Saturday, June 27, 2026

ধনীদের ছাড়, দরিদ্রদের উপর রোজগারের দায়: ১২ ফেব্রুয়ারি ধর্মঘটের ডাক CPI(ML)-এর

Date:

Share post:

কেন্দ্রীয় বাজেটের অন্তঃসারশূন্যতা নিয়ে গোটা দেশে আলোচনা অব্যাহত। যেভাবে দেশের সাধারণ মানুষের উপর থেকে ভার লাঘব করার বদলে বড় ব্যবসায়ীদের ছাড়ের আওতায় ফেলা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে সরব সব বিরোধী রাজনৈতিক দল। তার উপর আমেরিকার সঙ্গে এমন বাণিজ্য চুক্তি (India-US trade deal) করতে চলেছে মোদি সরকার যার নেতিবাচক প্রভাব সরাসরি পড়বে ভারতের কৃষকদের উপর। প্রতিবাদে এবার ১২ ফেব্রুয়ারি দেশজুড়ে ধর্মঘটের (strike) ডাক দিল সিপিআই (এমএল) (CPIML)।

মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির ধোঁয়াশা নিয়ে সরব দেশের বিরোধীরা। সেখানেই সিপিআই (এমএল)-এর পক্ষে সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য (Dipankar Bhattacharya) প্রশ্ন তোলেন, আমেরিকা সূত্রে জানা গেল, ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি হয়ে গিয়েছে। এতে মোদি সরকার ও আমেরিকার বক্তব্য আলাদা। ভারতের তরফ থেকে এমনভাবে জানানো হচ্ছে যেন তাঁরা বিশ্ব জয় করে চলে এসেছেন। কিন্তু ট্রাম্পের যে বিবৃতি তাতে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে এতে সম্পূর্ণ লাভ থাকবে আমেরিকার। ভারতের জিনিসের উপর ১৮ শতাংশ শুল্ক থাকবে। ভারতে যে আমেরিকা যা বিক্রি করে, এমনকি কৃষিক্ষেত্রের জিনিসও বিক্রি করবে, তাতে শুল্ক শূন্য। আমরা শূন্য, ওরা ১৮।

সেই সঙ্গে দাবি জানানো হয়, রাশিয়া থেকে তেল আর আসবে না। তেল এখন আসবে আমেরিকা থেকে। তেল আসবে ভেনেজুয়েলা থেকে, যার উপর নিয়ন্ত্রণ থাকবে আমেরিকার। পুরো চুক্তি সম্পর্কে যা শোনা যাচ্ছে তা অত্যন্ত উদ্বেগ জনক। ভারতের জন্য আপত্তি জনক। ভারত সরকার এবার পরিস্কার করুক কী শর্তে এই চুক্তি।

কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমনের (Nirmala Sitharaman) বাজেট দেখে শেষ পর্যন্ত ফের ধর্মঘটের পথে যাওয়ার ঘোষণা সিপিআই(এমএল)-এর। বাজেট নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি দাবি করেন, বাজেটে আমরা দেখলাম এমন একটা সময়ে যখন টাকার মূল্য ক্রমাগত কমছে, গোটা বিশ্বে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ভারতের ভূমিকা অত্যন্ত সংকটজনক সেখানে বাজেটে সবথেকে বড় কৃতিত্ব দেওয়া হল আমরা খরচ কম করে দিয়েছি। খরচ যদি কমে ও আয় যদি না বাড়ে তবে রাজস্ব কমবে। মূল প্রশ্ন ছিল আয় বাড়ানো।

আরও পড়ুন : সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষে উস্কানি দিচ্ছে বাংলা দখলে মরিয়া বিজেপি: দীপঙ্কর, নিশানায় SIR-ও

এই বাজেট কতটা সাধারণ মানুষের বিরোধী তা তুলে ধরে সিপিআই(এমএল)-এর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, প্রধান প্রশ্ন ছিল কর্পোরেট ট্যাক্স। জিএসটি (GST) ও সাধারণ মানুষের আয়কর (income tax) সরকারের প্রধান আয়ের উৎস হয়ে দাঁড়াচ্ছে। কর্পোরেট ট্যাক্স বাড়িয়ে যে আয় বাড়ানোর দরকার ছিল তা না করে, কর্পোরেট ট্যাক্স আরও কমিয়ে দেওয়া হল। অন্যদিকে যে খাতে খরচ বাড়ানো দরকার ছিল। শিক্ষাক্ষেত্রে জিডিপি-র ৬ শতাংশ কতদিন ধরে চলে আসছে। স্বাস্থ্যক্ষেত্রে জিডিপি-র ৫ শতাংশ করা উচিত ছিল। তার জায়গায় আড়াই শতাংশ চলে আসছে।

Related articles

২৪ ঘণ্টায় চারবার ভূমিকম্প পাকিস্তানে! আফটার শকের সতর্কতা জারি 

মাত্র চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে চারবার কেঁপে উঠল পাকিস্তান (Earthquake in Pakistan)! শনিবার সকালের শক্তিশালী কম্পনের জেরে আতঙ্কিত সাধারণ...

উরুগুয়েকে হারিয়ে নকআউটে স্পেন 

ফিফা বিশ্বকাপে (Fifa Football WC) শনিবার অ্যালেক্স বায়নার গোলে উরুগুয়েকে হারিয়ে রাউন্ড অফ ৩২ এ পৌঁছে গেল স্পেন...

তারাতলা বিপর্যয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৭, আজও চলছে উদ্ধারকাজ 

তারাতলার গোডাউন বিপর্যয়ের (Taratala Godown Disaster) মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ১৭। শুক্রবার রাতে বিহারের মুঙ্গারের বাসিন্দা শিরচন কুমারের...

এনসিইআরটির পাঠ্য বইতে এবার ‘SIR’, নিন্দায় সরব তৃণমূল কংগ্রেস 

একের পর এক পরিবর্তন! এবার এনসিইআরটি–র (NCRT ) নবম শ্রেণির সোশ্যাল সায়েন্সের পাঠ্য বইতে যুক্ত হল ‘এসআইআর’। ভোটার...