Thursday, January 8, 2026

ট্রেন্ডিং কনটেন্টে ভাইরাল নয়, জনপ্রিয় ভ্লগার সিদ্ধেশের রিলে জীবনের বাস্তবতা 

Date:

Share post:

সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মে বেড়ে চলেছে কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের সংখ্যা। রুজিরুটির বিকল্প পথ হয়ে দাঁড়িয়েছে এই উপায়। কিন্তু শুধুমাত্র চলতি ট্রেন্ডে গা ভাসিয়ে ভাইরাল খবর করার মধ্যে নিজেদের সাফল্য খুঁজে নেওয়া মানসিকতার বাইরে যে কটা নাম ঘোরাফেরা করে, তাঁদের মধ্যে উজ্জ্বল সিদ্ধেশ লোকারে (Siddhesh Lokare)। জীবনের বাস্তবতার গল্পকে নিজের স্টাইলে সবার সামনে তুলে ধরা এবং শুধু মুখে পরিবর্তনের কথা না বলে, তা কাজে করে দেখানোর কারণেই এই মুহূর্তে নেটপ্রভাবীদের তালিকায় সিদ্ধেশের নাম একেবারে উপরের দিকে। কিন্তু জনপ্রিয় ভ্লগারের নিজের জীবনটা মোটেই সহজ ছিল না। নিজের সব না পাওয়াকে কঠোর অধ্যাবসায় পরিশ্রম দিয়ে সফলতায় রূপান্তরিত করার স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি, যা বাস্তবায়িত করার স্পর্ধাকে আক্ষরিক অর্থেই সম্ভাবনাময় করে তুলেছেন সকলের জন্য।

মুম্বই নিবাসী সিদ্ধেশ্বর জীবনের গল্পে বারবার পরীক্ষায় বসতে হয়েছে তাঁকে। কখনও বাস্তবতা ধাক্কা মেরেছে, কখনও এতটাই আঘাত করেছে যে ভেতর থেকে ভেঙে পড়ার মতো অবস্থা তৈরি হয়েছে। কিন্তু ‘রিলস্টার’ নিজের লক্ষ্যে অবিচল থেকেছেন। বাবা সবজি বিক্রি করতেন মা ছিলেন সামান্য একজন ক্লার্ক, কিন্তু আজ তাঁদের ছেলে হাজার হাজার মানুষের জীবন বদলে দিচ্ছে। এমবিএ করার পর নিজের টেক স্টার্ট আপ শুরু করেন সিদ্ধেশ। শৈশব-কৈশোর কেটে ছিল একটা ছোট্ট ঘরে যেখানে প্রায় কুড়িজনের সঙ্গে ভাগাভাগি করে থাকতে হত। তাই নিজে টাকা রোজগার করে সবার আগে বাবা-মার জন্য একটা বাড়ি তৈরি করেন। কিন্তু তারপরই মনে উঁকি মারে এক ব্যাতিক্রমী ভাবনা যা বদলে দেয় জীবন। এত সাফল্যের অর্থ কি যদি না তা অন্যের জীবন বদলাতে পারে? সোশ্যাল মিডিয়ায় কনটেন্ট তৈরি করার কাজে মন দেন সিদ্ধেশ। একটা সময় হয়তো মানুষকে হাসানোর জন্য এমন কর্মকাণ্ড করেন যা আপাতদৃষ্টিতে তাকে ভাইরাল করে তোলে। কিন্তু তিনি চেয়েছিলেন হৃদয় ছোঁয়ার গল্প বলতে। অসহায়ের পাশে গিয়ে দাঁড়াতে। শিশুদের শিক্ষার ব্যবস্থা করতে মহিলাদের স্বাবলম্বী করে তুলতে। সেই কারণে একটি এনজিও (NGO) গড়ে তোলেন তিনি। যোগ দেন আরও অনেকে। নিজের অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস চালু করার পাশাপাশি একটা গোটা গ্রাম দত্তক নিয়েছেন। কাঁধে তুলে নিয়েছেন তাদের ভালো থাকার দায়িত্ব।

কখনও ক্যামেরা নিয়ে সূর্যোদয়ের দৃশ্য তুলে ধরতে ছুটে যান নির্দ্বিধায়, আবার কখনও শিশুশিক্ষার জন্য ক্রাউডফান্ডিং ক্যাম্পেইন তৈরি করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। আসলে ভাইরাল ট্রেন্ড নিয়ে কাজ করতে তিনি নেট প্রভাবী হয়ে ওঠেননি, তাঁর লক্ষ্য অন্যকে ভালো রাখা। তাই সর্বদা পজিটিভ চিন্তাভাবনার জাগরণের উপায় খুঁজে বের করতে ব্যস্ত থাকেন সিদ্ধেশ। সম্প্রতি তাঁর একটা মিশন সকলের মন জয় করেছে। ৩০ দিনে ৩ কোটি জোগাড় যা দিয়ে ৩০ টা স্কুলকে সাহায্য করা যাবে। এটা কোন সংখ্যার গল্প নয় এটা সেই বাস্তব ভাবনার নিদর্শন যা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে যায় কোন মানুষ কোথা থেকে নিজের যাত্রা শুরু করেছেন সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয় বরং কতদূর পর্যন্ত নিজেকে বিস্তৃত করতে পারছেন এবং সেটা কতজন মানুষের উপকারে লাগছে সেটাই আসল কথা।

spot_img

Related articles

এক দফাতেই রাজ্যে বিধানসভা ভোট? কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে আশ্বস্ত নির্বাচন কমিশন

রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে পর্যাপ্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন নিয়ে কোনও সমস্যা হবে না বলে আশ্বাস দিল নির্বাচন কমিশন।...

আউটরাম ঘাট থেকে মেলার সূচনা! বৃহস্পতিবার গঙ্গাসাগর মেলা ট্রানজিট পয়েন্টের উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী

পুণ্যার্থীদের সুবিধার্থে এ বারও সেজে উঠেছে গঙ্গাসাগর মেলার কলকাতা ট্রানজিট পয়েন্ট। প্রতিবছরের মতোই সশরীরে গঙ্গাসাগরে গিয়ে পুণ্যার্থীদের জন্য...

আইপিএলের আগেই বিয়ে? অর্জুন তেন্ডুলকরের বিয়ের দিনক্ষণ ঘিরে জল্পনা

কয়েক মাস আগে নীরবে বাগদান সেরেছিলেন অর্জুন তেন্ডুলকর। তারপর থেকেই কবে সানিয়া চন্দোকের সঙ্গে শচীনপুত্রের বিয়ে, তা নিয়ে...

“স্পনসরকে সরিয়ে আইএফএ-কে দুর্বল করার চেষ্টা”, সৌরভকে ধুয়ে দিলেন অনির্বাণ

নতুন বছরের শুরুতেই সরগরম কলকাতা ময়দান। বেটিং থেকে ম্যাচ ফিক্সিং একাধিক ইস্যুতে বিতর্ক ক্রমশ বাড়ছে। খোদ আইএফএ-র দুই...