Tuesday, March 17, 2026

করোনা আবহে পুজো নিয়ে কী কথা লিখলেন শ্রীজাত?

Date:

Share post:

বাড়ির সামনে নানান রঙের ঝলমলে আলোর মালা দিয়ে সাজিয়েছে। মিথ্যে বলব না, হঠাৎ চলতে ফিরতে জানলার বাইরে চোখ চলে গেলে দিব্যি লাগছে। কেমন একটা খুশি ভাব যেন, যার কোনও ব্যাখ্যা নেই। গত বছরের পুজো দূর্বা আর আমি আলাদাই কাটিয়েছি। পেশার দায়ে অন্য মহাদেশের শহরে শহরে টহল দিচ্ছিলাম আমি, আর দূর্বা কলকাতার মণ্ডপসজ্জা ঝালিয়ে নিচ্ছিল। কথা ছিল, পরের পুজোয় আলো ভাগ করে নেব পাশাপাশি হেঁটে।

বেরনো যে যাবেই না বাড়ি থেকে, এতে দূর্বা এমনিতেই ভারী মুষড়ে পড়েছিল এ-বছর। তবু, ঠিক করেছিলাম, একসঙ্গে গান শুনে, ছবি দেখে, ভালমন্দ খাওয়াদাওয়া করে বাড়িতেই ঠেসাঠেসি কাটাব এবারের পুজো। মনখারাপ করলে মাঝেমধ্যে দু’জনে মিলে বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছাতিমের গন্ধ নেব, আর জানলা দিয়ে দেখব লাল-নীল-সবজে আলোর ঝিকমিক। কিন্তু সেটাও যে হবার জো থাকবে না, সে আর কে জানত।

আপাতত করোনায় আক্রান্ত হয়ে সে একটু কাবু। তবে, ওই একটুই। ক্লান্তি ছাড়া বিশেষ কিছু নেই। কিন্তু সবদিক বিবেচনা করে ঠিকানা বদলে নিয়ে আজ থেকে দূর্বা দক্ষিণ কলকাতার এক হাসপাতালে ভর্তি। ছ’তলার ঘরের জানলা দিয়ে নীচের আলো ঝলমল কলকাতা ওর মনখারাপ বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে, জানি। আর আমারও মন নিভে আসবে আলো দেখলে, পাড়ার মাঠে মাইক বাজতে শুনলে। একা একা ছাতিমগন্ধ এ-বয়সে আর ভাল লাগে না। দূরত্বের সুতো দিয়ে পুজো সেলাই করার বছর যে এটাও, আগে বুঝতে পারিনি। বাড়িতে আমরা কয়েকজন এখনও ঠিকই আছি, কিন্তু সাবধানের মার নেই বলে, একবার পরখ করে নেব।

এ-কথা বলতে দ্বিধা নেই, আমার এই মধ্যচল্লিশের সফরে, দূর্বা’র মতো লড়াকু মানুষ আমি খুব কম দেখেছি। গত দেড় দশকে যে-কোনও বিপন্নতায় বা বিপদে ওকে যেভাবে লড়ে যেতে দেখেছি, আমি তার অনেকটাই পারতাম না হয়তো। তাই আমি অন্তত নিশ্চিত, পুজোর ক’দিনে করোনাসুরকেই কাবু করে ছাড়বে ও। তাছাড়া যে-মানুষ খোদ আমার সঙ্গে এতগুলো বছর পার করেছে, করোনা তার কাছে নস্যি!

কেমন এক অসুখ এল আমাদের পৃথিবীতে, যেখানে প্রিয় মানুষের কাছে যাবার উপায় নেই, তার কপালে ঠোঁট ছুঁইয়ে আদর করার উপায় নেই, তার হাত মুঠোয় চেপে ধরে এই আশ্বাস দেবার উপায় নেই যে, ‘সব ঠিক হয়ে যাবে, আমি তো আছি পাশে’। তাই যেটুকু আস্থার বাতাস হাত নেড়ে পাঠানো যায়, যেটুকু স্পর্শের আদল ইশারায় বোঝানো যায়, সেটুকুই ওর জন্য রেখে ফিরে এলাম বাড়ি।

আমার পুজো, আমাদের পুজো এবার পিছিয়ে দিলাম ক’দিন। সারা শহরের আলোর রোশনাই চেহারায় নিয়ে দূর্বা যেদিন বাড়ি ফিরবে, সেদিনই বোধন, সেদিনই পুজো শুরু।

আরও পড়ুন- মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি আস্থা রেখে বিজেপি-সঙ্গ ত্যাগ করায় গুরুংকে স্বাগত তৃণমূলের

spot_img

Related articles

ট্রান্সজেন্ডার সংশোধনী বিল নিয়ে উদ্বেগ, NALSA রায়ের পক্ষে সরব যুব সমাজ

ট্রান্সজেন্ডার সম্প্রদায়ের (Transgender Rights) সদস্য ও বিভিন্ন নাগরিক সমাজ সংগঠন ট্রান্সজেন্ডার পার্সনস (প্রোটেকশন অফ রাইটস) অ্যাক্ট, ২০১৯–এর প্রস্তাবিত...

পিছিয়ে গেল মিনি ডার্বি, মোহনবাগানে ফের চোটের উদ্বেগ

ঈদের কারণে পিছিয়ে দেওয়া হল আইএসএলের(ISL) মিনি ডার্বি। ইস্টবেঙ্গল(East Bengal )বনাম মহামেডান(Mohamedan ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৩ মার্চ।...

তৃণমূলের তালিকায় সাংবাদিকতা জগতের ২ প্রার্থী কুণাল ও দেবদীপ

অনেক কঠিন সময়ে ক্ষুরধার যুক্তি দিয়ে দলের হয়ে লড়েন। নানা ঘাত-প্রতিঘাত সত্ত্বেও ছাড়েননি মমতা-অভিষেকের হাত। রাজ্যসভার সাংসদের পর...

গ্রেফতার করেও কেন্দ্রের সরকারের স্বৈরাচারী বাধা! জেলের কাহিনী শোনালেন সোনম

দেশের শান্তি নষ্ট করার চেষ্টা। বিদেশি এজেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ। লাদাখকে অশান্ত করার চেষ্টা। এরকম হাজারো মামলা তাঁর বিরুদ্ধে...