Sunday, January 11, 2026

পঞ্চায়েতের আগে ফের উত্ত*প্ত ভাঙড়! গণ্ডগোল করলে প্রতিরোধ হবে হুঁশিয়ারি তৃণমূলের   

Date:

Share post:

সামনেই পঞ্চায়েত নির্বাচন (Panchayat Election)। আর তার আগেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার ভাঙড় (Bhangar)। আইএসএফ (ISF) ও তৃণমূল (TMC) কর্মী সমর্থকদের সংঘর্ষে উত্তপ্ত পরিস্থিতি গোটা এলাকায়। সংঘর্ষে জখম হয়েছেন দু’পক্ষের বেশ কয়েকজন কর্মী সমর্থক। পাশাপাশি এলাকায় ব্যাপক বোমাবাজির অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার রাতে। এলাকায় দলীয় পতাকা লাগানোকে কেন্দ্র করে অশান্তির শুরু। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি আয়ত্তে আনে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে।

যদিও তৃণমূলের অভিযোগ, এলাকায় পতাকা লাগানোকে কেন্দ্র করে আরাবুল ইসলামের (Arabul Islam) উদ্দেশে গালিগালাজ করছিল আইএসএফ কর্মী সমর্থকরা। পরে তৃণমূল কর্মীরা প্রতিবাদ জানালে তাঁদের বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। সংবাদমাধ্যমকে এমনটাই জানিয়েছেন তৃণমূলের স্থানীয় নেতা হাকিমূল ইসলাম। তিনি আরও বলেন, কোনও কারণ ছাড়াই এলাকায় অশান্তি সৃষ্টি করেছে আইএসএফ। আমাদের কর্মীদের বেধড়ক মারধর করা হয়েছে। অনেকের আঘাত খুবই গুরুতর। তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

তবে তৃণমূলের অভিযোগ অস্বীকার করেছে আইএসএফ। ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার রাতেই হাড়োয়া এলাকায় পথ অবরোধ করেন আইএসএফ কর্মী-সমর্থকরা। সেই রেশ ধরে শনিবার সকালেও ভাঙড়ে উত্তেজনা ছড়ায়। এরপরই আইএসএফ কর্মী সমর্থকরা হাতিশালা মোড় অবরোধ করেন। টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন তাঁরা। এদিকে পরিস্থিতি সামাল দিতে বিশাল পুলিশবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। বেশ কিছুক্ষণের চেষ্টায় পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়। তবে এখনও উত্তপ্ত গোটা এলাকা। এদিকে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি। পাল্টা নওশাদ সিদ্দিকির (Naushad Siddiqui) গ্রেফতারির দাবিতে সরব তৃণমূল কংগ্রেস।

এদিকে ভাঙড়ের ঘটনায় সরব তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব। দলের মুখপাত্র তথা রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh) আইএসএফের নাম না করে সাফ জানান, এর আগেও ভাঙড়ে আমরা এমন ঘটনা সংবাদমাধ্যমে দেখেছি। বোমা বিস্ফোরণের ঘটনার সঙ্গে জড়িত যাদের নাম উঠে আসছে তারা তৃণমূলের কেউ নয়। একটি আলাদা সংগঠনের নাম উঠে আসছে। আর সেই সংগঠনের সাহায্য নিয়েই সিপিএম বা অন্য কেউ যদি কোনও গণ্ডগোল করে তার প্রতিরোধ হবে। পুলিশ, প্রশাসন আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছেন।

তৃণমূল সাংসদ শান্তনু সেনের (Shantanu Sen) অভিযোগ, তৃণমূলের দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চাপে কার্যত দিশেহারা বিজেপি। তারা বুঝতে পারছে না সিপিএম নাকি আইএসএফ কার হাত ধরে নির্বাচনী বৈতরণী পার করবে? সেকারণেই রাজ্যের একাধিক জায়গায় অশান্তি পাকাচ্ছে তারা।

 

 

 

spot_img

Related articles

আর কতদিন BLO-দের মোমবাতি মিছিল: জবাব চেয়ে নির্বাচন কমিশন দফতরের বাইরে বিক্ষোভ

একের পর এক মৃত্যু অব্যাহত। কেউ কাজের চাপে অসুস্থ হয়ে মারা যাচ্ছেন। কেউ আত্মঘাতী হতে বাধ্য হচ্ছেন। অথচ...

দুই মলাটে অলোকের আত্মজীবনী, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চাঁদের হাঁট

প্রকাশিত হল  প্রাক্তন ফুটবলার আলোক মুখোপাধ্যায়ের(Alok Mukherjee) আত্মজীবনী 'লাল কার্ডের বাইরে'।   রবিবার কলকাতার ক্রীড়া সাংবাদিক ক্লাবে এই বই...

বহিরাগত এনে তৃণমূল সমর্থকদের মার! উত্তপ্ত ভাঙড়

ফের বহিরাগত তাণ্ডব ভাঙড়ে(Bhangar Violence)। নির্বাচনের আগে বহিরাগতদের এলাকায় ঢুকিয়ে এলাকার শান্তি শৃঙ্খলা নষ্টের চেষ্টা প্রতিবারই করে একদল...

ইডিকে দিয়ে ওয়াটার গেট-২.০ কেলেঙ্কারি! পদত্যাগ করবেন মোদি-শাহ, প্রশ্ন তৃণমূলের

এ তো মোদি-শাহের ওয়াটার গেট কেলেঙ্কারি। ওয়াটার গেট কেলেঙ্কারি ২.০। ১৭ জুন, ১৯৭২-এর পর ৮ জানুয়ারি, ২০২৬। এবার...