ফের চরম নৈরাজ্যের উদাহরণ বিহারে! শুধু তাই নয়, শিঁকেয় উঠেছে নারী সুরক্ষা। এবার জামুইয়ে (Jamui) এক যুবক-যুবতীকে ঘিরে একদল দুষ্কৃতীর হেনস্থার অভিযোগকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনার একটি ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। (যদিও ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি বিশ্ববাংলা সংবাদ) ভিডিয়োটি সামনে আসার পর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে বিহার পুলিশকে (Bihar Police) ট্যাগ করেছেন একাধিক নেটিজেন। ভিডিয়োতে দেখা যাচ্ছে, একটি জায়গায় ওই যুবক ও যুবতীকে ঘিরে রয়েছে বেশ কয়েকজন। অভিযোগ, দলের এক ব্যক্তি যুবকের জামার কলার ধরে তাঁকে যুবতীর কাছ থেকে সরিয়ে দেন। এরপর যুবতী সেখান থেকে পালানোর চেষ্টা করলে মুখ ঢাকা এক ব্যক্তিকে তাঁর পিছনে ছুটতে দেখা যায়।
ভিডিয়োতে ওই যুবতীর চিৎকার ও সাহায্যের আবেদনও শোনা যায়। পরে তাঁর এক বন্ধু কোনওভাবে সেখান থেকে বেরিয়ে এসে তাঁকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসেন। দু’জনে একটি দু’চাকার গাড়িতে উঠে ঘটনাস্থল ছাড়ার চেষ্টা করলেও পিছনে থাকা কয়েকজন তাঁদের ধাওয়া করে। এরপর ফের শুরু হয় বচসা। যুবতীর হাত ধরে তাঁকে আটকানোরও অভিযোগ উঠেছে। শেষ পর্যন্ত আতঙ্কের মধ্যেই সাহায্যের আবেদন করতে দেখা যায় তাঁকে। তবে ঠিক কী কারণে এই ঘটনা ঘটেছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
জামুইয়ের পুলিশ সুপার বিশ্বজিৎ দয়াল (Jamui Superintendent of Police Vishwajit Dayal) জানিয়েছেন, পুলিশ ওই মহিলার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। ভাইরাল ভিডিয়ো খতিয়ে দেখে সেখানে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। অভিযুক্তদের শনাক্ত করা গেলে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং জড়িত ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ। স্বাভাবিকভাবেই এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পরেই বিহারে নারী সুরক্ষা নিয়ে আবারও নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। নারী নির্যাতন, হয়রানি ও অপরাধের অভিযোগের পাশাপাশি প্রশাসনের ভূমিকা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও তৈরি হচ্ছে উদ্বেগ। অভিযোগ উঠছে, ঘটনার পর দ্রুত পদক্ষেপ, তদন্ত ও ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে প্রশাসনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নারী সুরক্ষা কতটা নিশ্চিত, প্রশাসনিক ব্যবস্থার কোথায় ঘাটতি রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নিচ্ছে তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তুঙ্গে।
















