অবিজেপি রাজ্যে সরকারের সঙ্গে সংঘাতে জড়াচ্ছেন কেন্দ্রের বিজেপি (BJP) সরকার মনোনীত রাজ্যপালরা (Governor)। বাংলায় ভুরি ভুরি উদাহরণ রয়েছে। তামিলনাড়ুর পরে এবার কর্নাটকেও (Karnataka) রাজ্য সরকারের সঙ্গে সংঘাতে ভাষণ অসমাপ্ত রেখে বিধানসভার অধিবেশন ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন রাজ্যপাল থাওয়ারচাঁদ গেহলট (Thawar Chand Gehlot)। বৃহস্পতিবার, সেই রাজ্যের বিধানসভায় একটি যৌথ অধিবেশনের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে রাজ্যের সঙ্গে চরম সংঘাতে ভাষণের শেষের অংশ শুধু পড়ে পড়ে বিধানসভা ছাড়েন রাজ্যপাল।

কারণ কী?
সম্প্রতি মনরেগা প্রকল্পের থেকে মহাত্মা গান্ধীর নাম সরিয়ে নয়া প্রকল্প করেছে কেন্দ্র, নাম জিরামজি। এর বিরোধিতা করেছে অবিজেপি দলগুলি। কিন্তু তাতে কর্ণপাত না করে, সংখ্যার জোরে নাম পাশ করিয়েছে মোদি সরকার। কংগ্রেসশাসিত কর্নাটকে (Karnataka) রাজ্যপালকে দেওয়া সংশ্লিষ্ট ভাষণে রাজ্য সরকার জিরামজি আইনের তীব্র সমালোচনা করে। যৌথ অধিবেশনের প্রথম দিন রাজ্য়পালের বক্তৃতা দিয়ে অধিবেশন শুরু হওয়ার প্রথা। সেই মতো পোডিয়ামে গিয়ে দাঁড়ান রাজ্যপাল গেহলট। তাঁর জন্য লিখে দেওয়া বক্তৃতা দেয় রাজ্য সরকার। কিন্তু সংশ্লিষ্ট ভাষণের ১১টি অনুচ্ছেদ নিয়ে আপত্তি তোলেন রাজ্যপাল। ওই অংশ পড়তে না চেয়ে লিখিত ভাষণের শেষ অংশটুকু পড়ে অধিবেশন ছেড়ে বেরিয়ে যান গেহলট। বলেন, “আমাদের সরকার রাজ্যের আর্থিক ও সামাজিক উন্নয়নের স্বার্থে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। জয় হিন্দ, জয় কর্নাটক।“

সংবিধান অনুযায়ী, নতুন সরকার গঠিত হলে বা সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখতে প্রতি বছর যৌথ অধিবেশন করেন রাজ্যপাল। সেই রীতি মেনেই বৃহস্পতিবার এই অধিবেশন আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু সেই অধিবেশন ছেড়ে বেরিয়ে যান রাজ্যপাল। এই ঘটনায় সরব কংগ্রেস। একে সংবিধানের অবমাননা ও অপমান বলে অভিযোগ করে কর্নাটকের শাসকদল। রাজ্যের মুখ্য়মন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া কটক্ষ করে বলেন, “এই অধিবেশনগুলিতে উনি নিজের তৈরি ভাষণ দিতে পারবেন না। মন্ত্রিসভা যা তৈরি করবে, সেটাই পড়তে হবে। অথচ শেষের অংশটুকু পড়েই উনি বেরিয়ে গেলেন। এটা সাংবিধানিক নিয়ম ভাঙার সমান।“ মত সিদ্দারামাইয়ার।
আরও খবর: লক্ষাধিক নেতা-কর্মীদের নিয়ে শনিবার ভার্চুয়াল বৈঠক অভিষেকের

রাজ্যপালের পদ রাখা বা রাজভবনের যৌক্তিকতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে মোদি সরকারের আমলে অবিজেপি রাজ্যে রাজ্যপালদের বিরুদ্ধে সমান্তরাল সরকার চালানোর চেষ্টার অভিযোগ উঠছে। আর এতে যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামোর আঘাতের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)-সহ অন্যান্য অবিজেপি মুখ্যমন্ত্রীরা। কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রীও সেই রাজ্যের রাজ্যপালের বিরুদ্ধে সাংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ তুললেন।

–

–

–

–

–

–


