Monday, March 16, 2026

বিজেপিকে সুবিধা দিতেই বাংলায় ৭ দফায় ভোট! ক্ষো.ভ তৃণমূলের

Date:

Share post:

লোকসভা ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। যেখানে প্রায় দেড় মাস ধরে সাত দফায় ভোট হবে বাংলায়। চাঁদি ফাটা রোদ আর প্রবল দাবদাহের মধ্যে ৭ দফায় ভোট! শনিবার নির্বাচন কমিশন ভোটের এই নির্ঘণ্ট ঘোষণার পরেই ক্ষোভে ফেটে পড়ল তৃণমূল। রাজ্যের শাসক দলের অভিযোগ, বিশেষ একটি রাজনৈতিক দলকে সুবিধা পাইয়ে দিতেই বাংলার ভোটের জন্য এমন সূচি বানিয়েছে কমিশন। তথ্য তুলে তৃণমূল দেখায়, যেখানে দেশের অনেক বড় বড় রাজ্যে ভোট হবে এক কিংবা দু’দফায়, সেখানে বাংলার প্রতি কমিশনের এমন আচরণ কেন?

এদিন তৃণমূলের তরফে একটি সাংবাদিক বৈঠক করেন রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ও দলের শ্রমিক সংগঠনের নেতা ঋতব্রত ব্যানার্জি। তাঁরা বলেন, “আমরা বার বার বলেছিলাম পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে এই নির্বাচনের একটি বা দু’টি দফায় হোক। কিন্তু দেখলাম আগের মতোই ৭ দফায় নির্বাচন ঘোষণা করা হল পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে। যেখানে দেশেরই অনের বড় বড় রাজ্যে এক বা দু’ দফায় ভোট মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে।’’

ঋতব্রত একটি তথ্য তুলে ধরেন। যেখানে বাংলার থেকে লোকসভার আসন সংখ্যা মাত্র তিনটি কম তামিলনাড়ুতে (৩৯)। সেখানে এক দফাতেই ভোট ঘোষণা করেছে কমিশন। আবার ২৫ টি আসনের অন্ধ্রপ্রদেশ, ২৬ আসনের গুজরাতেও ভোট হবে এক দফায়। ২৮টি আসনের কর্নাটক এবং ২৫টি লোকসভা আসনের রাজস্থানে দু’দফায় ভোট হবে বলে শনিবার জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আবার বাংলার থেকে আসন সংখ্যা বেশি ৪৮ আসনের মহারাষ্ট্রেও ভোট হবে পাঁচ দফায়। অথচ ৪২ আসনের বাংলায় সাত দফায় ভোট।

চন্দ্রিমা বলেন, ‘‘২০১৯ সালেও সাত দফায় ভোট হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গে। ২০২১ সালের বিধানসভায় ভোট হয়েছিল আট দফায়। কিন্তু সেবার বলা হয়েছিল, কোভিডের জন্য দফা বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এ বার তো কোভিড নেই। এ বার তা হলে কী হয়েছে? এ বার কেন সাত দফায় ভোট করানো হল?’’

তৃণমূলের আরও দাবি, “এত দফায় ভোট হলে ভোটার সংখ্যা কমে যায়। ভোট কম পড়ে। এর আগেও ২০১৯ সালে সাত দফায় ভোট হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গে। সে বারও দেখা গিয়েছিল ভোটার সংখ্যা কমেছে। তারও আগে ২০১৪ সালে ৯ দফায় ভোট হয় বাংলায়। এতে ভোটারদের অসুবিধা হয় আর সুবিধা পায় অর্থনৈতিক ভাবে ক্ষমতাবান রাজনৈতিক দলগুলি। অর্থবান দলগুলি তাদের টাকা কাজে লাগিয়ে ভোটের ফল নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। তাদের পূর্ণ ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে। অন্য দিতে অর্থনৈতিক ভাবে দুর্বল রাজনৈতিক দল গুলি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং পিছিয়ে পড়ে।”

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারকে কটাক্ষ করে চন্দ্রিমা বলেন, “ম্যাচ খেলতে নামবে যে ক্রিকেট দল তাদেরই ক্যাপ্টেন ঠিক করে দিচ্ছেন আম্পায়ার কে হবে। নির্বাচন কমিশনের প্রতি পূর্ণ সম্মান রেখেই বলছি, একে কি পক্ষপাতহীন নির্বাচন বলা যায়?”

আরও পড়ুন- বিজেপি ছাড়লেন অজয় প্রতাপ সিং, এবার কী ‘হাত’ ধরার পথে

 

 

spot_img

Related articles

ঝুলে ৬০ লক্ষ নাম, দ্রুত ভোটার তথ্যের জট কাটাতে তৎপর কমিশন 

রাজ্যে এখনও বিবেচনাধীন তালিকায় ঝুলে রয়েছে প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম। তবে সেই সংখ্যা দ্রুত কমানোর উদ্যোগ নেওয়া...

আরসিবির স্বস্তি, বিরাটদের জন্য চিন্নাস্বামীর দরজা খুলে দিল কর্নাটক সরকার

আইপিএল(IPL) শুরুর আগেই স্বস্তিতে আরসিবি (RCB)। অনিশ্চয়তার পর অবশেষে বিরাট কোহলিদের চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে আইপিএল(IPL) ম্যাচ আয়োজনের অনুমতি দিল...

হাইকোর্টে নওশাদ, SIR সম্পূর্ণ না হওয়ায় ভোট পিছোনোর দাবি বিধায়কের

রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন, এই অভিযোগ তুলে কলকাতা হাই...

সর্বদলীয় বৈঠকে তৃণমূলের প্রশ্নের মুখে CEO! অনিশ্চিত ‘বিচারাধীন ভোটার’দের ভবিষ্যৎ

ভোটের দামামা বাজছে রাজ্যজুড়ে (West Bengal Election 2026)। ১৫ মার্চ ঘোষণা করা করা হয়ছে রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের সূচি।...