একাধিক নির্বাচনে পরপর পরাজয়ের পর প্রতিহিংসার রাজনীতিতে নামছে বিজেপি— এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ তুলল তৃণমূল কংগ্রেস। দলের বক্তব্য, রাজ্য নয়, সরাসরি কেন্দ্রের মদতে বাংলাকে প্রশাসনিক ও সাংস্কৃতিকভাবে কোণঠাসা করার পরিকল্পনা করছে বিজেপি নেতৃত্ব। তৃণমূলের দাবি, বাংলা ভাষাভাষী শ্রমিকদের বিজেপি-শাসিত রাজ্যে “অবৈধ বাংলাদেশি” বলে হেনস্তা করা হচ্ছে; গ্রেফতার করে সীমান্ত পেরিয়ে পাঠানোর ঘটনাও ঘটছে বারবার। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুধবার এক জনসভায় বলেন, “বাঙালিদের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে এনআরসি‑র ভীতি দেখানো হচ্ছে। এটা বাংলার বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ।”

দলের মহাসচিব সুব্রত বক্সীর অভিযোগ, ২০২৬‑এর ভোটের আগে ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ নামে ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ প্রক্রিয়া চাপিয়ে লক্ষ লক্ষ বাঙালিকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার ছক কষেছে বিজেপি। বক্সীর কথায়, “বিএসএফ‑এর সাহায্যে শ্রমিকদের জোর করে সীমান্তের ওপারে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে— এটা সাংস্কৃতিক নিধন।”
তৃণমূলের আক্রমণের জবাবে বিজেপি রাজ্য নেতৃত্ব জানায়, “অভিযোগ ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।” রাজনৈতিক বিশ্লেষক সুদীপ্ত মুখোপাধ্যায় মনে করেন, টানা ভোট পর্ব কাটতেই দিল্লি‑কলকাতা টানাপোড়েন নতুন পর্যায়ে পড়েছে। “এনআরসি‑ভীতি ও শ্রমিক হেনস্তা— দু’পক্ষই বিষয়টিকে ভোটকৌশল হিসেবে ব্যবহার করছে,” মত তাঁর। ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের দফতরে একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে বলে সূত্রের খবর। প্রশাসন কতটা নিরপেক্ষভাবে পদক্ষেপ নেয়, তা নিয়েই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।

আরও পড়ুন – সার্থককে নিশানা করে কুৎসার রাজনীতি বিজেপির! মোক্ষম জবাব দক্ষিণ কলকাতার TMCP সভাপতির

_

_

_

_
_
_
_
_
_
_
