রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় গত ১৪ বছরে আমূল পরিবর্তন এসেছে বলে দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। স্বাস্থ্যভবন থেকে এক সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে রাজ্যে স্বাস্থ্য পরিষেবায় বিপ্লব ঘটানো হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “এই ১৪ বছরে ১৪টি সরকারি মেডিক্যাল কলেজ তৈরি হয়েছে। ৪২টি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল গড়ে তোলা হয়েছে। ইতিমধ্যেই ১৩ হাজার ৫০০-র বেশি সুস্বাস্থ্য কেন্দ্র চালু হয়েছে, আরও প্রায় ১২ হাজার কেন্দ্র নির্মাণাধীন।”

স্বাস্থ্য পরিষেবার মানোন্নয়নে সরকার যে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে, তা-ও এদিন তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, “রাজ্যে ৭৬টি সিসিইউ, ৩টি এইচডিইউ, ১৭টি মাদার অ্যান্ড চাইল্ড হাব, ১৩টি মাদার ওয়েটিং হাট এবং ১৫৮টি বিনামূল্যে রোগ নির্ণয় কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে। পাশাপাশি, সরকারি হাসপাতালে ৪০ হাজার নতুন শয্যা যোগ হয়েছে।”

বাম আমলের স্বাস্থ্য পরিষেবার অবস্থা প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আগে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নতি হয়নি। এখন প্রতিটি ব্লক, গ্রাম ও শহরে হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজের সুযোগ তৈরি হয়েছে। আগে বাড়িতে দাইমার হাতে প্রসব হত, এখন হাসপাতালে নিরাপদ প্রসব হচ্ছে।”

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, রাজ্যে ব্লাডব্যাঙ্কের সংখ্যা ৫৮ থেকে বেড়ে হয়েছে ৮৯। পাশাপাশি, বেলুড়ে আয়ুর্বেদিক, যোগা ও ন্যাচারোপ্যাথি ডিগ্রি কলেজ এবং ৪৯টি ট্রমা কেয়ার সেন্টারও তৈরি হয়েছে।

মানবসম্পদের উন্নয়নেও জোর দিচ্ছে সরকার। মুখ্যমন্ত্রী জানান, “ইতিমধ্যেই ১৪ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ হয়েছে। বাকি পদগুলি দ্রুত পূরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে নারায়ণ স্বরূপ নিগমকে। চিকিৎসক, নার্স, টেকনিশিয়ান— সবাই এই ব্যবস্থার অপরিহার্য অংশ।”

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট, রাজ্য সরকারের অগ্রাধিকার তালিকার শীর্ষে রয়েছে স্বাস্থ্য পরিষেবার সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণ। শহর থেকে গ্রাম, সর্বত্র জনগণ যেন বিনামূল্যে ও মানসম্মত স্বাস্থ্য পরিষেবা পান— সেই লক্ষ্যেই এগোচ্ছে রাজ্য সরকার।

আরও পড়ুন – Kiff: মঙ্গল-সন্ধ্যায় সিনে আড্ডায় হঠাৎ হাজির মুখ্যমন্ত্রী, শোনালেন ‘দুষ্টুমির গল্প’

_

_
_


