রাজ্য রাজনীতিতে চরম ডামাডোল এবং আইনি লড়াইয়ের আবহে বড়সড় স্বস্তি পেল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস (MAITC)। দলের নাম ও প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের (ECI) সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের পর তৈরি হওয়া জটিলতার মাঝেই সোমবার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ মামলায় মমতা শিবিরের পক্ষে রায় দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের নির্দেশ, হাই কোর্ট ৯ জুলাই তিনটি অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করার জন্য মমতাপন্থী তৃণমূলকে অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিয়েছিল, সেই নির্দেশই আপাতত আগামী বছর ২৯ জানুয়ারি অথবা পরবর্তী নির্দেশ না-দেওয়া পর্যন্ত বহাল থাকবে। চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে ফের এই মামলর শুনানি হবে।

আরও পড়ুন: ব্যাগ খুলতেই বান্ডিল বান্ডিল নোট! হাওড়া স্টেশনে আটক ১

নির্বাচন কমিশন এক অন্তর্বর্তী নির্দেশে ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং জোড়াফুল প্রতীক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এই অবস্থায় মমতাপন্থী তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ সংক্রান্ত মামলাটি গ্রহণযোগ্য হওয়া উচিত নয় বলে রাজ্যের তরফে সওয়াল করা হয়। রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল (AGG) রাজদীপ মজুমদারের বক্তব্য, এই মামলাটি করা হয়েছে ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’-এর নামে। অথচ কমিশনের নির্দেশে এখন ওই নামে কোনও রাজনৈতিক দল নেই। ওই দলের নাম এবং প্রতীক ফ্রিজ় করা হয়েছে। 

আরও পড়ুন: জামুইয়ে যুগলকে ঘিরে তাণ্ডব! ভাইরাল ভিডিয়ো ঘিরে চাঞ্চল্য

সোমবার মামলার শুনানিতে হাই কোর্ট নিযুক্ত স্পেশাল অফিসার আদালতে এবিষয়ে রিপোর্ট পেশ করেছেন। পাশাপাশি পুলিশের পক্ষ থেকেও একটি রিপোর্ট পেশ করা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে এদিন আদালতে জানানো হয়, নির্বাচন কমিশনের ১৭ সেপ্টেম্বরের নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে এই মামলা খারিজ করে দেওয়া উচিত। বিরোধী শিবিরের তরফে আদালতে যুক্তি দেওয়া হয়েছিল যে, যেহেতু নির্বাচন কমিশন নাম ও প্রতীক সংক্রান্ত অন্তর্বর্তী নির্দেশ জারি করেছে এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলি মূল ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’-এর নামে রয়েছে, তাই মমতাপন্থী শিবির একতরফাভাবে এই অ্যাকাউন্টগুলি ব্যবহার করার অধিকার হারিয়েছে। ফলে মমতা শিবিরের করা আবেদনটি খারিজ করার দাবি জানায় তারা। 

আরও পড়ুন: ডেঙ্গি-সচেতনতা প্রচারে বিক্ষোভের মুখে অগ্নিমিত্রা, ক্ষুব্ধ স্বাস্থ্যকর্মীরাই

বিরোধীদের সেই দাবি খারিজ করে দিয়ে কলকাতা হাইকোর্ট একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করে। আদালত মনে করিয়ে দেয় যে, নির্বাচন কমিশন (ECI) যে নির্দেশিকা জারি করেছে তা একেবারেই সাময়িক ও অন্তর্বর্তীকালীন, যা মূলত আসন্ন উপ-নির্বাচন পরিচালনার স্বার্থে করা হয়েছে। তাই শুধুমাত্র প্রতীকের বদলের কারণে মমতাপন্থী শিবিরের অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের অধিকার কেড়ে নেওয়া যায় না। পূর্বে আদালতের নিয়োজিত স্পেশাল অফিসারের নজরদারিতে যেভাবে প্রতিদিনের সাংগঠনিক খরচ ও কর্মীদের বেতন মেটানোর জন্য অ্যাকাউন্টগুলি ব্যবহার করা হচ্ছিল, সেই প্রক্রিয়া বজায় রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। 

আরও পড়ুন: কত দাম আজ সোনা রুপোর দেখে নিন এক নজরে

সাম্প্রতিক সময়ে দলীয় প্রতীক ও অভ্যন্তরীণ বিরোধ নিয়ে কিছুটা ব্যাকফুটে থাকা মমতাপন্থী শিবিরের জন্য আদালতের এই নির্দেশ একটি অত্যন্ত বড় আইনি ও রাজনৈতিক জয় বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। রাজনৈতিক দলের দৈনন্দিন কাজকর্ম পরিচালনা, দলীয় কর্মীদের বেতন এবং কার্যালয়ের ভাড়া মেটানোর মতো জরুরি খরচের জন্য তহবিলের অত্যন্ত প্রয়োজন ছিল। হাইকোর্টের এই সময়োপযোগী রায়ের ফলে আগামী বেশ কয়েক মাস আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে আর কোনও সমস্যা রইল না মমতাপন্থী শিবিরের।