কোচবিহারে বিগত কয়েকটি নির্বাচনে জিতেছে বিজেপি। এখনও ৯টি আসনের মধ্যে তিনটি আসনে তৃণমূল, ৬টিতে বিজেপি বিধায়ক রয়েছেন। ছাব্বিশের নির্বাচনে বিজেপিকে বিসর্জন দিয়ে কোচবিহারে (Coochbehar) ৯-০ করার ডাক দিলেন তৃণমূলের (TMC) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। মঙ্গলবার, রণসংকল্প যাত্রায় কোচবিহারে সভাতে হুঙ্কার দিয়ে অভিষেক বলেন, এটা প্রতিশোধের লড়াই।

এদিন প্রথমে মদনমোহন মন্দিরে পুজো দিয়ে কোচবিহারের রণসংকল্প জনসভায় আসেন অভিষেক। আর সেই মঞ্চ থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে একের পর এক তোপ দাগেন তৃণমূলের সেনাপতি। বলেন, “রক্ত গরম হয় না? বিজেপির নেতারা এত দিন যাঁরা কোচবিহারে ছিল, ২০২১ থেকে ২০২৬। ২০২১ সালে সাত জন বিধায়ককে জিতিয়েছিলেন। পরবর্তী কালে দিনহাটা উপনির্বাচনে তৃণমূল জেতে। আজ স্কোর কী? ৯টার মধ্যে তিনটি আসনে তৃণমূল, ছ’টি বিজেপি। বিজেপি-কে জেতাবেন, অধিকার থেকে বঞ্চিত থাকবেন। তৃণমূল যত দিন ছিল, সাধারণ মানুষের উপর চোখ তুলে তাকানোর দুঃসাহস দেখাননি বিজেপির নেতারা দিল্লি বা মধ্যপ্রদেশ থেকে।“

এর পরেই টার্গেট বেঁধে অভিষেক (Abhishek Banerjee) বলেন, “৯টার বিধানসভার মধ্যে ৬-৩ নয়, তৃণমূলের পক্ষে ৯-০ করতে হবে। সব আবর্জনা উপড়ে ফেলতে হবে। সাফ করতে হবে। তবেই এরা শিক্ষা পাবে। যাঁরা ভাষা জানেন না, মনীষীদের অপমান করেন, দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন, রবীন্দ্রনাথ সান্যাল, কবিগুরুর জন্মস্থান বলছেন শান্তিনিকেতন। সুকান্ত মজুমদার স্বামীজিকে বলছেন, অজ্ঞ বামপন্থী প্রোডাক্ট। এই শাহের নেতৃত্বে বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভেঙেছিল জল্লাদেরা। মা দুর্গার বংশ পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন করেন। তাঁদের কাছে হিন্দুত্ব শিখতে হবে? জগন্নাথ সরকার বলছে, বিজেপি ক্ষমতায় এলে ভারত-বাংলাদেশের কাঁটাতারের সীমানা থাকবে না। তারা নাকি উঠিয়ে দেবে। তারা নাকি সীমানা সুরক্ষিত করতে চায়।“
প্রাক্তন বিজেপি সাংসদকে কটাক্ষ করে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক “নিশীথ প্রামাণিক প্রাক্তন। বাকি যে ক’টা আছে, তাঁর মতোই প্রাক্তন করতে হবে। কি ঔদ্ধত্য, অহঙ্কার! পরিযায়ী সাংসদ। থাকতেন দিল্লিতে। মাঝে মাঝে এলে পালাতেন। আপনার রিপোর্ট কার্ড কোথায়? ১২ বছর সরকার ক্ষমতায়। এক-একটি বিধানসভায় কোচবিহারে ৯৮০ কোটি টাকা দিল্লির সরকার আটকে রেখেছে। এই টাকা ছিনিয়ে আনতে লড়তে হবে। মোদি মিটিং করে বলছেন, বাঁচতে চাই, বিজেপি চাই। বিজেপি রাজহংশীদের অভিমানে আঘাত দিয়ে কোচবিহারকে বিহারে পরিণত করতে চায়। আমরা কোচবিহার করে রাখতে চাই।“

চ্যালেঞ্জ জানিয়ে অভিষেক বলেন, “আসুন লড়াই করবেন? ১০-০ গোলে মাঠের বাইরে পাঠাব। গরিব যুবক পেটের দায়ে চিকেন প্যাটিস বিক্রি করছে বলে তাঁকে মারছে। ৭০টা আসন নিয়ে এ রকম করছে। কে কী বিক্রি করবে বিজেপির বাবারা ঠিক করবে? আমি কী দিয়ে ভাত খাব, ওরা ঠিক করবে? গীতার শ্লোক বলতে পারবে? হিন্দু, ইসলাম, খ্রিস্টান ধর্ম বিভআজনের কথা শেখায় না। অসমে ক্ষমতায় কে? তাদের কী এক্তিয়ার আছে, এখানকার রাজবংশী ভাইদের এনআরসি নোটিশ পাঠাচ্ছে? অসমের মুখ্যমন্ত্রী বলছে, বাংলায় কথা বললে জেলে ঢোকাও।“
আরও খবর: খসড়া তালিকায় ‘মৃত’! ১০ ‘ভূত’কে কোচবিহারের সভামঞ্চে আনলেন অভিষেক, মোক্ষম খোঁচা কমিশনকে

জেতার পরে বিজেপি কোনও প্রতিশ্রুতি রাখেনি বলে অভিযোগ তুলে অভিষেক বলেন, “২০১৪, ২০১৬, ২০১৯, ২০২১, ২০২৪— বিজেপির নেতারা সভা সমিতি করতে এসে প্রধানমন্ত্রী-সহ বিজেপির বড় নেতারা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, নারায়ণী ব্যাটেলিয়ন, চিলা রায়ের নামে প্যারামিলিটারি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, পঞ্চানন বর্মার নামে লাইব্রেরি, মদনমোহন মন্দিরকে আন্তর্জাতিক মন্দির হিসাবে ঘোষণা করা। কোচবিহার রেল স্টেশনে ২০২১ সালে স্পোর্টস হাব করবে বলে শিলান্যাস করেছিল। শ্যাওলা পড়েছে। বলা হয় আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর হবে। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি ৯ আসনের বিমান চলছিল। আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে তা-ও বন্ধ হতে চলেছে।“

অভিষেক কথায়, “নরেন্দ্র মোদি-অমিত শাহের সরকার শুধু আমাদের জল, কল, রাস্তার টাকা কেড়ে নেয়নি, আমাদের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চেয়েছে। আগামীর লড়াই এঁদের বিসর্জন দেওয়ার লড়াই।“

–

–

–


