পশ্চিম আফ্রিকার নাইজারের তিল্লাবেরি অঞ্চলে ছয়জন ভারতীয় পরিযায়ী শ্রমিককে অপহরণ করেছে সশস্ত্র জঙ্গিরা। গত ২৫ এপ্রিল ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ঝাড়খণ্ডের গিরিডি জেলায়, যেখানকার বাসিন্দা এই শ্রমিকরা। তাঁরা কল্পতরু প্রোজেক্টস ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড নামে একটি নির্মাণ সংস্থায় কর্মরত ছিলেন।

অপহৃতরা হলেন—সঞ্জয় মাহাতো, রাজু মাহাতো, চন্দ্রিকা মাহাতো, ফালজিত মাহাতো, উত্তম মাহাতো এবং নাইজারের এক স্থানীয় নাগরিক আদম। প্রত্যক্ষদর্শী শ্রমিক মোজিলাল মাহাতো জানিয়েছেন, “প্রায় ৭০-৮০ জন অস্ত্রধারী মোটরসাইকেলে এসে আমাদের ধাওয়া করে। আমরা কয়েকজন পালাতে পারলেও, বাকিদের ধরে নিয়ে যায় তারা।”
উল্লেখযোগ্য, এই অঞ্চলটি আল কায়েদা ও ইসলামিক স্টেট ঘনিষ্ঠ জঙ্গি সংগঠনের দখলে বলে আন্তর্জাতিক মহলে পরিচিত। অপহরণের মাত্র একদিন আগে এই ত্রি-সীমান্ত অঞ্চলের সাকোইরা গ্রামে এক জঙ্গি হামলায় নাইজারের ১২ জন সেনা নিহত হন।

ভারতের বিদেশ মন্ত্রণালয় ও নাইজারে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত এবং সক্রিয়ভাবে উদ্ধার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। পরিবারগুলির উদ্বেগ চরমে। অপহৃত সঞ্জয় মাহাতোর স্ত্রী সোনি দেবী বলেন, “আমার সন্তানেরা শুধু জানতে চায়, বাবা কোথায়।”

কোম্পানির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট পি জগন্মোহন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্করের কাছে সোশ্যাল মিডিয়ায় হস্তক্ষেপের অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “গত তিন বছরে নাইজারে আমাদের সঙ্গে এমন কিছু ঘটেনি। এই ঘটনা অভাবনীয়।”

বর্তমানে নাইজারে আনুমানিক ১২৫ জন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন, যাঁদের অধিকাংশই ব্যবসা ও হসপিটালিটি শিল্পে কর্মরত। ঝাড়খণ্ড সরকারের অধীনে থাকা স্টেট মাইগ্রেশন কন্ট্রোল রুম জানিয়েছে, তারা সংস্থাটির সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছে এবং আপাতত সব কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে।

এই অপহরণকাণ্ড শুধু ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে নয়, গোটা পরিযায়ী শ্রমিক সমাজের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এমন সংকটে কেন্দ্রীয় সরকারের আরও তৎপর ও কূটনৈতিক হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

আরও পড়ুন – কড়া নজরদারিতে রাজ্য নির্বিঘ্নে হল নিট পরীক্ষা
_
_
_
_
_
_
_
