Saturday, April 4, 2026

রাম মন্দির বিতর্কে নয়া মোড়, শঙ্করাচার্যদের অপমান বিজেপির কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর! 

Date:

Share post:

অযোধ্যার রাম মন্দির উদ্বোধনে যাচ্ছেন না দেশের চার শঙ্করাচার্য। অভিযোগ উঠেছে, মন্দির উদ্বোধনের নামে রাম নামের অপমান করা হয়েছে এবং হিন্দু ধর্মকে সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। সনাতন ধর্মের অবমাননা করা হচ্ছে অভিযোগ তুলে যখন দেশের শঙ্করাচার্যরা এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ গ্রহণ করেননি তখন তাঁদের বিরুদ্ধে কুৎসা অপপ্রচারের রাজনীতি শুরু করল বিজেপি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নারায়ণ রানে সরাসরি হিন্দু ধর্মের জন্য শঙ্করাচার্যদের অবদান নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিলেন। গোটা বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পরই সমাজতাত্ত্বিক ও হিন্দু ধর্ম বিশ্লেষকরা বলছেন অযোধ্যায় রাম মন্দির উদ্বোধন নিয়ে ক্রমাগত মোদি সরকারের দম্ভের ছবিটাই ফুটে উঠছে।

লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করতে শুরু করে দিয়েছে গেরুয়া শিবির। হিন্দুত্বের ধ্বজা ধরে ভোট বৈতরণী পার হওয়ার চেষ্টায় আগামী ২২ জানুয়ারি তড়িঘড়ি অসম্পূর্ণ রাম মন্দির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। আর এতেই সনাতন ধর্মের নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলছেন শঙ্করাচার্যরা। উত্তরাখণ্ডের জ্যোতিষপীঠের শঙ্করাচার্য স্বামী অভিমুক্তেশ্বরানন্দ সরস্বতী জানিয়েছেন, চার শংকরাচার্য সেদিন উপস্থিত থাকবেন না কেননা সনাতন ধর্মের নিয়ম এই অনুষ্ঠানে মানা হচ্ছে না।মন্দির পুরোপুরি তৈরি না করেই রামলালার প্রাণপ্রতিষ্ঠা একেবারেই শাস্ত্র বিরুদ্ধ। পুরীর শঙ্করাচার্য স্বামী নিশ্চলানন্দ সরস্বতীর দাবি, “মোদি সরকারের এই প্রচেষ্টা আসলে কোনও পবিত্র মন্দির নয়, এক সমাধিকে ঘিরে”। শীর্ষ ধর্মগুরুরা মনে করছেন, মোদিই থাকবে অনুষ্ঠানের একেবারে প্রথম সারিতে। এর ফলে সনাতন শাস্ত্রের দিকটি অবহেলিত হবে। এরপরই শঙ্করাচার্যদের সমালোচনা করতে আসরে নামেন পদ্ম শিবিরের নেতৃত্বরা। মহারাষ্ট্রের পালঘরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নারায়ণ রানে (Narayan Rane) বলেন, “ওঁদের মন্দিরকে আশীর্বাদ করা উচিত নাকি সমালোচনা করা উচিত? এর মানে হল শঙ্করাচার্যরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে (PM Modi) রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখেন। এই মন্দির রাজনীতির ভিত্তিতে নয়, ধর্মের ভিত্তিতে তৈরি। রাম আমাদের ভগবান। এরপরই তিনি প্রশ্ন করেন, “শঙ্করাচার্যরা বলুন হিন্দুধর্মের জন্য ওঁদের অবদান কী?” এরপরই নিন্দার ঝড় সর্বত্র।

ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করা বিজেপির চিরকালের অভ্যাস, কিন্তু তাই বলে সনাতন হিন্দু ধর্মের সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যকে নিয়ে ছেলেখেলা করার অধিকার বিজেপির নেই, এমনটাই মত বিরোধীদের। ধর্মকে হাতিয়ার করে মানুষের ভোট পেতে মরিয়া পদ্ম শিবিরের আচরণে তাঁদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য একেবারেই স্পষ্ট হয়ে গেছে সবার সামনে।

Related articles

বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদে বিপুল ভোটে জয়ে থাকল বর্তমানদের দাপট

সব বিতর্কের শেষ হল ভোট বাক্সেই। বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ (Bangiya Sahitya Parishat)-এর কর্মাধ্যক্ষ নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জিতলেন বর্তমান...

ভবানীপুরে গেরুয়া শিবিরের মিছিলে গোলমাল! ৪ পুলিশ আধিকারিককে সাসপেন্ড করল কমিশন

নির্বাচন কমিশন চলছে গেরুয়া শিবিরের আঙ্গুলিহেলনে। এই অভিযোগকেই কিছুটা মান্যতা দিয়েই শুভেন্দু অধিকারীর (Shuvendu Adhikari) রোড শো (Road...

গরমের সঙ্গে বাড়ছে আর্দ্রতা: পশ্চিমে দুর্যোগের পূর্বাভাস

মার্চের শেষ থেকেই ক্রমশ বাড়ছে বাংলার তাপমাত্রা। সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে আর্দ্রতা। তবে সেই গরমের কারণে রাজ্যের...

আমার থেকেও দ্রুত ব্যাট স্পিড: ১৫ বছরের বৈভবেই ভবিষ্যৎ দেখছেন যুবরাজ

বরাবর তিনি ঠোঁটকাটা হিসাবেই পরিচিত। একসময় নিজের অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় থেকে মহেন্দ্র সিং ধোনি, কাউকে নিয়েই স্পষ্ট কথায়...