Sunday, January 11, 2026

শ্রীকৃষ্ণকে টেনে এনে নোংরা রাজনীতি করছেন অপদার্থ দিলীপ ঘোষ! কড়া নিন্দা সুজনের

Date:

Share post:

“বদলা-বদল” তত্ত্বে সংবাদ মাধ্যমের সামনে বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ শ্রীকৃষ্ণের যুদ্ধ এবং তার সঙ্গে হিংসার রাজনীতিকে মিলিয়ে ফেলে যে মন্তব্য করেছেন, এবার সেই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করে সরব হলেন বাম পরিষদীয় নেতা সুজন সুজন চক্রবর্তী।

এদিন তিনি বলেন, “দিলীপ ঘোষ যদি শ্রীকৃষ্ণকে টেনে এনে নোংরা রাজনীতি এবং নিজের অপদার্থতাকে ঢাকবার চেষ্টা করেন, তাহলে এর চাইতে লজ্জাজনক কিছু হয় না। এতটা নিজেকে নিয়ে ভাবাটা মস্তিষ্ক বিকৃতির লক্ষণ।”

তিনি আরও বলেন, এর আগে একটি দল পশ্চিমবাংলায় বদলা চাই না বদল চাই বলে ক্ষমতায় এসেছিল। কিন্তু ক্ষমতায় আসীন হওয়ার পর তারা বদলার রাজনীতি করেছে। এখনও করছে। বদলার সেই বাহিনী আগে ছিল মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সঙ্গে। এখন সেই বাহিনী দিলীপ ঘোষের সঙ্গে। যারা বদলা নিচ্ছে, তাদের সঙ্গে নিয়ে এখন দিলীপ ঘোষ বদলার কথা বলছেন।

সুজন চক্রবর্তী মনে করেন, বদলা বদল নয়, মানুষের ভরসাই সবচেয়ে বড় জিনিস। এবং তৃণমূল-বিজেপিরা নয়, বামপন্থীরাই মানুষের ভরসা নিয়ে চলবে। তাঁর দাবি, সমাজ-বিজ্ঞান-যুক্তি’ এগুলো তৃণমূল-বিজেপির কাছ থেকে আশা করা যায় না।

এ ব্যাপারে বলে মন্তব্য করে কেন্দ্রের ও রাজ্যের শাসকদলের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন সুজন। তিনি বলেন, সারা পশ্চিমবাংলায় হিংসার রাজত্ব তৈরি করেছে তৃণমূল ও সারা ত্রিপুরাতে হিংসার রাজত্ব তৈরি করেছে বিজেপি। যে পথে তৃণমূল, সেই একই পথে বিজেপি। আবার যে পথে বিজেপি, সেই একই পথে তৃণমূল। আর ভিন্ন পথে মানুষকে সঙ্গে নিয়ে বামপন্থা।

চিনা দ্রব্য বয়কটের জন্য দিকে দিকে সংঘটিত বিক্ষোভের প্রসঙ্গে এদিন তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সুজন চক্রবর্তী বলেন, “বিজেপির নেতারা চিনা দ্রব্য বয়কট বলে বাজার গরম করছে। কে, কার ঠ্যাং ভেঙ্গে দেবে তালিকা করছে। আমি বলছি, অযথা এই কাজের মধ্যে যাচ্ছেন কেন, যদি চিনা দ্রব্য থাকলে ঠ্যাং ভাঙতে হয় তাহলে বিজেপির সব নেতার ঠ্যাং নিজেদেরই ভাঙতে হবে। এমনকি, সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের যে মূর্তি সেটাও চিনা কোম্পানির তৈরি। হিম্মত আছে তো সেটা ভাঙার?”

এরপরই সুজন বলেন, বাংলা বা ভারতবর্ষের মানুষ চিন দেশে গিয়ে চিনের জিনিস কিনে আনছে না। চিন দেশের জিনিস ভারতে আসছে। তবেই মানুষ কিনছে। আর এই আসা বা না আসাটা নির্ভর করে কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর।

পাশাপাশি তিনি আরও দাবি করেন, চিন ও আমেরিকার দ্রব্যে দেশীয় শিল্পের বারোটা বেজে গেছে। তাই কাস্টমস ডিউটি ২০০% চিন ও আমেরিকার দ্রব্যের ওপর বসিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব বা অধিকার কেন্দ্রীয় সরকারের।

সুজন বলেন, বিজেপির যে নেতারা রাস্তায় বলছেন বয়কট, সেটা রাস্তায় না বলে প্রধানমন্ত্রীর কাছে বলতে হবে। যেন উনি বিদেশী দ্রব্য আনার ক্ষেত্রে আটক করেন ও কাস্টমস ডিউটি ২০০% চিন ও আমেরিকার দ্রব্যের ওপর বসান। এর ফলে দেশীয় শিল্প, দেশীয় বাজার বাঁচবে ও দেশের যুবসমাজের কর্মসংস্থান হবে।

spot_img

Related articles

‘ডুবন্ত টাইটানিক’, উৎপল সিনহার কলম

টাইটানিক যখন সমুদ্রের অতলে তলিয়ে যায়,ঠিক তার ১ ঘন্টা ৪০ মিনিট পর রাত ৪টে ১০ মিনিটে সেখানে আসে...

ফের শিরোনামে ডবল ইঞ্জিন ছত্রিশগড়! এবার পুলিশের জরুরি পরিষেবার গাড়িতে গণধর্ষণ যুবতীকে

ফের নারী নির্যাতনের ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠল ডবল ইঞ্জিন রাজ্য ছত্রিশগড়। এবার খোদ পুলিশের জরুরি পরিষেবা ‘ডায়াল ১১২’-র...

বিজেপির সেমসাইড গোল! শুভেন্দুর নিরাপত্তারক্ষীরা পেটাল বিজেপি নেতাকে

বাংলাকে না চেনেন বিজেপির নেতারা, না তাঁদের ঘিরে থাকা কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী। ফলে বারবার 'সেমসাইড' হয়ে যাচ্ছে। বিরোধী...

নাকতলার নক্ষত্রদের নিয়ে বিশেষ উদ্যোগ, অরূপকে কৃতজ্ঞতা কৃশানুর পরিবারের

নাকতলা সেখানে সাত কীর্তিমানের কীর্তিকলাপ।যদিও তাঁরা আজ প্রয়াত। ভারতীয় ফুটবলের মারাদোনা কৃশানু দে(krishanu dey), গীতিকার গৌরিপ্রসন্ন মজুমদার, গীতিকার...