সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর অশালীন, কুরুচিকর পোস্ট নিয়ে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। শুধু তৃণমূল নয়, এমন অপকর্মের জন্য দলের অন্দরেও গঞ্জনা সহ্য করতে হচ্ছে সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমকে। রাজনীতিতে পেরে না উঠে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় কুরুচিকর ও অশালীন মন্তব্য করে ঘরে-বাইরে প্রবল চাপের মুখে সেলিম। শালীনতার সীমা লঙ্ঘন করেছেন। ফের তাঁকে খোঁচা মারলেন তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক তথা মুখপাত্র কুণাল ঘোষ।


ঘরে-বাইরে চাপের মুখে থাকা সেলিম প্রসঙ্গে উঠতেই সিপিএম নেতাকে ফের নজিরবিহীন কটাক্ষ কুণালের। তাঁর কথায়, “আসলে মহম্মদ সেলিমের ছোটবেলা থেকে বেড়ে ওঠা এই বিষয়গুলির মধ্যে দিয়েই। তিনি যে বলছেন মাফিয়া, ডন, পতিতা। বুঝতে হবে এগুলোর সঙ্গে ছোট থেকেই তিনি পরিচিত। তাই তাঁর টুইটেও এই শব্দগুলি চলে এসেছে। খুব স্বাভাবিক ব্যাপার, ছোটবেলা থেকে যাদের যে সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয়, সেটাই বেরিয়ে যায়। এখন তাঁর দলের লোকেরাও প্রতিবাদ করছে।”
প্রসঙ্গত, অভিষেককে ব্যক্তিগতকৃ আক্রমণ করে টুইটে অশালীন শব্দ ব্যবহার, সিপিএমের অন্দরেও সেলিমকে সমালোচনার মুখে দাঁড় করিয়েছে। এমন শব্দ চয়ন মাথা হেঁট করে দিয়েছে সকলের। কিন্তু সমালোচনায় বিদ্ধ হয়েও টুইট নিয়ে কোনওরকম দুঃখপ্রকাশ করেননি সেলিম। বর্ষীয়ান নেতা হয়েও কোনও অনুতাপ নেই তাঁর মধ্যে। তবে আজ, মঙ্গলবার সকাল সকাল ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে টুইটের শব্দ পাল্টে ফেলেছেন তিনি। স্বভাবতই ব্যাকফুটে সিপিএম রাজ্য সম্পাদক।

অভিষেককে নিয়ে সোমবার সেলিম লিখেছিলেন, ‘‘অভিযোগ, তিনি (অভিষেক) তাঁর অসাধু সম্পদ রাখার করার জন্য ১৫ জন বিদেশি পতিতার অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেছিলেন।’’ টুইটে ইংরাজিতে ‘প্রস্টিটিউট’ শব্দটি লিখেছিলেন সিপিএম রাজ্য সম্পাদক। তা নিয়ে দলের মহিলা নেতৃত্বের একটা বড় অংশ নিন্দায় মুখর হয়েছিলেন। সেলিমের ভাষা চয়ন নিয়ে সিপিএমের অন্দরে প্রকাশ্যে অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের বক্তব্য ছিল, বামপন্থীরা ‘প্রস্টিটিউট’, ‘পতিতা’ বা ‘বারবণিতা’ শব্দগুলি ব্যবহার করে না। বরং সেই মহিলাদের সম্মানার্থে তাঁদের ‘যৌনকর্মী’ বলা হয়। যার ইংরেজি ‘সেক্স ওয়ার্কার’।

মঙ্গলবার সকালেই সেলিমের ফেসবুক পেজে একটি পোস্টার পোস্ট করা হয়েছে। সিপিএমের অনেক নেতা সেটি ‘শেয়ার’ও করেছেন। সেই পোস্টের দ্বিতীয় অংশে লেখা, “১৫ জন বিদেশি যৌনকর্মীর অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে টাকা পাচারে অভিযুক্ত।”

উল্লেখ্য, সেলিমের এমন আচরণ নিয়ে তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ টুইট করেছিলেন। তিনি লিখেছিলেন, ‘‘কয়েকবছর আগের কথা। পার্টির কাজ আছে বলে এক নামী নেতা বান্ধবীর সঙ্গে একটি রাজ্যের হোটেলে চলে যান। তাঁর বিমান এবং হোটেলের কাগজ তাঁর বাড়িতে দেন পার্টিরই আর এক নেতা। আমাদেরও দেন। চূড়ান্ত অশান্তি হয়। আমরা সৌজন্যের খাতিরে তখন ছাপিনি। এ বিষয়ে আপনার কিছু জানা আছে মহম্মদ সেলিম?’’ ফের সেলিমকে নজিরবিহীন কটাক্ষ কুণালের।

















