বিজেপি ও তার সহযোগী রাজ্যগুলিতে অশিক্ষার অন্ধকার দূর করতে বিজেপি নিজেই মূল বাধা। গো-বলয়ের রাজ্যগুলিতে মহিলা, দলিত বা নিম্নবর্গের মানুষের সঙ্গে পশুর মতো ব্যবহার নিত্য দিনের ঘটনা। নীতীশ কুমারের (Nitish Kumar) বিহারেও তার এতটুকু ব্যতিক্রম হল না। আদিবাসী ওঁরাও (Oraon) পরিবারের সদস্যদের উপর ডাইনি অপবাদ দিয়ে রাতের অন্ধকারে পিটিয়ে (lunching) জীবন্ত পুড়িয়ে মারা (burnt alive) হল পাঁচজনকে। প্রায় ২৫০ গ্রামবাসী ঘটনা ধামাচাপা দিতে চেষ্টা চালায় পোড়া দেহ লোপাটেরও। ঘটনায় এক ওঝার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ পরিবারের অন্যান্যদের।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিহারের (Bihar) পূর্ণিয়া জেলার রজীগঞ্জ পঞ্চায়েতের টেটগমা গ্রামে এক ওঁরাও পরিবারের বিরুদ্ধে তাদেরই আত্মীয়রা ডাইনির অভিযোগ তোলে। রামদেব ওঁরাও-এর ছেলের কোনও কারণে মৃত্যু হয়। এরপর রামদেবের ভাইপো হঠাৎই অসুস্থ হয়ে পড়ে। গ্রামের এক ওঝা নকুল ওঁরাও মত দেয় বাবুলাল ওঁরাও-এর পরিবারে ডাইনি রয়েছে। তাদের জন্য রামদেবের পরিবারের ছেলেদের মৃত্যু ও অসুস্থতা। অভিযোগ ওঠে বাবুলালের মা কাতো মোসমাত, স্ত্রী সীতা দেবির দিকে। তারাই কারসাজি করে এই সব করছে বলে নিদান দেয় ওঝা।
এরপরই রবিবার মধ্যরাতে প্রায় ৩টের সময় গ্রামের প্রায় ২৫০ বাসিন্দা বাবুলাল ওঁরাও-এর বাড়িতে হানা দেয়। ঘর থেকে ঘুমন্ত বাবুলাল, তার স্ত্রী সীতা দেবী, মা কাতো মোসমাত, ছেলে মনজিত ওঁরাও ও ছেলের স্ত্রী রানী দেবীকে টেনে হিঁচড়ে বের করে। গ্রামের একটি পুকুরের ধারে তাদের বেধড়ক মারা (lynching) হয়। এরপর তাদের গায়ে জীবন্ত অবস্থায় পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে দেওয়া হয় (burnt alive)।

সোমবার সকালে ঘটনা জানাজানি হতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান পূর্ণিয়ার (Purnea) পুলিশ সুপার (SP) সুইটি শহরাওয়ত। এছাড়াও একাধিক থানার আধিকারিকরা ঘটনার তদন্তে পৌঁছান গ্রামে। খুঁজে বের করা হয় পোড়া দেহ। নিহতদের পরিবারের তরফে সোনু ও ললিত ছিলেন ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী। তাঁরাই পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন।

আরও পড়ুন: তৃণমূলের দেখানো পথে ৯ বিরোধী দল: কমিশনের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে

প্রাথমিকভাবে গ্রামে পৌঁছে পাঁচজনের নিখোঁজ হওয়ার খবর পায় পুলিশ। গোটা গ্রাম খবর ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালায়। পরে অভিযোগ অনুসারে ওঝা নকুল ওঁরাওকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে পুলিশ। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে রামদেব ওঁরাও-কেও হেফাজতে নেওয়া হয়। ঘটনায় প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে বিহার পুলিশ (Bihar police)। দেহগুলি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

–

–
–
–
–
–
–
–
