বিহার বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় ভোটদানের হার নিয়ে রাজনৈতিক চর্চা তুঙ্গে। বৃহস্পতিবার ১২১টি আসনে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। নির্বাচনী পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে ৬০.১৩ শতাংশ। ২০২০ সালের নির্বাচনে একই সমস্ত কেন্দ্রে ভোট পড়েছিল ৫৫.৮১ শতাংশ। কমিশনের দাবি, বিকেল ৫টার পরও যাঁরা লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন, তাঁদের ভোট দেওয়ার অধিকার নিশ্চিত করা হবে। সেই হিসেবে শেষ পর্যন্ত ভোটের হার আরও বাড়তে পারে।

এই বাড়তি ভোটদানে উদ্বেগ বেড়েছে বিজেপি নেতৃত্বের। বিহারে গত কয়েক মাস ধরেই প্রতিষ্ঠান-বিরোধী মনোভাব স্পষ্ট হচ্ছিল। ২০ বছর ধরে মুখ্যমন্ত্রীর পদে থাকা সত্ত্বেও নীতীশ কুমার উন্নয়নমূলক কাজ করতে ব্যর্থ হয়েছেন—এমন অভিযোগ ভোটারদের একাংশের। সাধারণ মানুষের বক্তব্য, ভোটের আগে বিভিন্ন ভাতা প্রকল্প ঘোষণা করা ছাড়া বাস্তবের উন্নয়ন দৃশ্যমান হয়নি।

এর পাশাপাশি এসআইআর ইস্যুতে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ, বিহারের ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৪৭ লক্ষ মানুষের নাম বাদ পড়েছে। বাদ পড়া পরিবারের সদস্যরাও ক্ষুব্ধ। এতে রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন চাপ তৈরি হয়েছে বিজেপি-জেডিইউ জোটের উপর। সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে প্রশান্ত কিশোরের জন সুরাজ পার্টি। তাঁদের ভোট কাটাকাটি কোন দলকে সুবিধে দেবে—এ নিয়ে আলোচনা তীব্র। বিভিন্ন সমীক্ষা বলছে, জন সুরাজের প্রভাব কয়েকটি কেন্দ্রে ফলাফলের পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। প্রথম দফার ভোটের ছবি বিজেপি নেতৃত্বের আশঙ্কা বাড়িয়েছে। রাজনৈতিক মহলের বক্তব্য, দ্বিতীয় তথা শেষ দফার ভোটের আগে ক্ষমতাসীন শিবির প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করতে পারে। বিরোধী শিবির ইতিমধ্যেই ভোটারদের সতর্ক করে জানিয়েছে, কোনও প্রলোভন, প্রভাব বা লেনদেনে পা দিলে গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্ণ হবে। এখন নজর ১১ নভেম্বরের দিকে। দ্বিতীয় দফার ফলই নির্ধারণ করবে বিহারের রাজনৈতিক বৃত্তান্ত কোন দিকে ঘুরবে।

আরও পড়ুন- JNU-তে ফের বাম জোটের জয়জয়কার, খাতা খুলতে পারল না ABVP

_

_

_

_

_

_
_

