Wednesday, February 4, 2026

ভেঙে ফেলা বাড়িটি সত্যজিতের নয়! আজব দাবি বাংলাদেশি আধিকারিকের

Date:

Share post:

গত কয়েকদিন ধরেই ময়মনসিংহে ভেঙে ফেলা সত্যজিৎ রায়ের (Satyajit Ray) পূর্বপুরুষের বাড়িটি নিয়ে দুই বাংলার মধ্যে চলছে বিতর্ক। এবার বাংলাদেশের (Bangladesh) উল্টো বক্তব্যে নতুন করে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। কিছুদিন আগেই জানান হয়েছিল যে, বাড়ি ভাঙার কাজ আপাতত স্থগিত করা হয়েছে এবং বিশেষ কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

এবার ময়মনসিংহের জেলা শাসক (ডেপুটি কমিশনার) মোফিদুল আলম বুধবার জানিয়েছেন সরকারি নথি খতিয়ে দেখে প্রমাণিত হয়েছে ওই বাড়িটি শিশুকল্যাণ সংস্থার পুরনো অফিসের এবং কোনমতেই সত্যজিৎ রায়ের (Satyajit Ray) পরিবারের সম্পত্তি নয়। স্থানীয় প্রবীণদের সঙ্গে এই নিয়ে কথা বলেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখেই ভাঙার কাজ হচ্ছিল। এই ঘটনা প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসনের তরফে বলা হয়েছে সত্যজিৎ রায়ের পূর্বপুরুষদের বাড়ি ‘দুর্লভ হাউস’ এখনও অক্ষত রয়েছে। বলা হয়েছে দুর্লভ হাউসের বর্তমান মালিকের সঙ্গে কথা বলার পর জানা গিয়েছে তাঁরা রায় পরিবারের কাছ থেকেই বাড়িটি কিনেছেন এবং বৈধ নথি রয়েছে। যে বাড়িটি ভাঙা হচ্ছে সেটি সম্পূর্ণ অন্য একটি বাড়ি। ভুলবশতঃ সেটিকে রায় পরিবারের ভিটে বাড়ি বলে ধরে নেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, বহু বছর এই বাড়িটি বাংলাদেশ শিশু অ্যাকাদেমির ময়মনসিংহ জেলার অফিস হিসাবে ব্যবহৃত হত। শিশু অ্যাকাদেমিই বাড়িটি ভেঙে বহুতল করার তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাড়িটির সামনের অংশের প্রায় পুরোটাই ভাঙা হয়ে গিয়েছে তবে এই অবস্থায় বাংলাদেশ সরকারের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ হস্তক্ষেপ করায় আপাতত কাজ বন্ধ আছে। ময়মনসিংহ শিশু অ্যাকাদেমির জেলা শিশুবিষয়ক এক আধিকারিক জানিয়েছেন বাড়িটি এতটাই পুরোনো যে প্রায় অনেকটা অংশ ভেঙে পড়ছিল। সুরক্ষার কথা ভেবেই ২০০৭ থেকে শিশু অ্যাকাদেমি আর বাড়িটি ব্যবহার করত না। এরপর অবশেষে অনুমতি নিয়ে সেখানে বহুতল তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের (Bangladesh) তরফে যদিও এই বিভ্রান্তিকর ঘটনাটিকে ‘ভুল বোঝাবুঝি’ বলে অভিহিত করা হয়েছে এবং আশ্বস্ত করা হয়েছে যে রায়ের পৈতৃক সম্পত্তি সুরক্ষিত থাকবে। অন্যদিকে সত্যজিৎ রায়ের বাড়ি ভাঙার খবরে উদ্বেগ প্রকাশ করে ভারত। এমনকি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও সরাসরি এই ঘটনার প্রতিবাদ করেন। তবে বাংলাদেশ জানিয়ে দেয় সত্যজিৎ রায়ের পৈতৃক ভিটে ভাঙার ঘটনা নিয়ে দুই বাংলায় যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা ‘ভুল বোঝাবুঝি’। ভগ্নদশা হওয়ার ফলেই সুরক্ষার কথা ভেবে এই বাড়িটি ভাঙা শুরু হয়েছিল। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে নতুন করে সেখানে একটি অত্যাধুনিক মানের ভবন নির্মাণ করে সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

spot_img

Related articles

ধনীদের ছাড়, দরিদ্রদের উপর রোজগারের দায়: ১২ ফেব্রুয়ারি ধর্মঘটের ডাক CPI(ML)-এর

কেন্দ্রীয় বাজেটের অন্তঃসারশূন্যতা নিয়ে গোটা দেশে আলোচনা অব্যাহত। যেভাবে দেশের সাধারণ মানুষের উপর থেকে ভার লাঘব করার বদলে...

আগাম জামিন খারিজ: আরজিকর দুর্নীতিতে আখতারকে এবার হেফাজতে নিতে পারে CBI

আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের আর্থিক দুর্নীতির মামলায় হাসপাতালের প্রাক্তন ডেপুটি সুপার আখতার আলির আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে...

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশেও অধরা! দত্তাবাদে স্বর্ণব্যবসায়ী খুনে চার্জশিটে নাম নেই অপসারিত বিডিওর

সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছিল, বেঁধে দিয়েছিল সময়সীমাও। তবু এখনও বেপাত্তা রাজগঞ্জের অপসারিত বিডিও প্রশান্ত বর্মন।...

ভিনরাজ্যে ফের মৃত্যু বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকের, মুম্বইয়ে রেললাইনের ধারে মিলল দেহ

ফের ভিনরাজ্যে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকের রহস্যমৃত্যু (Migrant Worker Death)। মুম্বইয়ের একটি রেললাইনের ধারে উদ্ধার বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকের ক্ষত-বিক্ষত...