Tuesday, May 12, 2026

দুর্যোগে নিখোঁজ মা, অসহায় মেয়ের পাশে দাঁড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী

Date:

Share post:

আমার মাকে খুঁজে পাচ্ছি না, মুখ্যমন্ত্রীকে দেখেই এ-কথা জানিয়ে হাউ হাউ করে কাঁদতে শুরু করে মেয়েটি। মানবিক মুখ্যমন্ত্রী তৎক্ষণাৎ প্রশাসনিক আধিকারিকদের নির্দেশ দেন দ্রুত খোঁজ নেওয়ার।

সোমবার নাগরাকাটায় ত্রাণশিবিরে আশ্রয় নেওয়া সকলের সঙ্গে দেখা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী জানান, বিপর্যয় এখনও কাটেনি, নদীর জল আবারও বাড়তে পারে। তাই নিচু এলাকায় থাকা মানুষদের তিনি সতর্ক করে বলেন, অবিলম্বে যেন তাঁরা সরকারের তৈরি ত্রাণশিবিরে আশ্রয় নেন। তখনই ত্রাণশিবিরে মুখ্যমন্ত্রীকে পাশে পেয়ে ভেঙে পড়লেন অসহায় মেয়েটি। মুখ্যমন্ত্রীকে জানান বিধ্বংসী বন্যায় তার মা নিখোঁজ হয়েছে। একদিন পেরিয়ে গেলেও তার মাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। এই কথা শোনামাত্রই মুখ্যমন্ত্রী সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসনিক অধিকর্তাদের নির্দেশ দেন নিখোঁজ মহিলাকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব খুঁজে বার করতে হবে। এছাড়াও বন্যায় বাড়িঘর ভেসে যাওয়ার চা-বাগানবাসীদের আর্তনাদ শুনে মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের আশ্বস্ত করেন শীঘ্রই তাঁদের বাড়ি-ঘর তৈরি করে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে বন্যা-কবলিত মানুষদের খাদ্যসামগ্রী থেকে শুরু করে পোশাক ও রান্না করার সামগ্রী দিয়েছে সরকার।

জেলা জুড়ে ত্রাণশিবির চালু করা হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের নিরাপদে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে রাজ্য প্রশাসন। উত্তরবঙ্গের এই বিপর্যয়ে আবারও প্রকাশ পেল কেন্দ্রের উদাসীনতা। সোশ্যাল মিডিয়ায় সামান্য সহানুভূতি ছাড়া কেন্দ্রের তরফে কোনও কার্যকরী সাহায্য মেলেনি। অন্যদিকে, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নিজে দুর্গত অঞ্চলে উপস্থিত হয়ে যেমন ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ালেন, তেমনি তাঁদের পাশে থেকে ভবিষ্যতের সুরক্ষার প্রতিশ্রুতিও দিলেন। ষাটোর্ধ্ব স্থানীয় বাসিন্দা মিগমা ওরাও বলেন, এই বিপদের দিনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাদের আপনজনের মতো পাশে দাঁড়িয়েছেন। এই মানবিকতা ও দায়িত্ববোধই তাঁকে আলাদা করে তোলে। মৃত পরিবারের সদস্য নবীন ওঁরাও বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কথা দিয়ে কথা রাখেন। ঘোষণার করার সাথে সাথেই আমাদের হাতে টাকা তুলে দেবেন সেটা আমরা ভাবতে পারিনি। মুখ্যমন্ত্রী মানবদরদি ওঁর উপর আমাদের আস্থা আছে। উনি আমাদের ভগবান। এছাড়াও পাহাড়ে ক্ষতিগ্রস্ত পর্যটকদের জন্য অতিরিক্ত ৪৫টি ভলভো বাস দেওয়া হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে তাঁদের সুরক্ষার সাথে উদ্ধার করে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে।

উত্তরবঙ্গের বিপর্যস্ত মানুষের কেন্দ্রের প্রতি ক্ষোভ বাড়লেও, মুখ্যমন্ত্রীর মানবিক উদ্যোগে খানিকটা হলেও স্বস্তি ফিরেছে জলপাইগুড়িবাসীর মুখে।

আরও পড়ুন – রোহিত-বিরাটের শেষ সফর! ডনের দেশে টিকিটের চাহিদা তুঙ্গে

_

 

_

 

_

 

_

 

_

 

_

Related articles

বিধানসভায় শপথের প্রস্তুতি, প্রোটেম স্পিকারের দায়িত্বে তাপস রায়

রাজ্য বিধানসভার প্রোটেম স্পিকার হিসেবে শপথ নিলেন মানিকতলার বিধায়ক তাপস রায়। মঙ্গলবার লোক ভবনে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে...

ভিন রাজ্যে আলু বিক্রি: কৃষি বিপণনের দায়িত্ব পেয়েই বার্তা দিলীপের

তাঁর কাঁধে রাজ্যের একাধিক দফতর। দলের দীর্ঘদিনের নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই বিজেপির আস্থা গভীর দিলীপ ঘোষের উপর। তাই...

সুজিতকে ১০দিনের ED হেফাজতের নির্দেশ ব্যাঙ্কশাল আদালতের

পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় রাজ্যের প্রাক্তন দমকল মন্ত্রী সুজিত বসুকে (Sujit Basu) ইডি (ED) হেফাজতের নির্দেশ দিল ব্যাঙ্কশাল...

চন্দ্রনাথ হত্যা মামলা: তদন্তভার হাতে নিয়েই মধ্যমগ্রামে সিবিআই, ঘটনার পুনর্নির্মাণে গোয়েন্দারা

মধ্যমগ্রামের চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডের তদন্তভার হাতে নিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। মঙ্গলবার তদন্তভার গ্রহণের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ঘটনাস্থল...