Monday, January 12, 2026

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আবারও বিশ্বনেতাদের সহযোগিতা চাইলেন হাসিনা

Date:

Share post:

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের ( Rohinga ) নিজ দেশে সম্মানজনক ও শান্তিপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আবারও বিশ্ব সম্প্রদায়ের ( World Community ) সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina )। বুধবার তিন দিনব্যাপী নবম ‘মস্কো আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সম্মেলনে’ ভিডিও-বার্তায় এ আহ্বান জানান তিনি। কক্সবাজারে ( Coxbazar) আশ্রয় নেওয়া ১০ লাখের বেশি মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিক বাংলাদেশ ও এ অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে আমরা তাদের আশ্রয় দিয়েছি। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে এখানে এত বিপুল সংখ্যক মানুষের আশ্রয়স্থল হতে পারে না। বিশ্ব সম্প্রদায়কে অনুরোধ করবো, মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিকদেরকে তাদের মাতৃভূমিতে সম্মানজনক ও শান্তিপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিতে আমাদের সহায়তা করুন।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘চার বছরের বেশি সময় ধরে জোরপূর্বক বিতাড়িত মিয়ানমারের ১.১ মিলিয়নের বেশি রোহিঙ্গা নাগরিককে বাংলাদেশ আশ্রয় দিয়ে আসছে। তারা বাংলাদেশ এবং এ অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি হিসেবে দেখা দিচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘একটি দেশের বিভিন্ন রাজ্যের মধ্যকার সংঘাত আন্তঃদেশীয় নিরাপত্তা সমস্যার জন্ম দেয়।’ সরকার প্রধান বলেন, ‘এখন নিরাপত্তা ধারণার মধ্যে সামরিক হুমকি, ব্যক্তির আর্ত-সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রয়োজন, স্বেচ্ছায় গণঅভিবাসন, পরিবেশগত নিরাপত্তা এবং অন্যান্য অপ্রচলিত নিরাপত্তা হুমকি অন্তর্ভুক্ত।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এমনকি সন্ত্রাসবাদ, চরমপন্থা, বিছিন্নতাবাদ, ব্যাপক বিধ্বংসী অস্ত্র, সাইবার অপরাধ, আঞ্চলিক কোন্দল এবং পরিবেশগত বিপর্যয়ের কারণে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার নতুন চ্যালেঞ্জ ও সমস্যা দেখা দিয়েছে।’

ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির প্রশংসা করেন শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধুকন্যা আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যসহ (Middle East) বিশ্বের অন্যান্য অংশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিরাজ করবে।’
কোভিড-১৯ (Covid-19) মহামারি প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বর্তমান সময়ে এটি বিশ্বের অন্যতম বড় সমস্যা। এটি শুধু লাখ লাখ জীবনই নেয়নি, অর্থনীতিকে বিধ্বস্ত করে দিয়েছে এবং সারা বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের জীবিকাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।’

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত এবং বিভিন্ন সেক্টরে প্রণোদনা (Incentive) প্রদানের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকার এই মহামারিবিরোধী লড়াইয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতা দেখিয়েছে।’

আরও পড়ুন- নন্দীগ্রাম-মামলার এজলাস বদলের দাবিতে এবার আইনি পথে মুখ্যমন্ত্রীর আইনজীবী

spot_img

Related articles

আইন রক্ষায় নিহত বাবা, তাঁরই ছেলে প্রতারণায় জেলে!

দু’দশক আগে এক বর্ষবরণের রাতে তিলোত্তমার বিবেক জাগিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। এক অপরিচিতা তরুণীর সম্মান বাঁচাতে মদ্যপ সহকর্মীদের সামনে...

IND vs NZ: নতুন বছরে বিরাটের ব্যাটিং বিক্রম, জয়ের মধ্যেও থাকল উদ্বেগের ছায়া

নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম একদিনের ম্যাচে ৪ উইকেটে জিতল ভারত। ২০২৫ সালেযেখানে শেষ করেছিলেন ২০২৬ সাল সেখান থেকেই শুরু...

সোমে মিলনমেলায় ডিজিটাল যোদ্ধাদের সঙ্গে বৈঠকে অভিষেক

বাংলা বহিরাগত জমিদারদের হাতে অপমানিত, লাঞ্ছিত। সেই বাংলাবিরোধীদের মিথ্যা ও অপপ্রচারের মোকাবিলায় তৃণমূল ময়দানে নামিয়েছে ডিজিটাল যোদ্ধাদের। ডিজিটাল...

অনুপ্রবেশকারী খুঁজবে AI! নির্বাচনে নতুন গ্যাঁড়াকল শিণ্ডে-ফড়নবিশ জোটের

ভোটের আগে ফের মাথা চাড়া দিচ্ছে মানুষের উপর নজরদারি আর হয়রানির রাজনীতি। পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন কমিশনের নতুন অ্যাপ ব্যবহার...