ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দিতে যথেচ্ছ ফর্ম-৭ জমা দিচ্ছে বিজেপির স্থানীয় নেতারা। নির্বাচন কমিশন বিরোধী দলনেতার এক একটি চিঠির পরেই সেই চিঠি অনুযায়ী নির্দেশিকা বদলাচ্ছে। বিজেপি যে কমিশনকে (Election Commission) তাদের নতুন অস্ত্র হিসাবে বাংলা দখলের জন্য ব্যবহার করছে তা আগেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। এবার প্রকাশ্যে এলো স্থানীয় স্তরের বিজেপির এক নেতার চিঠি, যেখানে ভোটার তালিকায় (voter list) নাম তুলতে সুপারিশ করছেন তিনি। এই চিঠি যদি সত্য (চিঠির সত্যতা বিশ্ববাংলা সংবাদ যাচাই করেনি) হয়, তবে চক্রান্ত আবার প্রমাণিত হবে, দাবি তৃণমূলের।

বিজপির সেই চিঠি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছে তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ। একইসঙ্গে চিঠি নিয়ে বিজেপিকে তোপ দেগেছেন তিনি। চিঠি লিখেছেন উত্তর ২৪ পরগণার বসিরহাটের মণ্ডল সভাপতি। চিঠিতে রয়েছে, “ভারতীয় জনতা পার্টি বসিরহাট দক্ষিণ মণ্ডল-৩ এর পক্ষ থেকে জানাচ্ছি যে গত ০৪/১২/২৫ তারিখে যে, ২৭৪ নং বুথে S/L No ৫৪৩ আবদুল সর্দার মণ্ডল ও ২৭৪ নং বুথে S/L No.৪৮৪ রুহুল আসিন মণ্ডল পিতা রহিম মণ্ডলের নাম জমা দেওয়া হয়েছিল। তা আমরা ভুলবশত জমা করি। পরে আমরা সরেজমিনে তদন্ত করে জানতে পারি যে এই দুই ব্যক্তি স্থায়ী ভারতীয় নাগরিক। অতএব মাননীয় মহাশয় উক্ত ব্যক্তির নাম যাহাতে ভোটার লিস্টে ওঠে (নতুন) তাহার বিহিত ব্যবস্থা গ্রহণ করে আমাদের বাধিত করিবেন।” চিঠির নীচে মণ্ডল সভাপতি (বিজেপির বসিরহাট দক্ষিণ মণ্ডল-৩) রনজিত দাসের স্বাক্ষরও রয়েছে।

অর্থাৎ এসআইআর-এর (SIR) খসড়া ভোটার (draft voter list) তালিকা তৈরির সময় বিজেপির নির্দেশে ওই ব্যক্তির নাম বাদ পড়েছিল। সেটাই প্রমাণিত হচ্ছে চিঠি থেকে। এমনকি সেই নাম আবার তুলতেও বিডিও-কে জানাচ্ছেন বিজেপির নেতা। দলীয় প্যাডে চিঠি লিখে সরকারি আধিকারিককে নির্দেশ দিচ্ছেন, কোনও নির্বাচন কমিশনের ফর্ম-৬ বা ফর্ম-৮-এর ধার ধারছে না বিজেপি।
আরও পড়ুন : মোদির সফরের আগেই মালদহে SIR-মৃত্যু: শুনানি আতঙ্কে মৃত আরও ২

এই চিঠির সত্যতা খতিয়ে দেখার দাবি করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। চিঠি সত্য হলে চক্রান্ত আবারও প্রমাণ হয়ে যাবে। ঠিক এভাবেই বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশন রাজ্যে বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে। বিজেপি নির্বাচন কমিশনকে কার্যত একটি দলীয় কার্যালয়ে পরিণত করেছে। প্রথমে ম্যাপিং, পরে ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি’-একের পর এক কৌশল নেওয়া হচ্ছে।

এসব কী!
বিজেপি অফিস থেকে নাম বাদ, স্ক্রুটিনির নাম জমা পড়ছে। সেই অনুযায়ী কাজ করছে কমিশন। পরে ধরা পড়লে চাপের মুখে দুএকটা সংশোধন!
এই চিঠির সত্যতা খতিয়ে দেখা হোক। চিঠি সত্য হলে চক্রান্ত আবারও প্রমাণ হয়ে যাবে। pic.twitter.com/qPgLXnR1T5— Kunal Ghosh (@KunalGhoshAgain) January 17, 2026
–

–

–

–



