Sunday, May 17, 2026

বিজেপিকে সুবিধা দিতেই বাংলায় ৭ দফায় ভোট! ক্ষো.ভ তৃণমূলের

Date:

Share post:

লোকসভা ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। যেখানে প্রায় দেড় মাস ধরে সাত দফায় ভোট হবে বাংলায়। চাঁদি ফাটা রোদ আর প্রবল দাবদাহের মধ্যে ৭ দফায় ভোট! শনিবার নির্বাচন কমিশন ভোটের এই নির্ঘণ্ট ঘোষণার পরেই ক্ষোভে ফেটে পড়ল তৃণমূল। রাজ্যের শাসক দলের অভিযোগ, বিশেষ একটি রাজনৈতিক দলকে সুবিধা পাইয়ে দিতেই বাংলার ভোটের জন্য এমন সূচি বানিয়েছে কমিশন। তথ্য তুলে তৃণমূল দেখায়, যেখানে দেশের অনেক বড় বড় রাজ্যে ভোট হবে এক কিংবা দু’দফায়, সেখানে বাংলার প্রতি কমিশনের এমন আচরণ কেন?

এদিন তৃণমূলের তরফে একটি সাংবাদিক বৈঠক করেন রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ও দলের শ্রমিক সংগঠনের নেতা ঋতব্রত ব্যানার্জি। তাঁরা বলেন, “আমরা বার বার বলেছিলাম পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে এই নির্বাচনের একটি বা দু’টি দফায় হোক। কিন্তু দেখলাম আগের মতোই ৭ দফায় নির্বাচন ঘোষণা করা হল পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে। যেখানে দেশেরই অনের বড় বড় রাজ্যে এক বা দু’ দফায় ভোট মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে।’’

ঋতব্রত একটি তথ্য তুলে ধরেন। যেখানে বাংলার থেকে লোকসভার আসন সংখ্যা মাত্র তিনটি কম তামিলনাড়ুতে (৩৯)। সেখানে এক দফাতেই ভোট ঘোষণা করেছে কমিশন। আবার ২৫ টি আসনের অন্ধ্রপ্রদেশ, ২৬ আসনের গুজরাতেও ভোট হবে এক দফায়। ২৮টি আসনের কর্নাটক এবং ২৫টি লোকসভা আসনের রাজস্থানে দু’দফায় ভোট হবে বলে শনিবার জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আবার বাংলার থেকে আসন সংখ্যা বেশি ৪৮ আসনের মহারাষ্ট্রেও ভোট হবে পাঁচ দফায়। অথচ ৪২ আসনের বাংলায় সাত দফায় ভোট।

চন্দ্রিমা বলেন, ‘‘২০১৯ সালেও সাত দফায় ভোট হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গে। ২০২১ সালের বিধানসভায় ভোট হয়েছিল আট দফায়। কিন্তু সেবার বলা হয়েছিল, কোভিডের জন্য দফা বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এ বার তো কোভিড নেই। এ বার তা হলে কী হয়েছে? এ বার কেন সাত দফায় ভোট করানো হল?’’

তৃণমূলের আরও দাবি, “এত দফায় ভোট হলে ভোটার সংখ্যা কমে যায়। ভোট কম পড়ে। এর আগেও ২০১৯ সালে সাত দফায় ভোট হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গে। সে বারও দেখা গিয়েছিল ভোটার সংখ্যা কমেছে। তারও আগে ২০১৪ সালে ৯ দফায় ভোট হয় বাংলায়। এতে ভোটারদের অসুবিধা হয় আর সুবিধা পায় অর্থনৈতিক ভাবে ক্ষমতাবান রাজনৈতিক দলগুলি। অর্থবান দলগুলি তাদের টাকা কাজে লাগিয়ে ভোটের ফল নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। তাদের পূর্ণ ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে। অন্য দিতে অর্থনৈতিক ভাবে দুর্বল রাজনৈতিক দল গুলি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং পিছিয়ে পড়ে।”

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারকে কটাক্ষ করে চন্দ্রিমা বলেন, “ম্যাচ খেলতে নামবে যে ক্রিকেট দল তাদেরই ক্যাপ্টেন ঠিক করে দিচ্ছেন আম্পায়ার কে হবে। নির্বাচন কমিশনের প্রতি পূর্ণ সম্মান রেখেই বলছি, একে কি পক্ষপাতহীন নির্বাচন বলা যায়?”

আরও পড়ুন- বিজেপি ছাড়লেন অজয় প্রতাপ সিং, এবার কী ‘হাত’ ধরার পথে

 

 

Related articles

ISL: স্বপ্নপূরণের সন্ধিক্ষণে ইস্টবেঙ্গল, ডার্বির টিম কম্বিনেশনে চমক দেবেন অস্কার?

রবিবার আইএসএলে সুপার সানডে।  চলতি আইএসএলে খেতাব নির্ণায়ক ম্যাচ রবিবাসরীয় ডার্বি। দীর্ঘ ২ দশকের খরা কাটানোর সুযোগ ইস্টবেঙ্গলের(East...

কোটি টাকার হাতঘড়ি থেকে রহস্যময় ডায়েরি, শান্তনু-জয়ের ‘যোগসূত্র’ নিয়ে বিস্ফোরক ইডি

প্রমোটার, পুলিশ এবং প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা— এই তিন শক্তির মেলবন্ধনেই কি চলত জমি দখল আর বেআইনি নির্মাণের রমরমা...

IPL: গিল ঝড় থামিয়ে ইডেনে স্বস্তির জয়, টিকে রইল কেকেআরের প্লে-অফের আশা

আইপিএলে(IPL) গুজরাট টাইটান্সকে ২৯ রানে হারাল কেকেআর(KKR), টিকে থাকল প্লে অফের আশা। প্লে অফের লড়াইয়ে থাকতে এই ম্যাচে...

সবুজ সঙ্কেত নবান্নের! কেন্দ্রেরই হাতে যাচ্ছে উত্তরবঙ্গ ও সীমান্তের সাতটি জাতীয় সড়ক

রাজ্যের সাতটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সড়ক প্রকল্পের দায়িত্ব আনুষ্ঠানিক ভাবে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ এবং জাতীয় মহাসড়ক ও পরিকাঠামো সংস্থার...