শুধুমাত্র কান ফিসফিস ক্যাম্পেন। আর তাতেই নিজভূমে পরবাসী বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকরা। যেন তারা এই দেশেরই বাসিন্দা নন। এই বিশ্বাসটাই এমনভাবে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির সাধারণ মানুষের মনের মধ্যে গেঁথে দেওয়া হচ্ছে যাতে সাধারণ মানুষই আর মানুষকে বিশ্বাস করতে পারছেন না। হরিয়ানার (Haryana) গুরুগ্রামে সেই আতঙ্কে হরিয়ানা ছেড়ে বাংলায় ফিরে এসেছেন পরিযায়ী শ্রমিকরা (migrant labour)। যাঁরা রয়েছেন, তাঁরাও ভয়ে কাঁটা। যদিও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) নির্দেশে গুরুগ্রামের অধিবাসী পরিযায়ী শ্রমিক পরিবারগুলিকে সব রকম সাহায্যে আশ্বাস দেওয়া হয় মাইগ্র্যান্ট ওয়ার্কার্স ওয়েলফেয়ার বোর্ডের (MWWB) তরফে।

ডবল ইঞ্জিন রাজ্যে বাঙালিদের দেখলেই বাংলাদেশি (Bangladeshi) বলে দাগিয়ে দিচ্ছে খোদ প্রশাসন। তার মধ্যে অন্যতম হরিয়ানার গুরুগ্রাম। যেখানে একাধিক শ্রমকিকে নৃশংস মারধর পর্যন্ত করা হয়েছে। হরিয়ানার গুরুগ্রামের সেই পরিযায়ী পরিবারগুলি কেমন আছে, দেখতে গিয়ে চক্ষু চড়কগাছ তৃণমূল সাংসদ সামিরুল ইসলামের (Samirul Islam)। তিনি জানান, প্রায় ২০-২৫ বছর ধরে গুরুগ্রামের ওই সব এলাকায় বসবাসকারী পরিযায়ী শ্রমিকদের বড় অংশ ফিরে গিয়েছে বাংলায়। যারা রয়ে গিয়েছে কাজ ও পরিবারের তাগিদে, তাদের চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটছে। তার কারণ শুধুমাত্র তারা বাংলায় (Bengali) কথা বলে।
কেন এই পরিবেশ, তার বর্ণনা দিতে গিয়ে তৃণমূল রাজ্যসভার সাংসদ দাবি করেন, বিজেপি এমন অদ্ভুত পরিবেশ তৈরি করে রেখেছে যাতে সামান্য বাংলা ভাষায় (Bengali) কথা বললে স্থানীয় বাসিন্দারা সেই বাঙালিদের বাংলাদেশি (Bangladeshi) বলে দাগিয়ে দিচ্ছে। সেখানে বিজেপির বাংলাবিরোধী অবস্থান স্থানীয় মানুষের মধ্য়ে এমন এক অদ্ভুত ভেদাভেদ তৈরি করে দিয়েছে। যে দেশে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একজন নাগরিক হিসাবে যেমন অধিকার, ততটাই অধিকার এই পরিযায়ী শ্রমিকদের। সেখানে বিজেপির বিভেদ নীতির জন্য এরা নিজভূমেই পরবাসী।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশে হামলার মুখে রবীন্দ্রনাথের বাড়ি: ২২শে শ্রাবণ ভারতের সদর্থক উত্তর দাবি অভিষেকের

যদিও স্থানীয় যে বাঙালি পরিযায়ী শ্রমকিরা গুরুগ্রামে আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন, তাঁদের যে কোনও সমস্যায় দ্রুত যোগাযোগ করার বার্তা দিয়ে আসেন মাইগ্র্যান্ট ওয়ার্কার্স ওয়েলফেয়ার বোর্ডের চেয়ারম্যান তথা সাংসদ সামিরুল ইসলাম। সেই সঙ্গে যে কোনও সমস্যায় রাজ্য সরকারের তরফ থেকে পাশে দাঁড়ানোর বার্তাও দেওয়া হয়।

Exiles in their own land!
This country belongs to them too. Those who are today branding them as “foreigners” and driving them out from this soil have no greater right here than these people. Just as much as the Prime Minister of the country is an Indian, these people are equally… pic.twitter.com/W6n0QZUiJK— Samirul Islam (@SamirulAITC) August 8, 2025
–

–

–
–
–
–
–
–
