নবান্নের একেবারে দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারবেন কি বিজেপি বিধায়করা? বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর করা এই মামলার শুনানি শেষ হলেও মঙ্গলবার রায়দান স্থগিত রাখল কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের ডিভিশন বেঞ্চ। ফলে নবান্নের সামনে বিজেপির ধরনা কর্মসূচি ঘিরে আইনি জট এখনই কাটল না।

কেন্দ্রীয় এজেন্সির তদন্তে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হস্তক্ষেপ করছেন এবং বাধা দিচ্ছেন— এই অভিযোগে নবান্নের সামনে অবস্থানে বসতে চান শুভেন্দু অধিকারী। এর আগে বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের সিঙ্গল বেঞ্চ নবান্নের সামনে কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি। পরিবর্তে নবান্ন থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে মন্দিরতলা বাসস্ট্যান্ডে নির্দিষ্ট কিছু শর্তসাপেক্ষে ধরনা দেওয়ার অনুমতি দিয়েছিল আদালত। সেই রায়ে বলা হয়েছিল, নবান্ন উচ্চ-নিরাপত্তা বলয় হওয়ায় সেখানে পুলিশি নিষেধাজ্ঞা সঙ্গত। সিঙ্গল বেঞ্চের ওই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েই ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয় বিজেপি।

বিজেপির দাবি, তারা মন্দিরতলা নয়, সরাসরি নবান্নের গেটের সামনেই প্রতিবাদ জানাতে চায়। এ দিন ডিভিশন বেঞ্চে মামলার শুনানিতে দু’পক্ষের সওয়াল-জবাব শেষ হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে নবান্ন চত্বরের নিরাপত্তা এবং যান চলাচলের সমস্যার কথা পুনরায় উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে, বিজেপির আইনজীবীরা রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের মৌলিক অধিকারের পক্ষে সওয়াল করেন।

উল্লেখ্য, এর আগে সিঙ্গল বেঞ্চ বিজেপিকে ধরনার জন্য একাধিক শর্ত দিয়েছিল। জানানো হয়েছিল, কর্মসূচিতে সর্বাধিক ৫০ জন বিধায়ক থাকতে পারবেন। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান চালানো যাবে, তবে কোনোভাবেই মাইক্রোফোন ব্যবহার করা যাবে না। সাধারণ মানুষের চলাচলে বিঘ্ন ঘটানো বা উসকানিমূলক মন্তব্য করার ওপরেও নিষেধাজ্ঞা ছিল। এখন দেখার, সিঙ্গল বেঞ্চের সেই শর্তগুলিই বহাল থাকে নাকি ডিভিশন বেঞ্চ শুভেন্দুদের নবান্নের আরও কাছে যাওয়ার অনুমতি দেয়।

আরও পড়ুন- সংশোধনাগারে অতিরিক্ত বন্দি নিয়ে প্রশ্ন হাই কোর্টের! রাজ্যের কাছে রিপোর্ট তলব

_

_

_

_

_
_


