Tuesday, May 26, 2026

রাজ্যপালের অধিকার নেই অনির্দিষ্টকালের জন্য বিল আটকে রাখার, সাফ জানালো সুপ্রিম কোর্ট

Date:

Share post:

রাজ্যপালের কাছে দিনের পর দিন আটকে রয়েছে বিল, অথচ তিনি স্বাক্ষর করছেন না। যার ফল হিসেবে আইন প্রণয়নের সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে রাজ্যের সরকারকে। বাংলার বুকে এ ঘটনা বারবার ঘটে চলেছে। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে বিল আটকে রাখার ক্ষমতা কি রাজ্যপালের আছে? সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) আগেই জানিয়েছিল শুধু রাজ্যপাল কেন, রাষ্ট্রপতিও দিনের পর দিন কোনও বিল আটকে রাখতে পারেন না। এবার প্রেসিডেন্সিয়াল রেফারেন্স মামলায় (Presidential Reference Case) দেশের শীর্ষ আদালতের পাঁচ সদস্যের সাংবিধানিক বেঞ্চ সাফ জানিয়ে দিল যদি রাজ্যপাল সেটা করেন তাহলে তা যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো ভঙ্গ করার সমান। তবে বিল পাশের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমাও আদালত বেঁধে দিতে পারেনা।

চলতি বছর এপ্রিল মাসে সুপ্রিম কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছিল আইনসভায় পাশ করা কোনও বিল রাজ্যপাল বা রাষ্ট্রপতি কেউই অনির্দিষ্টকালের জন্য আটকে রাখতে পারেন না। সাম্প্রতিককালে এমন ঘটনা বহুবার দেখা গেছে যেখানে এ রাজ্যের একাধিক বিল আটকে পড়ে রয়েছে রাজ্যপালের কাছে। পাশাপাশি কিছু বিল আবার তিনি ইচ্ছে করে রাষ্ট্রপতির কাছে হয় পাঠাচ্ছেন না বা পাঠালেও রাষ্ট্রপতি তরফে কোনও উত্তর মিলছে না। এতে নতুন আইন প্রণয়নের সমস্যা তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে অপরাজিতা বিলের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিল দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যপালের কাছে আটকে পড়ে রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) ডিভিশন বেঞ্চ এ ব্যাপারে আগেই অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। কিন্তু বিরোধিতা করে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু (Draupadi Murmu) প্রশ্ন তুলেছিলেন এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা শীর্ষ আদালতে রয়েছে কিনা তা নিয়ে। সংবিধানের ১৪৩ ধারা প্রদত্ত বিশেষ অধিকার বলে শীর্ষ আদালতের ওই রায় নিয়ে ১৪টি প্রশ্ন তুলে দেন তিনি। এরপরই সর্বসম্মতিক্রমে গঠিত হয় পাঁচ সদস্যের প্রেসিডেন্ট সেল রেফারেন্স বেঞ্চ। সেখানে প্রধান বিচারপতি ছাড়া রয়েছেন, বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি বিক্রমনাথ, পিএস নরসিমা এবং এএস চন্দরকর। এবার সেই বেঞ্চ জানিয়ে দিল, বিলে সম্মতি না দিলে তা বিধানসভায় ফেরত পাঠাতে হবে। কিন্তু কোনওভাবেই বিল আটকে রাখতে পারেন না রাজ্যপাল। তাঁকে নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা করতে হবে। সাংবিধানিক বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, একটা সিস্টেমে দু’জন চালকের আসনে থাকতে পারেন না। এক্ষেত্রে চালকের আসনে একমাত্র নির্বাচিত সরকার থাকতে পারে, রাজ্যপাল নন। এক্ষেত্রে বেঞ্চের দুটো গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ রয়েছে। এক, রাজ্যপাল বা রাষ্ট্রপতি কতদিনের মধ্যে বিল সই করবেন তার সময়সীমা সুপ্রিম কোর্ট বেঁধে দিতে পারেনা। এবং দুই, যদি বিষয়টা অনির্দিষ্টকালের দিকে গড়ায় সে ক্ষেত্রে বিচার বিভাগকে হস্তক্ষেপ করতে হবে।

 

Related articles

কলকাতা বিমানবন্দরে কাজ চলাকালীন ছিঁড়ে পড়ল লিফট, গুরুতর আহত তিন কর্মী

কলকাতা বিমানবন্দরে (Kolkata Airport) বড়সড় বিপত্তি ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মঙ্গলবার, বিমানবন্দরের ভিতরের ৩৪ নম্বর লিফটে (Elevator number 34)...

আইন ভাঙছে বিজেপির শাসক: হকারদের উপর বুলডোজার রাজনীতিতে সরব মমতা

রাজ্যের আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অথচ তাঁর হাতেই হচ্ছে দেশের আইনভঙ্গ। আন্তর্জাতিক হকার দিবসে...

১২ দিন লড়াইয়ের শেষে হার আয়ুষের, স্কুলের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ পরিবারের 

স্কুলে অসুস্থ হয়ে পড়ার পরও সময়মত চিকিৎসা না পাওয়ায় মৃত্যু হল নেতাজিনগরের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র (Third-grade student from...

বিশেষ বিশেষ সাংসদদের ডাকব: সমন্বয়ের বার্তা দিয়ে মন্তব্য মুখ্যমন্ত্রীর, প্রশাসনিক বৈঠকে হাজির তৃণমূলের ১ সাংসদ-৬ বিধায়ক

নজরে উন্নয়ন। শাসক-বিরোধী সব জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক করলেন নদিয়ার (Nadia) কল্যাণীর এপিজে আবদুল কালাম প্রেক্ষাগৃহে বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী...