কুৎসার রাজনীতিতে অভ্যস্ত গেরুয়া শিবিরের নিশানায় দক্ষিণ কলকাতার তৃণমূল ছাত্র পরিষদের (TMCP) সভাপতি সার্থক বন্দ্যোপাধ্যায় (Sarthak Banerjee)। তাঁর বিরুদ্ধে বিপুল সম্পত্তি থাকার অভিযোগ তুলে নিজেদের স্যোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করে BJP। এর বিরুদ্ধে স্যোশাল মিডিয়াতেই (Social Media) পোস্ট করে পদ্মশিবিরকে আক্রমণ করলেন সার্থক। তাঁর কথায়, মিথ্যে তথ্য পরিবেশন করে আর কতদিন সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করবে বিজেপি?

নিজেদের পোস্টে কী লিখেছিল পদ্ম শিবির। সোমবার, সকালে নিজেদের ফেসবুকে কসবা ল কলেজের গণধর্ষণে অভিযুক্ত মনজিৎ মিশ্রর সঙ্গে সার্থকের নাম জড়িয়ে বিজেপি অভিযোগ করে,
“সার্থক ব্যানার্জী এতটাই প্রভাবশালী যে কলেজের অধ্যক্ষ মানস কবিরকে পাশে বসিয়ে কলেজ ক্যাম্পাসের ভেতরেই তৃণমূল ছাত্র পরিষদের বৈঠক পরিচালনা করেন। কলেজ এখন যেন তৃণমূলের ব্যক্তিগত কার্যালয়!
শুধু তাই নয় তৃণমূলের মতো গরীব দলের এমন এক “সাধারণ ক্লার্ক”-এর নামে—
সম্পত্তির যা তালিকা, তা দেখে বড় বড় ব্যবসায়ীরাও চোখ কপালে তুলবেন:
১. কালীঘাটে নিজের নামে একাধিক সম্পত্তি
২. কালীঘাটে পিতার নামে সম্পত্তি
৩. কালীঘাটে মায়ের নামে তিনটি সম্পত্তি
৪. যাদবপুরে নিজের নামে দুটি ফ্ল্যাট ও একটি গ্যারেজ
৫. উদয় শঙ্কর সরণিতে পিতার নামে দুটি ফ্ল্যাট
৬. আমতলায় মায়ের নামে দুটি ফ্ল্যাট
৭. উদয় শঙ্কর সরণিতে মায়ের নামে আরেকটি ফ্ল্যাট
প্রশ্ন একটাই—এই অগাধ সম্পদের উৎস কী? ক্লার্কের মাইনে দিয়েই কি এই সাম্রাজ্য গড়ে ওঠে?”
এই পোস্ট নিজের ফেসবুকে (Social Media) পোস্ট করে সার্থক পাল্টা ধুয়ে দেন গেরুয়া শিবিরকে। তিনি লেখেন,
”এইভাবে একের পর এক মিথ্যে তথ্য পরিবেশন করে বিজেপি আর কতদিন সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করবে? গুজব ছড়ানো, চরিত্র হননের চেষ্টা, এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার চালানো- এই নোংরা রাজনীতি ওদের একমাত্র অস্ত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আমার বা আমার পরিবারের সম্পর্কে যেসব মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য পরিবেশন করা হয়েছে, সেগুলো শুধুমাত্র মানহানিকরই নয়, বরং তা আমার সামাজিক অবস্থান ও ব্যক্তিগত ভাবমূর্তিকে কালিমালিপ্ত করার সামিল। একজন নাগরিক হিসেবে আমারও সম্মানের অধিকার আছে, এবং তা এভাবে হেয় করার অধিকার কারুর নেই।
আমি খুব শীঘ্রই এই বিষয়ে আইনের দ্বারস্থ হতে চলেছি। ন্যায়বিচারের প্রতি আমার পূর্ণ আস্থা আছে, এবং বিশ্বাস করি—এই ধরনের মিথ্যাচার ও কুৎসা রটনার কণ্ঠরোধ একমাত্র আইনেই সম্ভব।
সত্য সবসময়ই নিজের পথ খুঁজে নেয়—তাই আমি নিশ্চিত, সত্যের জয় হবেই।”

শেষে দক্ষিণ কলকাতার তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভাপতির অভিযোগ তাঁকে কোণঠাসা করতেই বিজেপির এই অপচেষ্টা। তবে, তিনি তাতে একেবারেই বিচলিত নন বলেই জানান সার্থক। তাঁর কথায়,
”আর সর্বশেষে বলি যতই আমাকে আক্রমণ করো, আমার গলা কেটে দিলেও কাটা গলা থেকে দুটোই কথা বেরোবে:
Abhishek Banerjee জিন্দাবাদ।
Mamata Banerjee জিন্দাবাদ।”

–

–

–

–
–
–
–
–
–
–
