Monday, May 18, 2026

আর শুধু ট্রানজিট পয়েন্ট নয়, মহাকাল মন্দির ঘিরে উন্নয়ন শিলিগুড়ির: শিলান্যাসে দাবি মুখ্যমন্ত্রীর

Date:

Share post:

কথা দিলে কথা রাখেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জনগণের পরিষেবা থেকে বিনোদনে বারবার তা প্রমাণিত। পর্যটন ও মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি রক্ষাতেও তিনি সমানভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তার প্রমাণ তিনি দিয়েছেন দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের ক্ষেত্রে। এবার সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষার পালা শিলিগুড়ির (Siliguri) ক্ষেত্রে। মহাকাল মহাতীর্থ (Mahakal Mahatirtha) মন্দিরের শিলান্যাসের (foundation stone laying) মধ্যে দিয়ে সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করলেন তিনি।

শিলিগুড়ির মাটিগাড়ার লক্ষ্মী টাউনশিপ এলাকায় ১৭.৪১ একর জমির উপর যে মন্দিরের শিলান্যাস শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী করলেন সেখানে ১ লক্ষ পুণ্যার্থী একসঙ্গে প্রবেশ করতে পারবেন বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, এটি পর্যটন শিল্পকে ভীষণভাবে আকর্ষণ করবে। বাংলার শিল্প সংস্কৃতি, দেশের শিল্প সংস্কৃতি, আন্তর্জাতিক শিল্প সংস্কৃতি। বাংলাকে এক নম্বর করব। পাহাড়ের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের সঙ্গে সমতলের গভীর বন্ধন আরও বেশি সংঘবদ্ধ হবে ও সুন্দর হবে।

যেভাবে এই মন্দিরকে কেন্দ্র করে শিলিগুড়ির পর্যটন শিল্প নতুন দিশা দেখবে তা তুলে ধরতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, এখানে আন্তর্জাতিক মানের কনভেনশন সেন্টার হচ্ছে। এই অঞ্চলকে আমরা গ্লোবাল ট্যুরিজম হাব হিসাবে গড়ে তুলব। ধর্মীয় পর্যটন (religious tourism) ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য চর্চার আরও একটি প্রধান কেন্দ্র হিসাবে এখানে গড়ে উঠবে। শিলিগুড়ি (Siliguri) শুধু প্রধান ট্রানসিট কেন্দ্র (transit point) হিসাবে নয়, ধর্ম-তীর্থ-পর্যটন-ব্যবসা সবকিছুকে ব্যবহার করবে। সারাবছর ধরে স্থানীয় শিল্পী ও কারিগররা কাজ পাবেন। অনেক দোকানপাট তৈরি হবে। অনেক কর্মসংস্থান হবে। অনেক লোকালয়, হোটেল বাড়বে। বাণিজ্যে বসতে লক্ষ্মী-র মর্যাদা আপনারা পাবেন।

আরও পড়ুন : কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল! শুভেচ্ছা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী

মন্দিরের বর্ণনা করতে মুখ্যমন্ত্রী তুলে ধরেন, ১০৮ ফুট উঁচু পেডেস্টাল ব্লকের উপর থাকবে দোতলা মহাকাল মিউজিয়াম ও সংস্কৃতি হল। দুটি নন্দীগৃহ থাকবে, পূর্ব ও পশ্চিমে। মন্দির চত্বরের সীমানা বরাবর ১২টি অভিষেক লিঙ্গ মন্দির। ভারতের ১২টি জ্যোতির্লিঙ্গের প্রতিরূপ থাকবে। দুটি প্রদক্ষিণ পথ থাকবে, যেখানে ১০ হাজার মানুষ প্রদক্ষিণ করতে পারবেন। চার কোণে চার দেবতা – দক্ষিণ-পশ্চিমে গণেশ, উত্তর-পশ্চিমে কার্তিক, উত্তর-পূর্ব শক্তি ও দক্ষিণ-পূর্বে নারায়ণ অধিষ্ঠান করবেন। দুদিকে দুটি সভামণ্ডপ, ৬ হাজারের বেশি মানুষ একসঙ্গে বসতে পারবেন সেখানে। রুদ্রাক্ষ কুণ্ড ও অমৃত কুণ্ড থাকবে, যেখান থেকে পবিত্র অভিষেকের জল নিতে পারবেন পুণ্যার্থীরা। এছাড়াও প্রসাদ বিতরণ কেন্দ্র, স্যুভেনির বিতরণ কেন্দ্র, ক্যাফেটেরিয়া, ডালা আর্কেড, পুরোহিতদের বাসস্থানের ব্যবস্থা এই চত্বরেই থাকবে।

Related articles

FIR খারিজের আবেদন জানিয়ে হাই কোর্টের দ্বারস্থ অভিষেক

ভোট প্রচারে উসকানিমূলক মন্তব্য করার অভিযোগে বিধাননগর পুলিশের সাইবার ক্রাইম শাখায় হওয়া এফআইআরের খারিজের আবেদন জানিয়ে কলকাতা হাই...

দেবজ্যোতি মিশ্রের ‘আলোপাখির গান’, চাঁদের হাট জিডি বিড়লা সভাঘরে

সুরের কোনো সীমানা হয় না। দেশকাল ও ভাষার গণ্ডি পেরিয়ে সুরই মানুষকে এক সুতোয় বেঁধে রাখে। বাংলা তথা...

সংখ্যালঘু ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে নেদারল্যান্ডসের কটাক্ষ, কড়া জবাব ভারতের

ভারতের গণতান্ত্রিক পরিকাঠামো, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সংখ্যালঘু অধিকার নিয়ে ডাচ প্রধানমন্ত্রী রব জেটেন যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন, তার...

কোর্টের লড়াইয়ে স্বস্তি বিসিসিআই, জ্বালানি সংকটের মধ্যেও চলবে আইপিএল?

মাঠের বাইরে কোর্টের লড়াইয়ে বড় জয় বিসিসিআই(BCCI)। আরটিআইয়ের (RTI) আওতায় পড়বে না ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। ৮ বছর ধরে...