তিরুপতির লাড্ডুর ঘি (Ghee Controversy) বিতর্কে ২০১৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত উত্তাল হয়েছিল সারা দক্ষিণ ভারত। মন্দিরের (Tirupati laddu) প্রসাদী লাড্ডু তৈরি করার জন্য ২৫০ কোটি টাকা দিয়ে মোট ৬৮ লক্ষ কেজি ঘি কেনা হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ উঠেছিল সেই ঘিতে মেশানো হয়েছে গরু অথবা শূকরের চর্বি। আসলে কী ব্যবহার করা হয়েছে তা জানতে তদন্তের ভার দেওয়া হয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারি সংস্থা সিবিআইকে (CBI)।

শুক্রবার ১৫ মাস ধরে চলা সেই তদন্তের রিপোর্ট নেল্লোরের অ্যান্টি-করাপশন ব্যুরো আদালতে পেশ করেছে তদন্তকারী দল। তাতে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, লাড্ডু তৈরিতে ব্যবহার করা ঘি আসলে ভেজাল। এতে কোনও গরু বা শূকরের চর্বি মেশানো হয়নি। এই ঘি তৈরি করতে উদ্ভিজ্জ তেল ও কৃত্রিম রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করা হয়েছিল। এতে মেশানো হয়েছিল পাম অয়েল, পাম কার্নেল অয়েল ও পামোলিনের সঙ্গে বিশেষ অ্যাসিটিক অ্যাসিড এস্টার মিশিয়ে ঘি-এর Reichert-Meissl (RM) ভ্যালু কৃত্রিমভাবে বাড়ানো হয়েছিল, যাতে পরীক্ষায় খাঁটি ঘি বলে ধরা পড়ে। ন্যাশনাল ডেয়ারি ডেভেলপমেন্ট বোর্ড (এনডিডিবি)-এর তথ্য অনুযায়ী ওই ভেজাল ঘি পরীক্ষাগারে বিশ্লেষণ করে দেখা গিয়েছে, এর গুণমান সূচক বা এস-ভ্যালু ১৯.৭২, যেখানে এর ন্যূনতম মান হওয়া উচিত ৯৮। আরও পড়ুন: “বন্ধু চল”: বন্ধুদের ডাকেই মিরাকল! সহপাঠীদের ডাকে ৫৫ দিন পর কোমা থেকে ফিরল প্রাণ

চার্জশিটে মোট ৩৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে। মূল অভিযুক্তদের মধ্যে আছেন তিরুমালা তিরুপতি দেবস্থানমের (TTD) প্রাক্তন জেনারেল ম্যানেজার (প্রোকিউরমেন্ট) আরএসএসভিআর সুব্রহ্মণ্যম। এছাড়াও, উত্তরাখণ্ডের ‘ভোলেবাবা অর্গানিক ডেয়ারি’ নামের একটি সংস্থা কার্যত দুধ বা মাখন উৎপাদন না করেই বিপুল পরিমাণ কৃত্রিম ঘি সরবরাহ করেছিল। যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২৫০ কোটি টাকা। তিন বছরে প্রায় ৮০ শতাংশ রাসায়নিক ঘি সরবরাহ করা হয়েছিল। যা দিয়ে তৈরি হতো মন্দিরের প্রসাদের লাড্ডু।

প্রসঙ্গত এই তিরুপতির লাড্ডু বিতর্ক শুরু হয় ২০২৪ সালে। সে বছর অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী তথা তেলুগু দেশম পার্টি (টিডিপি)-র প্রধান চন্দ্রবাবু নায়ডু অভিযোগ করেন, জগন্মোহন রেড্ডির সরকারের আমলে তিরুমালার প্রসাদী লাড্ডু বানানোর সময় ব্যবহৃত ঘি-র সঙ্গে পশুর চর্বি মেশানো হত। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সে সব অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করে সিবিআই।

–

–

–

–

–

–


