Saturday, April 18, 2026

অনুপম-মেননের সামনেই বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে রণক্ষেত্র বারুইপুর, সাংবাদিকদের কাজে বাধা

Date:

Share post:

২০২১ সালে রাজ্যের কুর্শি দখল যখন বিজেপির অন্যতম মূল লক্ষ্য, ঠিক তখনই বারুইপুরে দক্ষিণ ২৪ পরগনা (পূর্ব) জেলা অফিস বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে। জেলার বিরোধী লবির কর্মী-সমর্থকরা কার্যত দফতরের অভ্যন্তরের আসবাবপত্র ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে। বর্তমান জেলা সভাপতি হরিকৃষ্ণ দত্তের কক্ষটিও ভাঙচুর করা হয়। শুধু তাই নয়, নিজেদের মধ্যে মারামারিতে বেশ কয়েকজন আহত হয়। তাঁদের স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা যাচ্ছে।

এবং এই গোটা ঘটনাই ঘটে বিজেপির জাতীয় নেতা অরবিন্দ মেনন, সদ্য-নিযুক্ত জাতীয় সম্পাদক অনুপম হাজরা এবং রাজ্য বিজেপি সহ-সম্পাদক (সংগঠন) অমিতাভ চক্রবর্তীর চোখের সামনে। তাঁরা দুই পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করলেও কাজ হয়নি। মারমুখি বিজেপি কর্মীদের ছেড়েই অরবিন্দ মেনন-অমিতাভ চক্রবর্তী ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যান। ঘটনার ছবি তুললে সাংবাদিকদের উপর আক্রমণ করা হবে, ক্যামেরা-মোবাইল ভেঙে দেওয়া হবে বলেও হুমকি দেন বিক্ষুব্ধ শিবিরের বিজেপি কর্মীরা। বেশকিছু সংবাদ মাধ্যমের ফুটেজ ডিলিট করার চেষ্টা করে তারা।

আরও পড়ুন- উত্তরবঙ্গে টানা বৃষ্টি, আত্রেয়ী নদীতে বাড়ছে জলস্তর

বিক্ষুব্ধ বিজেপি কর্মীদের দাবি, বর্তমান জেলা সভাপতি হরিকৃষ্ণ দত্ত দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আদি ও প্রকৃত বিজেপি কর্মীদের অপমান-লাঞ্ছনা করে চলেছেন। তাঁদের পার্টি অফিসে ঢুকতে দেওয়া হয় না। টাকার বিনিময়ে পদ বিক্রি করছেন জেলা সভাপতি। যেখানে তৃণমূল ও সিপিএম থেকে আসা লোকেদের ভিড়। তৃণমূলের লোক দিয়েই বিজেপি কর্মীদের মারধর করেছেন, বাড়ি ভেঙে দিয়েছেন জেলা সভাপতি।

অন্যদিকে হরিকৃষ্ণ দত্ত অভিযোগ করেছেন, যারা আজ পার্টি অফিসে এসে হাঙ্গামা করেছে, ভাঙচুর করেছে, তারা বিজেপির পতাকাকে সামনে রেখে আসলে সমাজবিরোধীর দল। এদের বিজেপি করার কোনও অধিকার নেই। এদেরকে অরবিন্দ মেনন-অভিতাভ চক্রবর্তীরাও শান্ত করতে পারেননি। আলোচনায় টেবিলে বসার আগেই ভাঙচুর শুরু করে। মারধর করা হয় অফিসকর্মী থেকে শুরু করে মিটিংয়ে হাজির সকলকে। মহিলাদের গায়েও হাত তোলে এই বহিরাগতরা। মোবাইল কেড়ে নেওয়া হয়। এই ঘটনায় তাঁদের শিবিরের কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছে। যাঁদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

এদিকে, পার্টি অফিস ছেড়ে অনুপম হাজরা চলে যাওয়ার সময় রাস্তাতেই তাঁর গাড়ি আটকে স্লোগান দিতে থাকেন বিক্ষুব্ধ কর্মীরা। কোনওরকমে তাঁদের বুঝিয়ে এলাকা ছাড়েন অনুপম। অন্যদিকে, অরবিন্দ মেনন ও অমিতাভ চক্রবর্তীরা কার্যত “তাড়া” খেয়ে পার্টি অফিস থেকে বেরিয়ে নিজেদের গাড়িতে উঠে পড়েন।

আরও পড়ুন- বিরোধিতা সত্ত্বেও স্বাক্ষর রাষ্ট্রপতির, তৈরি হল নতুন কৃষি আইন

Related articles

২০২৩-এ পাস হওয়া বিল আনুন: মহিলা সংরক্ষণে বিজেপির মিথ্যাচারে দাবি প্রিয়াঙ্কার

বিলে রাষ্ট্রপতি স্বাক্ষর করলেন। তারপরেও বিল আইনে পরিণত হল না ৩ বছর ধরে। এবার ডিলিমিটেশনের ছাতার তলায় সেই...

মোহনবাগান সাফল্য পেলে কেন ব্যর্থ লখনউ? কারণ জানালেন গোয়েঙ্কা

আইপিএলে লখনউ সুপার জায়ান্টের (Lucknow Super Giants) মালিক এবং আইএসএলে মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের (Mohun Bagan Super Giant) প্রধান...

কত বড় জাতির নেতা! কাকে কটাক্ষ তৃণমূল সভানেত্রীর

শনিবার রাত সাড়ে ৮টায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। কী বিষয়ে জাতির উদ্দেশে ভাষণ...

শওকত আমার ডানহাত: নিরাপত্তা তুলে নেওয়ার চক্রান্তে সোচ্চার মমতা

নির্বাচনী আদর্শ আচরণবিধির নামে যথেচ্ছ নিয়ম বদল করে আরোপ করে চলেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি তারপরেও...