খায়রুল আলম, ঢাকা

শ্রম আইন লঙ্ঘনের অপরাধে নোবেলজয়ী (Nobel laureate) অর্থনীতিবিদ গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান ড. মহম্মদ ইউনুসকে (Mohammed Yunus) ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল ঢাকা আদালত। তবে আপিল করার শর্তে ইউনুস-সহ আসামীদের ১ মাসের জামিন দেওয়া হয়েছে। সোমবার বিকেল তিনটে নাগাদ ঢাকার শ্রম আদালতের বিচারক শেখ মেরিনা সুলতানা এ রায় ঘোষণা করেন।

এ মামলায় অন্য আসামীরা হলেন গ্রামীণ টেলিকমের এমডি আশরাফুল হাসান, পরিচালক নুরজাহান বেগম ও মো. শাহজাহান। তাঁদেরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে প্রত্যেককে ৩০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।


আসামীদের বিরুদ্ধে শ্রম আইনের ৩০৩ (ঙ) ধারায় সর্বোচ্চ ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ১০ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অপরদিকে ৩০৭ ধারায় ২৫ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেন আদালত।


পর্যবেক্ষণে আদালত বলে, আসামীপক্ষের আইনজীবীরা ইউনুসের বিষয়ে প্রশংসাসূচক বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন। তাঁকে দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়াই করা নোবেলজয়ী আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব বলা হয়েছে।
কিন্তু এ আদালতে নোবেলজয়ী (Nobel laureate) ইউনুসের বিচার হচ্ছে না। গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান হিসেবে বিচার হচ্ছে। বিচারক বলেন, ড. ইউনুস-সহ চারজনের বিরুদ্ধে শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

মামলার রায় শুনতে ইউনুস দেড়টা আদালত চত্বরে হাজির হন। এই মামলায় অন্য আসামিরাও হাজির হন। পরে দুপুর ২টা ১২ মিনিটে বিচারক এজলাসে ওঠেন এবং ২টা ১৩ মিনিটে রায় পড়া শুরু করেন। রায় ঘোষণার পর জামিন আবেদন করে আসামিপক্ষ। পরে আপিল আবেদনের শর্তে জামিন মঞ্জুর করে আদালত। সেই সঙ্গে আগামী এক মাসের মধ্যে উচ্চ আদালতে আপিলের সময় বেঁধে দেন আদালত।

এদিকে ইউনুসের রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে শ্রম আদালত ও এর আশপাশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়।









