Tuesday, February 3, 2026

ফের ঘাসফুলের ঝুলিতে মিম নেতা! এবার তৃণমূলে যোগদান সাংগঠনিক প্রধানের

Date:

Share post:

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, একক বৃহত্তম দল হয়েও মিমের (AIMIM) জন্যই বিহারের ( Bihar) ক্ষমতায় আসতে পারেনি লালুপ্রসাদের (Lalu Prasad Yadav) দল। মুখ্যমন্ত্রীর (CM) কুরশিতে বসতে পারেননি তেজস্বী যাদব (Tejswi Yadav) বিহারে আরশাদ উদ্দিন ওয়েসির (Arshad Uddin Oyesi) দল নিজেদের নাক কেটে পরের যাত্রা ভঙ্গ করেছে। বিহারে তারা পরোক্ষে হাত শক্ত করেছে বিজেপি-নীতিশ কুমার জোটের।

এবার লক্ষ্য বাংলা। তাই বাংলার ভোট বাজারে ইতিমধ্যেই ঘোলা জলে মাছ ধরতে নেমে পড়েছে হায়দরাবাদের রাজনৈতিক দল মিম বা অল ইন্ডিয়া মজলিশে ইত্তেহাদুল মুসলেমিন। এই দলটি দীর্ঘদিন শুধুমাত্র হায়দরাবাদ ও পার্শ্ববর্তী এলাকাতেই ভোটের লড়াই লড়ে এসেছে। দলের প্রধান তথা সাংসদ আসাউদ্দিন ওয়েসি ইতিমধ্যেই রাজ্যে ঘুরে গিয়েছেন। বিধানসভা ভোটে প্রার্থী দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেছেন।

আরও পড়ুন : পুষ্পবৃষ্টিতে ৭৫০ মিটারের রোড শো নাড্ডার, রদবদল হল কর্মসূচি

খুব স্বাভাবিকভাবেই মিম এ রাজ্যে প্রার্থী দিলে বিজেপি (BJP) বিরোধী সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে থাবা পড়বে। তাতে সমস্যায় পড়তে পারে শাসক দল তৃণমূল (TMC)। সুবিধা পাবে বিজেপি। কিন্তু বিহার ভোটের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আগে থেকেই সতর্ক ঘাসফুল শিবির। ওয়েসির দল যাতে বিজেপিকে সুবিধা পাইয়ে দিতে না পারে, তার জন্য মিমের একের পর এক নেতা-কর্মীকে নিজেদের দিকে টেনে আনছে তৃণমূল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) দলের নেতাদের দাবি, সচেতন সংখ্যালঘু নেতারা মিম ছেড়ে চলে আসছেন তৃণমূলে। আগেই মিম ছেড়ে জোড়াফুলে এসেছেন আনোয়ার হোসেন পাশা। আর এদিন এলেন শেখ আব্দুল কালাম (Sk Abdul Kalam)।

আজ, শনিবার কলকাতার তৃণমূল ভবনে কালামের হাতে তৃণমূলের পতাকা তুলে দিয়ে তাঁকে দলে স্বাগত জানান রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ও রাজ্যসভার সাংসদ শান্তনু সেন। শেখ আব্দুল কালামের দাবি, তিনি এ রাজ্যে মিমের সাংগঠনিক প্রধান। এদিন আব্দুল কালামের সঙ্গে মিমের কয়েক হাজার কর্মী-সমর্থক তৃণমূলে নাম লিখিয়েছেন বলে দাবি রাজ্যের শাসকদলের।

এদিন কালাম তৃণমূলে যোগদান করে জানান, “বাংলায় শান্তির পরিবেশে ছিলাম, হঠাৎ এল বিষাক্ত হাওয়া, তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতকে শক্তিশালী করার জন্য মিম ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিলাম।”

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরে মিমের সাংগঠনিক প্রধান আরও বলেন, “বিজেপি জিতলে বাংলার তো ক্ষতিই হবে, রাজ্যের সংখ্যালঘু মানুষদেরও চূড়ান্ত ক্ষতি হবে। তাই সংখ্যালঘু মানুষদের কাছে আবেদন রাখবো বিজেপিকে একটিও ভোট নয়। এই রাজ্যে বিজেপিকে ঠেকাবার মতো ক্ষমতা রয়েছে কেবলমাত্র তৃণমূল কংগ্রেস ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের। দেশের কোনও সরকার ১০ কোটি মানুষকে বিনাপয়সার চিকিৎসা পরিষেবা দেবে না। বিনা পয়সার রেশন দেবে না। কন্যাশ্রী, স্বাস্থ্য সাথী সবুজসাথী দেবে না।”

Advt

spot_img

Related articles

রাজ্যে ফের কেন্দ্রীয় এজেন্সি হানা, মঙ্গলের সকালে দুর্গাপুর-আসানসোলে ইডি অভিযান

রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে ততই এজেন্সি দিয়ে বাংলার মানুষকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে বিজেপি (BJP)। গত...

৫০ বছর পর চাঁদের কক্ষপথে মানব অভিযানে NASA! ঘোষিত দিনক্ষণ 

‘অ্যাপোলো-১১’ অভিযানের ( Apollo 11 mission) প্রায় পাঁচ দশক পর ফের চাঁদের কক্ষপথে (lunar orbit) মার্কিন গবেষণা সংস্থার...

হলফনামা দিতে পারল না ED, সুপ্রিম কোর্টে পিছিয়ে গেল আইপ্যাক মামলার শুনানি 

দেশের শীর্ষ আদালতে পিছিয়ে গেল ইডি - আইপ্যাক মামলার শুনানি। নতুন দিন ঘোষণা আদালতের। আইপ্যাকের (IPAC) কলকাতা অফিসে...

মোদির মুখে ট্রাম্প-স্তুতি, ভারতীয় পণ্যের উপর শুল্ক কমালো আমেরিকা 

ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) প্রশংসায় পঞ্চমুখ ভারতের প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। মার্কিন প্রেসিডেন্টের আগ্রাসী নীতি, একের পর...