Sunday, March 1, 2026

গবেষক থেকে পরিযায়ী শ্রমিক: রাজ্যের উদ্যোগে নেপাল থেকে নির্বিঘ্নে ঘরে ফেরা

Date:

Share post:

অশান্ত নেপাল থেকে যে কোনওভাবে নিজের দেশে ফিরতে ব্যস্ত ভারতীয় নাগরিকরা। ইতিমধ্যেই মৃত্যু হয়েছে এক ভারতীয় প্রৌঢ়ার। তবে বাংলার বাসিন্দারা এখনও সেখানে সুরক্ষিত। এবং ভারত-নেপাল সীমান্ত (Indo-Nepal border) থেকে তাঁদের বাড়ি ফেরানোর ব্যবস্থা করছে বাংলার প্রশাসন। সেই পথেই বাড়ি ফিরলেন একদিকে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকরা (migrant labour)। অন্যদিকে বাংলা ও ভিন রাজ্যের গবেষকদের (PhD scholars) একটি দলও ফিরল দেশে।

মুথ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেপালের অশান্তির পরিস্থিতিতে আগেই অনুরোধ জানিয়েছিলেন, যাতে দ্রুত ঘরে ফেরা নিয়ে কেউ তাড়াহুড়ো না করেন। পরিস্থিতি একটু শান্ত হলেই তাঁদের ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হবে। সেই মতো খবর পাওয়া যায় বাঁকুড়া জেলার হিড়বাঁধ ব্লকের মলিয়ান, সিমলাপাল ব্লকের লক্ষ্মীসাগর-সহ বিভিন্ন এলাকার কয়েকশো পরিযায়ী শ্রমিক (migrant labour) আটকে পড়েছেন নেপালে। সেই শ্রমিকদের নির্বিঘ্নে ঘরে ফেরার ব্যবস্থা করে দিল রাজ্য সরকার।

একসময় বিখ্যাত ছিল বাঁকুড়া (Bankura) জেলার কাঁসার বাসন শিল্প। এখন পরিয়ায়ী শ্রমিক হিসাবে অনেকেই কাজ নিয়ে চলে যান নেপালের বীরগঞ্জ, কাঠমান্ডু-সহ বিভিন্ন এলাকার কাঁসার বাসন তৈরির কারখানায়। সাম্প্রতিক অশান্তিতে সেখানেই আটকে পড়েন বাঁকুড়া জেলার হিড়বাঁধ ব্লকের মলিয়ান,  সিমলাপাল ব্লকের লক্ষ্মীসাগর-সহ বিভিন্ন এলাকার কয়েকশো পরিযায়ী শ্রমিক। নেপালের অশান্তি ও কার্ফুর জেরে তাঁরা সেখানকার কারখানাগুলিতেই কার্যত কদিন বন্দি হয়ে ছিলেন। ভারতীয়দের দেশে ফেরার জন্য দৈনিক কয়েক ঘণ্টা কার্ফু (curfew) শিথিল হতেই তাঁদের কেউ কেউ হেঁটে, আবার কেউ বাড়তি টাকা খরচ করে গাড়ি ভাড়া করে বেরিয়ে পড়েন বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে। বীরগঞ্জ থেকে অনেকে পায়ে হেঁটে সীমান্ত পেরিয়ে পৌঁছান বিহারের রক্সৌলে। সেখান থেকে রাজ্যের উদ্যোগে ট্রেনে বাড়ি ফিরে আসতে সক্ষম হলেন নয়জন পরিযায়ী শ্রমিক (migrant labour)।

আরও পড়ুন: সেনার মঞ্চ আদতে বিজেপির বক্তৃতার জায়গা: শুভেন্দুকে আদালতের ভর্ৎসনায় সেটাই প্রমাণিত

নেপালে জলবায়ু পরিবর্তনের ওপর এক সেমিনারে যোগ দিতে গিয়ে আটকে পড়েছিলেন আলিপুরদুয়ার জেলার বারোবিশার বাসিন্দা মণিহার তালুকদার। সে মেঘালয়ের উমিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার ছাত্রী। তাঁর সঙ্গে এই রাজ্যের আরও দুই এবং ত্রিপুরার এক পিএইচডি স্কলারও (PhD scholar) ছিলেন। যেদিন তাঁদের সেমিনার শেষ করে ফিরে আসার কথা ছিল, সেদিনই কাঠমাণ্ডুতে শুরু হয় সরকার বিরোধী আন্দোলন। শেষ পর্যন্ত শুক্রবার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার দিকে এগোলে তাঁরা গাড়ি ভাড়া করে বিহারের রক্সৌল সীমান্ত পর্যন্ত পৌঁছন। তাঁদের নির্বিঘ্নে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করে বাংলার প্রশাসন।

spot_img

Related articles

পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন আগ্রাসন: ‘নির্লজ্জ আগ্রাসন’ তোপ চিনের

আমেরিকা-ইজরায়েলের ( America- Israel) যৌথ ক্ষেপণাস্ত্র হামলাতে মৃত্যু হয়েছে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা খামেনেই-এর (Ayatullah K)। অন্যদিকে তেহেরানের...

ফের কাজের চাপে প্রাণ গেল বিএলও-র, শোকের ছায়া কামারহাটিতে

উত্তর ২৪ পরগনার কামারহাটির আনোয়ার বাগান এলাকায় কাজের অতিরিক্ত চাপের জেরে এক বুথ লেভেল অফিসার (বিএলও)-এর অকালমৃত্যুকে ঘিরে...

যে ভাষায় আক্রমণ সেই ভাষাতেই উত্তর: তৃণমূলের ডিজিটাল কর্মীদের বার্তা নেতৃত্বের

সময়ের সঙ্গে বদলেছে রাজনীতির ভাষা। তেমনই বদলেছে রাজনীতির পথ চলার ধরণও। সেই পথে বাংলার শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের ডিজিটাল...

SIR-এ ১ কোটি ২৫ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ! সরব দেশবাঁচাও গণমঞ্চ

নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India) শনিবার বাংলার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে। তাতে বাংলার প্রায় ১ কোটি...