহার শেষে জামাইয়ের পাতে বিশেষ মিষ্টি দিলেন শাশুড়ি মায়েরা৷ মনের সুখে মিষ্টিতে কামড় দিতেই গোলাপ জল ছিটকে গরদের পাঞ্জাবি ভিজল৷ জামাই তো লজ্জায় লাল ৷ জমিদারবাড়ির অন্দরে তখন হাসির রোল ৷ আর এভাবেই বাঙালির মিষ্টির তালিকায় যোগ হয় জলভরা সন্দেশের নাম।
সূর্য মোদক গোলাপ জল দিয়ে জলভরা সন্দেশ তৈরি করেছিলেন৷ বর্তমানে আম, স্ট্রবেরি, চকোলেটের জলভরাও পাওয়া যায় ৷ জি টি রোডের ধারে চন্দননগরের বড়বাজারে যে সূর্য মোদকের দোকান, সেটিই আসল ৷ তাঁর পরিবারের চতুর্থ প্রজন্ম শৈবাল মোদক এখন ব্যবসা দেখাশোনা করেন। শৈবাল মোদক জানালেন, পুরানো জলভরার স্বাদে কোনও পরিবর্তন আনা হয়নি ৷ আগে গুড়কে চিনির পর্যায়ে এনে তার নির্যাস বের করে দোলো বানানো হত৷ সেই দোলো ও গোলাপজল একসঙ্গে মিশিয়ে জলভরা সন্দেশ তৈরি হত ৷ এখন গোলাপ জল ছাড়াও আম, স্ট্রবেরি ও চকোলেটের মতো পুর ভরা হচ্ছে ৷
এবছর জামাইষষ্ঠী সেভাবে পালিত হচ্ছে না ৷ এই প্রসঙ্গে শৈবাল মোদক বলেন, এখন তাঁরা স্থানীয় ক্রেতাদের উপর নির্ভরশীল৷ বাইরে থেকে ক্রেতারা আসতে পারছেন না লকডাউনের কারণে৷ চাহিদা কম থাকায় অন্য বছরের থেকে জলভরার পরিমাণ এবারে কম৷ ক্রেতারা সামাজিক দূরত্ব মেনে দোকানে আসছেন এবং মিষ্টি কিনছেন৷ সূর্য মোদকের জলভরা সন্দেশ 137 বছর পরেও সমান লোভনীয়৷

spot_img

Related articles

চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে নয়, আসন্ন আইপিএলে দুর্গ বদল বিরাটদের

কয়েক মাস পরই শুরু হবে আইপিএল(IPL)। নিলামে সব দলই ঘর গুছিয়ে নিয়েছে। আসন্ন আইপিএলে(IPL) চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামেও (Chinnaswamy Stadium)...

বিজেপির ঔদ্ধত্যকে ধিক্কার! সাংসদদের সঙ্গে লজ্জাজনক আচরণের নিন্দায় মুখ্যমন্ত্রী

গণতন্ত্রকে বিজেপি ব্যক্তিগত সম্পত্তি মনে করেছে। রাজধানীর বুকে যেভাবে জনপ্রতিনিধিদের গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করা হয়েছে, তাকে ধিক্কার। কেন্দ্রের...

বারুইপুরের পরে তাহেরপুর: ফের ব়্যাম্পে ‘ভূত’ হাঁটিয়ে নির্বাচন কমিশনকে মোক্ষম খোঁচা অভিষেকের

বারুইপুরের পরে তাহেরপুর- সভামঞ্চে ফের ‘ভূতদের’ হাঁটালেন তৃণমূলের (TMC) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee)। শুক্রবার, রণসংকল্প...

মঞ্চে এপি ধিলোঁর ‘চুমু’ই কি কাল হলো? ভাঙনের মুখে তারা-বীরের প্রেম!

বলিউডে (Bollywood Gossip) প্রেমের ভাঙা-গড়ার গল্প প্রায়ই শোনা যায় কিন্তু সেই তালিকায় এবার কি নাম জুড়ল তারা সুতারিয়া...