Saturday, March 21, 2026

কাহার-বেহেরাদের কাঁধে চড়ে বিসর্জনের পথে যান স্বামী ব্রহ্মানন্দের ঘোষ বাড়ির দেবী

Date:

Share post:

বাংলার (West Bengal) প্রতিটি কোণায় রয়েছে দুর্গাপুজোর (Durga Pujo) নানা রীতি। কোথাও বিশেষত্ব ভোগে, কোথাও প্রতিমায় তো কোথাও আচারে। তেমনই বসিরহাটের (Basirhat) ট্যাট প্রাণিবাসী রায়চৌধুরী বাড়ির দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জন হয় কাহার সম্প্রদায়ের বেহেরাদের কাঁধে চড়ে। সালটা ১৫৮০। হয়তো সবে মাত্র ভারতে পদার্পণ ব্রিটিশরা (British)। এই সালেই হুগলির (Hoogli) আকনা গ্রামের ঘোষ বংশের সপ্তদশ বংশধর সদানন্দ ঘোষ বৈবাহিক সূত্রে আবদ্ধ হন বসিরহাটের ট্যাট প্রাণিবাসী রায়চৌধুরী বাড়ির কন্যার সঙ্গে। ১৭০০ খ্রিস্টাব্দে যখন জব চার্নকের (Job Charnak) কলকাতা (Kolkata) ছিল ক্যালকাটা, বয়স ছিল মাত্র ১০বছর। বসিরহাটের শিকড়া কুলিনগ্রামে সেই সালেই গোল পাতায় ছাওয়া মাটির আটচালায় দেবী দুর্গার আরাধনা শুরু করেন ঘোষ বংশের দেবীদাস ঘোষ (Devidash Ghosh)। পরবর্তীতে ১৮১০ থেকে ১৮২০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে কালীপ্রসাদ ঘোষ পাঁচ খিলান যুক্ত পাকা দুর্গা দালান নির্মাণ করেন। তারপর থেকে সেই দুর্গাদালানেই দেবী দুর্গার আরাধনা হয়ে যাচ্ছে।১৮৬৩ খ্রিস্টাব্দ এই ঘোষ বংশেই আনন্দমোহন ঘোষ ও হেমাঙ্গিনী দেবীর কোল আলো করে জন্মগ্রহণ করেন রাখালদাস ঘোষ, যিনি পরবর্তীতে রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের মানসপুত্র ও স্বামী বিবেকানন্দের গুরুভাই স্বামী ব্রহ্মানন্দ হিসেবে পরিচিত হন। ইতিহাস ঘাটলে জানা যায়, বালক রাখাল দুর্গাদালানের দেবী দুর্গার রূপ দেখে ধ্যাবনস্থ হতেন। অনতিদূরে বোধন তলায় সহপাঠীদের সঙ্গে তিনি মেতে উঠতেন পুজো পুজো খেলায়। বোধনতলার চারপাশে ঘুরে ঘুরে তিনি শ্যামাসংগীত গাইতেন। পরবর্তীকালে শিকড়া কুলিন গ্রামে এসে বোধন তলায় হেমাঙ্গিনী দেবীকে আভূমি প্রণাম জানিয়েছিলেন। ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দে স্বামী ব্রহ্মানন্দের জন্মভূমিতে প্রতিষ্ঠিত হয় শিকড়া কুলিন গ্রাম রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন। আরও পড়ুন : রোদবৃষ্টির বিশ্বকর্মা পুজো, উত্তরে কমলা সর্তকতা -দক্ষিণে বাড়ছে অস্বস্তি!স্বামী ব্রহ্মানন্দ তার পরিবারের সদস্য দের জানিয়েছিলেন, “দেখিস এই পুজো যেন বন্ধ না হয়।” তাঁর কথা মেনেই এই বংশের উত্তরপুরুষরা এখনও পর্যন্ত সমস্ত রকম প্রথা মেনে এই দুর্গাপুজোর আয়োজন করে থাকেন। রাজ্য তথা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এই বংশের সদস্যরা পুজোর সময় ফিরে আসেন বাড়িতে।

মহালয়ার পর প্রতিপদে পুজোর সূচনা হিসেবে বসে দেবীর ঘট। ষষ্ঠীর দিন হয় বোধন। মহাসাড়ম্বরে বংশের প্রথা এনে হয় মহাসপ্তমী, মহাঅষ্টমী ও মহানবমীর পুজো। মহাষ্টমীর দিন ভক্তদের জন্য থাকে লুচি ভোগের আয়োজন। মহাদশমীতে দুর্গাপুজোর সমস্ত রকম রীতি মেনে পুজো সম্পন্ন হওয়ার পরে কাহার সম্প্রদায়ের বেহারাদের কাঁধে চেপে মা দুর্গার কৈলাস যাত্রা শুরু হয়। দেবীর মৃন্ময়ী রূপকে স্থানীয় একটি পুণ্যপুকুরে বিসর্জন দেওয়া হয়। প্রাচীন ইতিহাসকে সাক্ষী রেখে সমস্ত রকম রীতিকে পাথেয় করে স্বামী ব্রহ্মানন্দের এই পুজোকে এখনো ঐতিহ্যবাহী করে রেখেছে সমগ্র শিকড়া কুলিন গ্রাম।

Related articles

ব্যক্তিগত কাদা ছোড়াছুড়ি না কি প্রচারের আলো? সায়ক-সুস্মিতার ‘ভার্চুয়াল’ যুদ্ধে এবার খোঁচা রাহুলের 

টেলিপাড়ার অন্দরে এখন কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে অভিনেতা সায়ক চক্রবর্তী এবং তাঁর প্রাক্তন বউদি সুস্মিতা রায়ের আকচাআকচির কথা।...

মা হবেন সঞ্জয়-কন্যা অনয়া: নতুন ধাপ পেরিয়ে বাবার প্রতি কৃতজ্ঞতা

ভারতের এলজিবিটিকিউ সমাজের জন্য নতুন দরজা খুলে দিয়েছেন প্রাক্তন ক্রিকেটার সঞ্জয় বাঙ্গার কন্যা অনয়া। সম্মানের সঙ্গে লিঙ্গ পরিবর্তনের...

রাজ্যপালের আমন্ত্রণ রক্ষায় সৌজন্য সাক্ষাতে লোকভবনে মুখ্যমন্ত্রী

সকালে রেড রোডে ঈদের নমাজে অংশগ্রহণের পরে শনিবার সন্ধেয় লোকভবনে (পূর্বতন রাজভবন) রাজ্যপাল আর এন রবির (R N...

উত্তরবঙ্গ দিয়ে মঙ্গলবার থেকে প্রচার শুরু তৃণমূল সুপ্রিমোর

ইস্তেহার প্রকাশ করেই জানিয়ে ছিলেন ঈদের পর থেকে জোরকদমে প্রচার শুরু হবে। সেই মতো মঙ্গলবার থেকেই জনসভা করবেন...