Friday, February 27, 2026

ইউনিফায়েড ল্যান্ড জিআইএস: ভূমি দফতরের কাজে ডিজিটাল রূপান্তরের পথে রাজ্য 

Date:

Share post:

রাজ্যের ভূমি দফতরের কাজকে আরও স্বচ্ছ, দ্রুত ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে নতুন একটি ওয়েব ও মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন চালুর উদ্যোগ নিল রাজ্য সরকার। জমি সংক্রান্ত নথি, ক্যাডাস্ট্রাল মানচিত্র এবং চরিত্রগত সমস্ত তথ্যকে এক ছাতার তলায় আনতেই এই পদক্ষেপ। নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রকল্পটির দায়িত্বে রয়েছে ডিরেক্টরেট অব ল্যান্ড রেকর্ডস অ্যান্ড সার্ভে (ডিএলআর অ্যান্ড এস)। প্রস্তাবিত এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের নাম রাখা হচ্ছে ‘ইউনিফায়েড ল্যান্ড জিআইএস’।

নবান্ন সূত্রের খবর, রাজ্যের ভূমি সংক্রান্ত তথ্যের জন্য এই প্ল্যাটফর্মকেই একমাত্র প্রামাণ্য ও নির্ভরযোগ্য ডিজিটাল উৎস হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে প্রশাসনের। বর্তমানে জমির রেকর্ড, মানচিত্র ও সংশ্লিষ্ট তথ্য বিভিন্ন দফতরে আলাদা আলাদা সিস্টেমে সংরক্ষিত থাকায় তথ্যের পুনরাবৃত্তি, দেরি এবং অসঙ্গতির মতো সমস্যা প্রায়ই দেখা যায়। নতুন প্ল্যাটফর্মে সব ব্যবস্থা একীভূত হলে এই জট অনেকটাই কাটবে বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল।

সূত্রের দাবি, ‘ইউনিফায়েড ল্যান্ড জিআইএস’ এমনভাবে তৈরি করা হবে যাতে সাধারণ মানুষ ও সরকারি আধিকারিক—দু’পক্ষই সহজে ব্যবহার করতে পারেন। ওয়েব প্ল্যাটফর্মের পাশাপাশি মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমেও জমির মানচিত্র দেখা, স্পেশাল কোয়েরি করা এবং জিআইএস-ভিত্তিক রিপোর্ট তৈরি করা সম্ভব হবে। এর ফলে দৈনন্দিন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় কমবে এবং তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ আরও সহজ হবে। প্রশাসনিক সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, এই উদ্যোগ রাজ্যের ভূমি শাসন ব্যবস্থাকে আধুনিক করার বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ। একীভূত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু হলে ভূমি ও রাজস্ব দফতরের কাজের গতি বাড়বে, হাতে-কলমে কাজের উপর নির্ভরতা কমবে এবং বিভিন্ন শাখার মধ্যে সমন্বয় আরও মজবুত হবে।

নতুন অ্যাপটি এমনভাবে নকশা করা হবে যাতে বর্তমান দফতরগুলির বিদ্যমান ডেটাবেস ও ওয়ার্কফ্লোর সঙ্গে সহজেই যুক্ত করা যায়। ফলে নতুন ব্যবস্থায় রূপান্তরের সময় দফতরের স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা কম থাকবে বলেই দাবি প্রশাসনের। প্রকল্পটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে—প্রথমে অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট, তার পরে দীর্ঘমেয়াদি অপারেশন ও রক্ষণাবেক্ষণ। প্রশাসনিক মহলের মতে, এই প্রকল্পকে এককালীন প্রযুক্তি আপগ্রেড হিসেবে নয়, বরং রাজ্যের স্থায়ী ডিজিটাল পরিকাঠামো হিসেবে গড়ে তোলাই লক্ষ্য। পুরোপুরি চালু হলে জমি সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া আরও সহজ হবে, তথ্যের অমিল থেকে উদ্ভূত বিরোধ কমবে এবং রাজ্যের ভূমি রেকর্ড ব্যবস্থার উপর সাধারণ মানুষের আস্থা আরও দৃঢ় হবে বলেই আশা নবান্নের।

আরও পড়ুন- SIR ঘিরে বিতর্ক! প্রবীণদের হয়রানির অভিযোগে কমিশন-বিজেপিকে তোপ কুণালের

_

 

_

 

_

 

_

 

_

 

_

spot_img

Related articles

শনিতে প্রকাশ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা: কীভাবে দেখবেন নাম?

সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) নির্দেশ অনুযায়ী ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করতে চলেছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission)।...

তফশিলি অধ্যুষিত এলাকায় স্মার্ট ক্লাসরুম চালু রাজ্যের

তফশিলি জাতি (SC Development) অধ্যুষিত এলাকায় ডিজিটাল শিক্ষার পরিকাঠামো শক্তিশালী করতে রাজ্য সরকার ১১টি জেলার ৩৫৮টি সরকারি ও...

শুক্রবার দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলার পোস্ট অফিসে বোমা হুমকি!

জেলায় জেলায় বোমা হুমকি, বৃহস্পতিবারের পর শুক্রবার সকালে হাওড়া-বাঁকুড়া-আসানসোল- কাটোয়ার পোস্ট অফিসে জিহাদের ঘোষণা করে বোমা হুমকি ইমেইল...

শিশুকন্যাকে কটূক্তি! ট্রোল করা নেট নাগরিকদের কড়া ভাষায় শিষ্টাচার-শালীনতার পাঠ পড়ালেন সম্রাজ্ঞী

নিজেদের পোস্ট নিয়ে কটাক্ষর পরে এবার স্যোশাল মিডিয়ায় নিকটজনের ছবি পোস্ট করেও ট্রোলের শিকার হচ্ছেন সেলেবরা। এর জেরে...